জেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমন হত্যাকান্ডের পাঁচদিন চারটি লক্ষ্য নিয়ে পুলিশের তদন্ত মিশন অব্যহত!


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২০, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল হাসান ইমন হত্যার ৫দিন অতিবাহিত হয়েছে। দীর্ঘ ৫দিনের তদন্তে পুলিশের অগ্রগতি তেমনটি লক্ষ করা যাইনি।

এখনও পর্যন্ত পুলিশ ইমন হত্যাকান্ড নিয়ে অন্ধকারেই রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সাথে ব্যবসায়ীক লেনদেন, প্রেমঘটিত বিষয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং পারিবারিক অসন্তোসের ঘটনাকে সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত কার্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর কবীর কে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তবে ইমন হত্যাকা- নিয়ে পুলিশ এমুহুর্তে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে নারাজ।

এদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ হাসিবুল হাসান ইমন দু:স্কৃতিকারিদের হাতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়ার ৫দিন অতিবাহিত হলেও কাগজে কলমে দলের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া ছাড়া আর কোন কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখা যাইনি। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নিশ্চুপ অবস্থানকে নানামুখি প্রশ্নের উদ্রেক করছে সচেতন মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে। শহরবাসীর প্রশ্ন, ঘাতকরা কি দলীয় লেবাস পরে বসে আছে, না- অন্য কিছু?
অপরদিকে নিহত হাসিবুল হাসান ইমন হত্যাকা-ের পর তার পিতা মাতা ভাই বা পুলিশ বাদী হয়ে কোন মামলা করেনি। চাঞ্চল্যকর এই মামলার বাদী হয়েছেন নিহতের চাচা আলমগীর হাসান আলম। এটা নিয়েও রয়েছে যত কথা! ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা শহরের গণমাধ্যম কর্মীরা কি করছেন, কি আলোচনা হচ্ছে, কি লিখতে চান সেসব মোটিভ জানার জন্য বাদী পক্ষরা বেশ সচেষ্ট হয়ে আছেন।
তবে মামলার বাদী আলমগীর হাসান আলম জানিয়েছেন, শেখ হাসিবুল হাসান ইমনের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। খুব সত্ত্বরই অস্ট্রেলিয়ায় তার বিয়ের কথা ছিল। কনেও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ঘাতকরা তাকে হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, ইমন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছায় সাক্ষাতকারে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছিল। সাক্ষাতকারেও গিয়েছিল সে। তার বাসনা পুরণ হবার আগেই ঘাতকরা তাকে শেষ করে দিয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রের দাবী, নিহত ইমনের সাথে সুলতানপুর ঝিলপাড়ার দুই যুবক বিপ্লব ও শিমুলের সখ্য ছিল। বিপ্লবের মোটর সাইকেলে ইমনকে প্রায়ই ঘুরে বেড়াতে দেখা যেতো। ক’দিন আগেও বিপ্লব ও শিমুল সুলতানপুর ঝিলপাড়ায় ক্রিকেট খেলেছে। বিপ্লব ও শিমুল মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। এদের সাথে আরও এক যুবক মুম্বইতে অবস্থান করছে। সেসব বিষয় মাথায় রেখেই পুলিশি তদন্ত অব্যহত আছে।
চাঞ্চল্যকর ইমন হত্যাকা-ের পর থেকে পুলিশ এপর্যন্ত শহরের সুলতানপুরের হাফিজুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মুরাদ, সেলিমুর রহমানের ছেলে বখতিয়ার রহমান বিপ্লব ও রাজা মোল্যার ছেলে রেজাউল মোল্যা রনিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছে বৃহস্পতিবার। আগামীকাল রোববার ধৃতদের রিমা- শুনানির দিন ধার্য আছে। এ তিনজনকে রিমা-ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার রহস্য কিছুটা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ। তবে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা-ের মুল রহস্য উদঘাটনে ৪টি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত অব্যহত আছে বলে সূত্রগুলোর দাবী।
এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন ও সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন গতকাল রাতে গণমাধ্যমকে জানান, জেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমন হত্যাকা-ের পর কেন্দ্র থেকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ অব্যহত আছে। আমরাও পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সে ছিল দলের নিবেদিত প্রাণ। কোন প্রোগ্রামে তাকে ডাকা লাকতো না। খবর পেয়েই চলে আসতো। তার মত উদিওমান যুবক খুন হওয়াটা অত্যন্ত দু:খজনক। এরপরও পুলিশ আন্তরিকতার সাথে এই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দাবী করে বলেন, আগামী ২৪ জানুয়ারী পর্যন্ত আমরা দেখবো। এরপর পুলিশ ইমন হত্যাকা- নিয়ে নিশ্চিত ক্লু উদঘাটনে ব্যর্থ হলে ২৫ জানুয়ারী থেকে দলীয়ভাবে ইমন হত্যাকা-ের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আলমগীর কবীর জানান, পুলিশ অত্যন্ত সুক্ষভাবে এমামলার তদন্ত কার্য চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। এসেছে প্রযুক্তিগত প্রমানও। সেসব বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পুরোপুরি পেয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরবেশি তিনি আর কিছুই বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ হাসিবুল হাসান ইমনকে শহরের সুলতানপুরের বাড়ি থেকে ফোন করে দু:স্কৃতিকারিরা ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের একটি মাছের ঘেরে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ পূর্বক ১০দিনের রিমা- আবেদন করেছে। আগামীকাল রোববার শুনানি।