ইকুপমেন্ট ও জায়গা সংকটে বেনাপোলে বাড়ছে পন্য ও যানজট


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২০, ২০১৭ ||

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: দেশের বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে বাড়ছে আমদানি-রপ্তানি। ফলে জায়গা ও ইকুপমেন্ট সংকটের কারনে সৃষ্টি হচ্ছে পন্য এবং যানজট। মহা সড়ক ও বাইপাস সড়কে দিনভর থাকছে দীর্ঘ ট্রাকের সারি। যানজট কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসনের সদসরা। বন্দর ও টার্মিনালে ভয়াবহ পন্যজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মহা দুর্ভোগে পড়ছেন বন্দরবাসিসহ পথচারিরা। খোলা আকাশের নিচে রাখা হচ্ছে মালামাল। ব্যবসায়িরা হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারের রাজস্ব হ্রাসের আশংকা করছেন ব্যবসায়িসহ বন্দরবাসি। তবে বন্দর কর্মকর্তারা দেখেছেন আশার আলো।
সিএন্ডএফ ব্যবসায়ি-ফারুক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক হোসেন বলেন জায়গা ও ইকুপমেন্ট সংকটের কারনে বেনাপোল বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে পন্য এবং যানজট। সময় মতো খালাস ও পাঠানো যাচ্ছেনা গন্তব্যে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়িরা। এর সুরাহা চান তিনি।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে মুজিব-ইন্দিরা-চুক্তির পর বেনাপোল ও পেট্টাপোল স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে আমদানি রপ্তানি বানিজ্য। ২০০০ এর পাল্টে যায় বেনাপোলের দৃষ্যপট। গড়ে ওঠে একাধিক ট্যান্সশিপমেন্ট গোডাউন ও শেডইয়ার্ড। যুক্ত হয় আধুনিক ইকুপমেন্ট। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ শ’ ট্রাক পন্য আমদানি রপ্তানি হয় বন্দর দিয়ে। বাড়তে থাকে রপ্তানি। ৫বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে তিনগুন। তবে বন্দরে অব্যবস্থাপনা অনিয়ম দুর্নীতি ঘাপলাবাজিসহ জায়গা ও ইকুপমেন্ট সংকট দেখা দেওয়ায় আমদানি রপ্তানি বানিজ্যে দেখা দেয় বিরুপ প্রভাব। রাজস্ব আয় যায় কমে। যান ও পন্যজট যায় বেড়ে। সড়কে ও ট্রেন লাইনের পাশে রাখা হয় ট্রাক ও চ্যাচিস। তবে বন্দরের জমি একোয়ার ও উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য সৈয়েদ জায়দুল হক।
তিনি বলেন ওপারের কালিতলায় আমদানির অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকছে কয়েকশত পন্যবোঝায় ট্রাক। ডেমারেজ গুনতে হয় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের। সঠিক সময়ে ইন্ড্রাষ্টিয়াল পন্য না আসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক প্রতিষ্টান। এসবের সমাধানে বেনাপোল চেকপোষ্ট এলাকায় ২৪.৯৮একর জমি এক্য়োার করা হচ্ছে। দুই একর জমিতে একটি পুকুর, শতাধিক টয়লেট, ১৬ ট্রাক পন্য লোড আনলোড করতে পারে এমনি একটি আধুনিক মানের টার্মিনাল কাম ট্যান্সশিপমেন্ট নির্মাণ হতে যাচ্ছে। চলছে একাধিক উন্নয়ন কাজ। অচিরেই বন্দরের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন তিনি।
ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভার-অসিত মন্ডল ও জয়দেব পাল বলেন, বন্দর এলাকায় ট্রাক আটকে চাদা আদায় করায় বাড়ে যানজট। ঠিকাদার প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান বলেন, ম্যাকানিক না পাওয়ায় অনেক ইকুপমেন্ট থাকছে পড়ে ফলে পন্য লোড আনলোডে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ইকুপমেন্ট সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন তিনি।
মো. অব্দুল জলিল উপপরিচালক স্থলবন্দর বেনাপোল বলেন, বেনাপোল বন্দর গোডাউনের ধারণ ক্ষমতা ৪৮হাজার মে:টন। ব্যবসায়িদের কথা চিন্তা করেই ধারণ ক্ষমতা অতিরিক্ত পন্য রাখা হচ্ছে এখানে। গত ৬মাসে ধারণ ক্ষমতা অতিরিক্ত জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ১৪ লক্ষ ২৭ হাজার ২শ’ ২০ মে:টন মালামাল আমদানি হয়েছে। যা গত ডিসেম্বরে আমদানি হয় ৩ লাখ ১২ হাজার ৩২৭ মে:টন পন্য। জানুয়ারিতে বেড়েছে আরো পন্য আমদানি। প্রতিদিন বাড়ছে আমদানি। জমি একোয়ারসহ উন্নয়ন কাজে জোর দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলেই যান ও পন্যজট কমবে বাড়বে রাজস্ব আয় আশা করেন তিনি।