শেষ মুহুর্তে জমেছিল সাগরদাড়ির মধুমেলা: বেচাকেনায় কিছুটা ভাটা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৮, ২০১৭ ||

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: বাংলায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবক্তা মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যয় এবারও কেশবপুরের সাগরদাড়িতে চলেছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের স্মরণে সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তার জন্মস্থান সাগরদাড়িতে প্রতিবছর বসে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলল ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এসএসসি পরীক্ষা থাকার কারণে হয়তো মেলায় কিছুটা কাটছাট করা হয়েছে বলে অনেকের অভিমত। মেলায়  মধুমঞ্চ, ডিজিটাল যাদুপ্রদর্শনী প্যান্ডেল, মৃত্যুকুপ, সার্কাস, যাত্রা সহ হাজারো পন্যের স্টল নিয়ে সাজানো হয় মধু মাঠ এবং তার আশপাশের জমিন। ১৭ জানুয়ারি কেশবপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে মধুমেলার প্রস্তুতিমুলক সভায় ইজারাদারদের পক্ষে অশ্লীল নৃত্য বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে মেলা উদ্বোধনের আগেই ঐ মাঠ থেকে উচ্ছেদ করা হয় ডিজিটাল যাদু প্রদর্শনীর ২৬টি প্যান্ডেল। ফলশ্রুতিতে ভাটা পড়ে যায় মেলার দোকানদারগণ সহ মেলা উৎসুখ জনতার মাঝে। দিন বৃদ্ধির সাথে সাথে শুক্রবার থেকে কিছুটা লোকসমাগম ঘটতে থাকে ও স্থানীয় দোকানদারদের মাঝে বেচাকেনায় কিছুটা স্বস্তির নি:শ্বাস পড়তে দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে পুরো মধুমেলা জমজমাট। বেচাকেনায় বেশ উৎফুল্ল বিক্রেতাগণ। ইজারাগ্রহীতা সাগরদাড়ির ছাত্রলীগ নেতা আজহারুল ইসলাম মানিক বলেন, এবছর মাঠ কেনায় চরম বাড়ি খাব বুঝতে পারিনি। লাভের গুড়ে বালি দিয়ে আসলও তুলতে পারব না। সাগরদাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত জানান, এবারের মেলায় কেশবপুর, মনিরামপুর, অভয়নগর, কলারোয়া, তালা, পাটকেলঘাটা থানার প্রায় ২ হাজার সদস্য ছিল। স্বত:স্ফুর্ত না হওয়ায় তাদের লোকসানের পাল্লা ভারি হবে বলে মনে হয়। মধুমেলার কসমেটিকস দোকানদার ইসমাইল হোসেন, কাপড় বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন মেলায় এবার বেচাকেনা ধস নেমেছে। ৫০ টাকার জায়গায় ১’শ টাকা চাদা বাড়িয়ে দিতে বলায় ঘাড়ে যেন আবারও বাড়ি মারল। ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম, আমিনুর রহমান জানান, মেলায় এ বছর লোকসমাগম না ঘটায় ভাটা পড়েছে। তবে এবারের অশ্লীল যাত্রাকে বন্ধ করায় মনে হয় তার প্রভাব পড়েছে।