এক বছরে ৩৮ বিজিবি আটক করেছে ১২১ কোটি টাকার মালামাল: গ্রেপ্তার ৫৯ চোরাকারবারি


প্রকাশিত : January 25, 2017 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ৩৮বিজিবির সদস্যরা গত একবছরে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২১ কোটি ৭ হাজার ৮২২ টাকার মালামাল উদ্ধার করেছে। এ সময়ের মধ্যে ৫৯জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। মালিকসহ মামলা দায়ের করা হয়েছে ৪৪টি। মালিক বিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে ২হাজার ৬২০টি। আটক মালামালের মধ্যে ভারত থেকে আসার পথে ৭৪কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৩ টাকার ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পথে ৪৬ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৯ টাকা।
এদিকে চোরাচালান রোধ, নারী ও শিশু পাচার বন্ধ, সীমান্তের মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসাসহ বিপুল পরিমান অবৈধ পণ্য আটকসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে গুরুত্বপর্ন ভুমিকা রেখে চলেছেন ৩৮বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন, পিএসসি। বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বিজিবি দিবসে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করেছেন। বিজিবি দিবসে বর্ডারগাড বাংলাদেশ মেডেল (বিজিবিএম) অপারেশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পুরস্কার তুলে দেন।
বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এত বিপুল পরিমান অবৈধ পন্য বিজিবির হাতে আটক হয়নি। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও অব্যাহত অভিযান চালানোয় এ বিপুল পরিমান মালামাল উদ্ধার করতে পেরেছে বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবির সদর দপ্তর সুত্রে জানাগেছে, এরমধ্যে জানুয়ারি মাসে ৯ কোটি ২৯ লাখ ৮২ হাজার ৬৪১টাকা, ফেব্রয়ারি মাসে ১৩ কোটি ৭০লাখ ৪ হাজার টাকা ও মার্চ মাসে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৯৩ হাজার ১৮১ টাকা, এপ্রিল মাসে ১১ কোটি ১০লাখ ৪৮হাজার ৭৩০টাকা, মে মাসে ৭কোটি ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭০টাকা ও জুন মাসে ১ কোটি ৫০ লাখ ৬৯ হাজার ২০০টাকা। জুলাই মাসে ১৪ কোটি ৪৭লাখ ১০ হাজার ৩০টাকা, আগষ্ট মাসে ৫০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮০টাকা, সেপ্টম্বর মাসে ৮কোটি ৫১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯৫টাকা, অক্টোবর মাসে ২কোটি ১৯লাখ ৭৯ হাজার ৭০০টাকা, নভেম্বর মাসে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩ হাজার ৬৪০টাকা ও ডিসেম্বর মাসে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪ হাজার ২৩০টাকা।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে শাড়ি, থ্রীপিচ, শার্টের পিচ, লবন, ফেনসিডিল, গাজা, সাইকেল, রসুন, চামড়া, শাখা, শ্যাম্পু, পান, মদ, সোনা, রুপা, লবণ, মটরসাইকেল, সাইকেল পার্টস, চন্দন কাঠ, আঙ্গুর, কমলা, প্রসাধনিসামগ্রী, গরুরগোস্ত, স্লাব, পাথর, জিরাসহ শতাধিক আইটেমের পণ্য। সীমান্তের চন্দনপুর, হিজলদি, মাদরা, ভাদিয়ালি, কাকডাঙ্গা, ঝাউডাঙ্গা, তলুইগাছা, কুশখালি, বৈকারি, ভোমরা, কলারোয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপরোক্ত পণ্য উদ্ধার করা হয়।
৩৮বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন, পিএসসি জানান, ১বছরে ১২১কোটি টাকার অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমান। আটক করা হয়েছে ৫৯ জন চোরাকারবারিকে। ৪৪ জনকে পলাতক আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার ও মাদক পাচার রোধে বিজিবি সদস্যরা সকল সময় তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারিদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় অপরাধ ও আইন শৃংখলা রুখতে যা যা করা প্রয়োজন বিজিবি সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। চোরাচালান, মাদক পাচার রোধে এলাকায় সভা, সমাবেশ, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন প্রচার চালানো হচেছ। মাদক, চোরাচালান রোধে শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ছাত্রছাত্রীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষসহ সকলের সহযোগিতা কমনা করেন।