বর্ণিল সাজে সজ্জিত দত্তবাড়ী সাগরদাঁড়ীতে মধুমেলা শুরু কাল


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২০, ২০১৭ ||

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: দাঁড়াও পথিক বর জন্ম যদি তব! বঙ্গে তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধী স্থলে (জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি বিরাম) মহীর পদে মহা নিদ্রাবৃত দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রী মধুসুদন! যশোরের সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ তীরে জন্মভূমি, জন্মদাতা দত্ত মহামতি রাজনারায়ণ নামে জননী জাহ্নবী ‎! যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ীতে ২১ জানুয়ারী শুরু হতে যাচ্ছে মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ১৯৩তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ৭দিনব্যাপী মধু উৎসব মধুমেলা। মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ১৯৩ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আজ ২১জানুয়ারী সেই মাহেন্দ্রক্ষণ মধুমেলার উদ্বোধন। কবির জন্মজয়ন্তী ও মধুমেলা উদযাপনের জন্য আয়োজক কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মধুপল্ল¬ী আজ বর্ণিল সাজে সেজেছে। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলা সাহিত্যের কাল জয়ী মহাপুরুষ যুগশ্রেষ্ঠ অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের জন্ম স্থান মাতৃভূমি পিতৃভূমি সাগরদাঁড়ী মধুপল্ল¬ীর প্রতিটি স্থান রং তুলির আঁচড়ে পর্যাটকদের জন্য আকর্ষণীয় মোহনীয় হয়ে উঠেছে। ২৫ জানুয়ারী কবির জন্ম দিন হলেও এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবার মেলা আয়োজক কমিটি ২১ জানুয়ারী থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই মেলা ২১ জানুয়ারী শুরু হয়ে চলবে ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত।

এবার মেলায় থাকবে যাত্রা, সার্কাস, যাদুপ্রদর্শনী কৌতুক  কৃষিমেলা, এবং  প্রসাধনীসহ  বিভিন্ন পণ্যের স্টল। এ ছাড়া ৭দিন ব্যাপী মধুমেলার মধু মঞ্চে প্রতিদিন থাকবে নাটক, যাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২১জানুয়ারী শনিবার সন্ধায় কবির জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসাবে ৭দিন ব্যাপী মধু মেলার উদ্বোধন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি। এবং ২৬ জানুয়ারী সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বলে মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবির এক মত বিনিময় সভায় নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবার মেলায় বিদেশী পর্যাটক সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মধুপ্রেমী এখানে এসে ভীড় জমাবেন বলে আসা করছেন মেলা কমিটি। ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দে ২৫ জানুয়রি মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী গ্রামে কপোতাক্ষ তীরে বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা জমিদার ও আইনজীবি রাজনারায়ণ দত্ত, মাতা জাহ্ণবী দেবী। মধুসূদন শৈশবে শিক্ষক হরলাল রায় ও সাগরদাঁড়ী শেখপুরা গ্রামের মৌলভী খন্দকার মখমল আহম্মেদের কাছে বাংলা ও ফারসি শিক্ষা লাভ করেন। সগরদাড়ীতে শৈশব কটিয়ে তিনি তার জন্মের ১০বছর পর কলকাতার খিদিরপুরে  চলে যান সেখানে বিভিন্ন ভাষায় জ্ঞানার্জন করেন। ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আবার তার জন্ম ভূমি সাগরদাড়ীতে ফিরে আসেন। এরই মধ্যে তিনি মহাকাব্য মেঘনাথ বধ, ব্রজঙ্গনা, বীরঙ্গনা ও তিলোতমা সম্ভব রচনা করেন। ১৮৭৩ খ্রীষ্টাব্দে ২৯ জুন কলকাতায় এই বরেণ্য কবি মৃত বরন করেন।