পাইকগাছায় বোরোর আবাদ চলছে পুরাদমে


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৬, ২০১৭ ||

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় বোরো ধানের চারারোপন পুরাদমে এগিয়ে চলেছে। কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। চলতি মৌসুমে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা অধিক জমিতে বোরো আবাদে প্রস্তুতি নিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে অধিক জমিতে বোরো আবাদ হবে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২ হাজার ৫শ হেক্টর ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৬শ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষকরা জমি তৈরি ও চারা রোপন নিয়ে ব্যাস্ত দিন পার করছে। বোরো আবাদের জন্য ১ শত ৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ২ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ব্রিধান ২৮- ৮শ হেক্টর, ব্রিধান ৫৫- ২শ হেক্টর, বিনা ১০- ১৫০ হেক্টর, বিনা ৮- ৫০ হেক্টর, স্বর্ণ- ১শ হেক্টর, হাই ব্রিড শক্তি ২- ৪শ হেক্টর, হিরা- ৩শ হেক্টর, এসএল ৮- ৩শ হেক্টর। লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ইতোমধ্যে উফসি ১ হাজার ৫০ হেক্টর ও হাই ব্রিড ৫শ ৫০ হেক্টর জমির রোপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল, শফিকুল, গোপালপুর গ্রামের অনুকুল জানায়, এ বছর বীজতলার চারা নষ্ট হয়নি। আমন ধান দেরিতে পাকায় বোরোচাষ একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে। তারা জানায়, ঠিকমত পানি সরবরাহ না থাকায় বোরো চাষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পানির অভাবে উচু জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভাব হচ্ছে না। শীতের মধ্যে কৃষকরা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে। হঠাৎ শীত বেশি পড়ায় ধানের চারা রোপনের পর কিছু কিছু চারা লালছে হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর কোন বীজতলা নষ্ট হয়নি। বীজতলা সুরক্ষার জন্য তীব্র শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। তবে হঠাৎ তীব্র শীত ও কুয়াশার কারনে সূর্যের আলো কম পাওয়া যাচ্ছে। আর এসময় কৃষকরা চারা রোপন করার রোপনকৃত চারা থেকে শেকড় জন্ম নিতে না। তাছাড়া সূর্যের আলো ঠিকমত না পাওয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পাচ্ছে না। এর ফলে রোপনকৃত কিছু চারা বিবর্ণ ও লাল হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য জমিতে সন্ধ্যায় স্যালোর সাহায্যে পানি ভরে দিয়ে সকালে তা বের করে দিতে হবে। শীত কমে গেলে এ সমস্যা থাকবে না। লবনাক্ত উপকুল এলাকার চাষাবাদ কিছুটা আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে।