কালিগঞ্জের বাথুয়াডাঙ্গায় আরিজুল গুনীনের খপ্পরে পড়ে নি:স্ব হচ্ছে নিরীহ মানুষ!


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৪, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বাথুয়াডাঙ্গায় সহিংসতা মামলার জেল খাটা আসামি কথিত গুনীন আরিজুলের খপ্পড়ে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। এই ভন্ড গুনীন দীর্ঘদিন যাবত তার অপকর্ম নির্বিঘেœ চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও নজরে আসছে না বিষয়টি !

ভুক্তভোগীরা জানান, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে ১৫/১৬ বছর ধরে গাছড়া ওষুধ, তেলপড়া, ঝাড়-ফুক, তদবিরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নিরীহ সহজ-সরল মানুষের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আরিজুল গুনীন। আর তার এই অপকর্মের সহায়তা করে আসছে একই গ্রামের জুয়াড়ি নজির হোসেন এবং নারায়নপুর গ্রামের আফজাল হোসেন ওরফে মিঠু। ২৩ জানুয়ারী সোমবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে সরেজমিনে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নে বাথুয়াডাঙ্গা গ্রামের শাহমত আলীর ছেলে কথিত গুনীন ও কবিরাজ আরিজুলের আস্তাানায় যেয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় দেখা যায়। প্রতিদিন ফজরের আযানের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হতে তারা বিভিন্ন আশা নিয়ে এখানে হাজির হয়। হারানো টাকা, সোনার গহনা ও জিনিসপত্র উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য দুর, ক্যান্সার, আলসার, প্যারালাইসিস, পেট ব্যথা সহ বিভিন্ন জটিল রোগ সারানো, জীন-ভূত তাড়ানোসহ বিভিন্ন রোগের সমস্যা থাকে তাদের। এসব দুর করার এক সবজান্তা চিকিৎসক আরিজুল গুনীন !
রোগীরা জানান, গুনীনের কাছে এসে তার ভাই আব্দুর রউফের কাছ থেকে ১০ টাকা দিয়ে সিরিয়াল নিতে হয়। তারপর ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। সকাল ৯ টর পর গুনীন আংশিক মুখ ঢেকে চেম্বারে বসেন। রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য ৪/৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষ ১০/১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে তেলা পড়া,পানি পড়া, তদবির ও গাছড়া ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। শ্যামনগর থানার নকীপুর গ্রামের স্বপন কর্মকারের স্ত্রী অর্পনা রানী এসেছেন স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া মিটাতে। তার নিকট থেকে ১৫শ’ টাকা নিয়ে ১০০ গ্রামের একটি সরিষা তেলের শিশি দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার এসে ৩ হাজার টাকা দিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে জানান তিনি। নৈকাটি গ্রামের রুহুল আমিন এসেছেন তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে হার্টের রোগ নিরাময়ের জন্য। এজন্য তাকে তেল মালিশ এবং পানি পড়া বাবদ ৫ হাজার ৪ শত টাকা দিতে হয়েছে। তালা থানার দেব রায় এবং তার স্ত্রী দিপালি রায় এসেছেন হারিয়ে যাওয়া গহনা উদ্ধারের আশা নিয়ে। প্রথমবার তাকে ৪হাজার টাকা দিতে হয়েছে। গহনা ফেরত না পাওয়ায় আবার এসেছেন তারা। এখোনো সিরিয়িাল পাননি। খুলনা জেলার তেরখাদা থানার মোনায়ারা এসেছেন ধাতু ভাঙ্গা রোগ সারানোর জন্য। তার নিকট থেকে প্রথমবার ২হাজার ১শত টাকা নিয়ে একটি মাদুলি ও পানি পড়া দেয়া হয়েছে। এতে কাজ না হওয়ায় দ্বিতীয় বার তার নিকট থেকে ১হাজার টাকার বিনিময়ে একটি গাছড়া শিকড় দেয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার সমির রায় তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছে ক্যান্সার রোগ সারানোর জন্য। এই প্রথমবার তার নিকট থেকে ৮হাজার টাকা নিয়ে তেল পড়া এবং গাছের ওষুধ দেয়া হয়েছে। এর আগে ভারত থেকে চিকিৎসায় তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান। কালিগঞ্জ থানার ছনকা গ্রামের রাশিদা বেগম এসেছেন তার স্বামী আজিজুল ইসলামের প্যারালাইসিস রোগ সারানোর জন্য। এভাবে শতশত নারী-পুরুষ ভন্ড কবিরাজ ও কথিত গুনীন আরিজুলের আস্তানায় এসে বসে আছে। আর বাইরে আছে ওই গুনীনের সহযোগী নজির এবং মিঠু। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে রোগীদের আকৃষ্ট করছে তারা ।
এব্যাপারে জানতে চাইলে আরিজুল গুনীন বলেন, লোকজন আমার কাছে আসে তাই দেখি। টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাইরে তার লোকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লস্কর জায়াদুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এবিষয়ে আমার কাছে কেউ কখনও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।
মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা জালাল, ইউনুস, নরিম, প্রদীপ, শ্রীকান্ত, ইসমাইল, রবিউল ও তারালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট জানান, দীর্ঘদিনের এই লোক ঠকানো ব্যাবসা বন্ধ করা না হলে এলাকায় দুর্ভোগ নেমে আসবে। তারা এব্যাপারে জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।