পাইকগাছার বাঁকা বাজারে অবাধে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার: প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ রোগীরা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৮, ২০১৭ ||

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছার বাঁকা বাজারে অবাধে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নেই তেমন কোন ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী ও যন্ত্রপাতি। ফলে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ রোগীরা এক দিকে প্রতারিত হচ্ছে অপরদিকে সেবার নামে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। এদিকে গত বুধবার স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আকস্মিক পরিদর্শন করেন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। আর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন অনিয়ম।
সূত্র মতে, বেসরকারি ক্লিনিক করার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী একটি ক্লিনিকে কমপক্ষে ৩জন মেডিকেল অফিসার, ৩ জন ডিগ্রিধারী নার্স, ৩ জন সহকারী সেবিকা, ৩ জন ওয়ার্ড বয়, ৩ জন সহকারী ওয়ার্ডবয়, ৩ জন ঝাড়–দার, ৩ জন আয়া, ২ জন সুইপার, রিসিপ্টশনালিস্ট, পর্যাপ্ত জনবল, স্বাস্থ্যসম্মত অপারেশন থিয়েটার, হাইড্রোলিক টেবিল, এ্যানেথেশিয়া মেশিন, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, অটোকিলার মেশিন, ওয়াশ রুম, নরমাল ডেলিভারী টেবিল, জরুরী বাতি, জরুরী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জরুরী ঔষধ রাখার ফ্রি, রোগীদের বসার সুব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকা বাধ্যতামূলক। অনুরূপভাবে প্যাথলজি করার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমাধারী প্যাথনোলজিস্ট, সহকারী প্যাথনোলজিস্ট, রক্ত সঞ্চালনের সুব্যবস্থা, রক্ত রাখার ফ্রিজ, জরুরী মেডিসিন রাখার ফ্রিজ, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ও আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ, এসব নিয়ম-কানুন তোয়াক্কা না করে উপজেলার বাঁকা বাজারে গড়ে অবাধে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বাজারের এক প্রান্তে রয়েছে মনোয়ারা ক্লিনিক, যার পরিচালনায় রয়েছেন তৃপ্তি রাণী। মনোয়ারা ক্লিনিকে ডাক্তার, নার্স ও যন্ত্রপাতি বলতে কিছুই নাই। বাজারের মাঝে আশালতা ক্লিনিক এণ্ড তুলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় রয়েছেন, দেবাশীষ মন্ডল। অন্ধকার গলির মধ্যে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। অনুরূপভাবে বাজারের শেষ প্রান্তে রয়েছে বাঁকা সার্জিক্যাল ক্লিনিক। ক্লিনিকটির পরিচালনায় রয়েছে ডা. গৌতম সরকার। পর্যাপ্ত জনবল ছাড়াই ১০বেডের স্থলে চলছে ২০ বেডের সেবা কার্যক্রম। একদিকে নেই বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সেবার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ক্লিনিক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এদিকে গত বুধবার ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বাঁকা বাজারের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আকস্মিক পরিদর্শনকালে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ধরা পড়ে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও কাগজপত্র বিহীন প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাপারে বাঁকা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের স্বত্ত্বাধিকারী ডা. গৌতম সরকার জানান, গত বুধবার স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আমার প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় শুধুমাত্র ডাক্তারের উপস্থিতি পায়নি বলে তিনি জানান। এদিকে নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের দাবী জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।