বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দ্বীপ কুকরি-মুকরি (ভিডিওসহ)

ডেস্ক রিপোর্ট: ভোলার চরফ্যাশনে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দ্বীপ জনপদ চর কুকরি-মুকরি। বন বিভাগের প্রচেষ্টায় সেখানে সবুজ বেষ্টনী গড়ে উঠেছে।

বাহারি প্রজাতির গাছ আর জীববৈচিত্র্যের সমারোহ মন কাড়ে ভ্রমণ পিপাসুদের।

 

https://www.youtube.com/watch?v=GX45FgpesDo

পটুয়াখালী উপকূলের ঐতিহ্য গোলপাতার রস

ডেস্ক রিপোর্ট: পটুয়াখালী উপকূলের ঐতিহ্য গোলপাতার রস গুড়। কিন্তু প্রচলিত ফসল বৈচিত্র্যের সময়ে লবণপানি নির্ভর গোলপাতার টিকে থাকা এখন প্রশ্নের মুখে। সেখানকার কৃষক চান ফসল বৈচিত্র্যও আসুক, টিকে থাক গোলপাতার ঐতিহ্যও।

 

https://www.youtube.com/watch?v=SOA7RW3ZaXE

কামাল চৌধুরী একজন শক্তিমান কবি

মন্ময় মনির
কামাল চৌধুরী বাংলাভাষা ও সাহিত্যের একজন শক্তিমান কবি। নিজের কবিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ কবিতা আমার অনি:শেষ ভালোবাসা। এই নিয়েই আমি পথ হাঁটিÑএ পথে কত অনুভব এসে ধরা দিয়েছে, কত অতৃপ্ত চরণ আমি উড়িয়ে দিয়েছি জীবনযাপনের ধুলোকাতরতায়।’ কামাল চৌধুরী একজন মানবতাবাদী, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক, প্রকৃতিপ্রেমিক, রোমান্টিক, বাঙালি জাতি সত্ত্বার কবি।
তিনি লিখেছেন, ‘মা আমার পথে হলো দেরি
ষড়ঋতু ঘুমিয়ে কেটেছে
গোলামেরা আছে দুধভাতে
নদীতীরে আসে নাই ফেরি।’
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিজয়করা গ্রামে কামাল চৌধুরীর জন্ম। আহমদ হোসেন চৌধুরী ও বেগম তাহেরা হোসেন-এর প্রিয় সন্তান কামাল চৌধুরী একজন মেধাবী মননশীল মানুষ। ১৯৭৪ সালে দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তার কাব্যজগতে প্রবেশ। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অনেকগুলো কবিতা লিখেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বরণের পর তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন। বঙ্গবন্ধুর জন্মভিটে টুঙ্গিপাড়া ভ্রমণ করে তিনি লিখেছেন অনন্য একটি কবিতা ‘টুঙ্গীপাড়া গ্রাম থেকে’।
এই কবিতায় তিনি উচ্চারণ করেছেন, ‘যে-পথ নিয়েছি বেছে, জানি, সে-পথে তোরণ নেই
ফুল কিংবা জীবনের পুষ্পশয্যা নেই।
সে পথে রক্তের দাগ
মৃত্যু আর প্রলোভন মাখানো রয়েছে
মুক্তিযুদ্ধের মতন
তুমি হও আমাদের দুরন্ত প্রেরণা
আমি সব অতিক্রম করে
আমার নৌকোকে নেব আকাক্সিক্ষত নদীর কিনারে।’
ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী নামেই কামাল চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে চাকুরি করেছেন। বর্তমানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা-এর মুখ্য সচিব।
কামাল চৌধুরী জীবনের পরতে পরতে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে মিছিলের সমান বয়সী (১৯৮১), টানাপোড়েনের দিন(১৯৯১) এই পথ এই কোলাহল (১৯৯৩), এসেছি নিজের ভোরে (১৯৯৫), এই মেঘ বিদ্যুতে ভরা (১৯৯৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯৮), ধূলি ও সাগর দৃশ্য (২০০০), রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল (২০০৩), হে মাটি পৃথিবীপুত্র (২০০৬), আপন মনের পাঠশালাতে (২০০৭), প্রেমের কবিতা (২০০৮), কবিতা সংগ্রহ (২০০৯), পান্থশালার ঘোড়া (২০১০) উল্লেখযোগ্য।
একজন মননশীল সাহিত্যিক কামাল চৌধুরী। ২০১২ সালে ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপুর মাধ্যমে কবি কামাল চৌধুরীর সাথে আমার প্রথম পরিচয়। ২০১১ সালের কবিতা উৎসবে আমরা তাকে প্রধান অতিথি হিশেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ঢাকার ধানমন্ডিতে তার বাসায় আমন্ত্রণ পত্র পৌছে দিয়েছিলাম। সেদিন তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। ‘নির্বাচিত ১০০ কবিতা’ গ্রন্থটি তিনি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। ২০১২ সালে কবিতা পরিষদ, সাতক্ষীরা কামাল চৌধুরীকে কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০১২ প্রদান করেছিল। বিশেষ কারণে তিনি সাতক্ষীরাতে আসতে পারেননি। পরবর্তীতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
কামাল চৌধুরী সাহিত্য রচনার স্বীকৃতিসরূপ পেয়েছেন রুদ্র পদক ২০০০, পশ্চিমবঙ্গের সৌহার্দ্য সম্মাননা ২০০৩, কবিতালাপ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৪, জীবনানন্দ পুরস্কার ২০০৮, সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার ২০১০, দরিয়ানগর কবিতা সম্মাননা ২০১০, কবিতা পরিষদ পুরস্কার ২০১২, বাংলা একাডেমী পুরস্কার ২০১২।
কর্মব্যস্ততার মধ্যেও কামাল চৌধুরী লিখে চলেছেন মানুষের জন্য। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে কামাল চৌধুরীর অবদান অনন্য। বাংলার সাহিত্য আলোকে তার নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে চিরদিন। কবি কামাল চৌধুরী আমাদের প্রেরণা। সবশেষে উচ্চারণ করবো তারই ‘বৃষ্টি ভেজা গ্রাম’ কবিতার কয়েকটি লাইন, ‘এভাবে ফের জন্ম নিতে আসি
বৃষ্টি- রোদে নিত্য ফিরি একা
বটের ছেলে, ধূলির ছেলে আমি
এই কবিতা মাটির হাতে লেখা।’
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা, কবিতা পরিষদ, সাতক্ষীরা

চায়না বাংলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে গণমুখী সংঘ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় চায়না বাংলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ৮উইকেটে জয় পেয়েছে গণমুখী সংঘ। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা কলেজ মাঠে সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমি ও গণমুখী সংঘের মধ্যকার এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণমুখী সংঘ টসে জিতে সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমিকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায়। ব্যাটে নেমে সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমি ৪৩ ওভার ৩ বলে ১৬০ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে ক্রিকেট একাডেমির শাহজালাল সর্বোচ্চ ৮৩ রান করে। গণমুখী সংঘের নয়ন ৮টি ও সোহেল রানা ৩টি উইকেট লাভ করে।

ব্যাট করতে নেমে গণমুখী সংঘ ২৬ ওভার ২ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রানের সহজ লক্ষ্যে পৌছে যায়।  এতে ৮ উইকেটের জয় পায় গণমুখী সংঘ। দলের পক্ষে পিনাক সর্বোচ্চ ৮৪ রান করে। প্রতিপক্ষ সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমির মাসুম ও প্রত্যাশা একটি করে উইকেট লাভ করে। ম্যাচ পরিচালনা করেন শানু ও হিরণ। স্কোরার ছিলেন কাজী ফরহাদ। টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে একই মাঠে রোববার টাউন স্পোর্টিং ক্লাব ও কলারোয়ার তুলসিডাঙ্গা ক্রিকেট ক্লাব অংশ নেবে।

ধানদিয়া চোকার বিলে পুলিশি বাধায় বেড়ি বাঁধ দিয়ে ধান ও মাছ চাষ বন্ধ এলাকায় উত্তেজনা, বিপাকে শতাধিক কৃষক-এমপি মোস্তফা’র এলাকা পরিদর্শন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ার বিলটুংকি চোকার বিলের নিজ জমিতে বেড়ি বাঁধ দিয়ে ধান চাষ করতে পুলিশ দিয়ে বাঁধা প্রদান করায় বিপাকে পড়েছে শতাধিক কৃষক। ফলে ঘের মালিকদের সাথে জমির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধানদিয়ার বিলটুংকি চোকার বিল এলাকা পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহ। শনিবার দুপুরে এমপি ঘটনা স্থলে গেলে ওই ঘেরে এক এর তৃতীয় অংশ পানি ও মাছ শুণ্য অবস্থা দেখতে পান। এসময় শতশত কৃষকরা তারা যাতে ওই বিলে নিজ জমিতে বেড়িবাঁধ দিয়ে ধান ও পরবর্তীতে মাছ চাষ করতে পারে তার জন্য বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের হয়রানি বন্ধের জন্য জোর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান।
খোজ খরর ও সরেজমিন পরিদর্শন করে জানাগেছে, তালা উপজেলার নগরঘাটা চকেরকান্দা গ্রামের আফছার আলী সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান গংরা ধানদিয়া ও নগরঘাটা গ্রামের শতাধিক জমির মালিকদের নিকট থেকে বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ ও মাঘ মাসের শুরু থেকে জমির মালিকরা ইরি ধানের আবাদ করার শর্তে বিঘা প্রতি ৫০০ টাকা চুক্তিতে ধানদিয়ার বিলটুংকি চোকার বিলে দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছে। এতে জমির মালিকরা লচের সম্মুখিন হওয়ায় বাংলা ১৪১৯ সাল থেকে ১৪২৩ সালের চৈত্র মাস পর্যন্ত বিঘা প্রতি মাত্র এক হাজার টাকা চুক্তিতে পূনারায় ৫ বছরের জন্য নতুন করে ডিড গ্রহন করেন ঘের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান গংরা। ডিডের চুক্তি ও শর্ত অনুসারে জমির মালিকরা মাঘ মাসের শুরু থেকে ইরি ধানের আবাদ করার সুযোগ পাবেন। এই শর্ত অনুসারে মাঘ মাসের শুরু থেকে ইরি ধানের আবাদ করতে পারবেন জমির মালিকরা। একই সাথে এই বছরের চৈত্র মাসে ঘের মালিকদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী জমির মালিকদের অনুকুলে ধান করার জন্য জমি ফিরে পাওয়ায় তারা আর ঘের মালিকদের নিকট জমি লীজ না দিয়ে নিজেরা তাদের জমিতে বাঁধ দিয়ে ধান ও মাছ চাষের প্রস্তুতি নেন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন জমির মালিক ও কৃষকরা। কিন্তু তাতে বাধ সাজেন ঘের ব্যবসায়ী নগরঘাটার মিজানুর রহমান, মোফাজ্জেল হোসেন ওরফে ভাটা ও পাটকেলঘাটা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম এবং এস আই শেখ আশরাফুল আলম। শক্রবার ধানদিয়া আলিপুর গ্রামের জমির মালিক আলহাজ্ব জামের আলী, কামরুল ইসলাম খাঁ, মহিদুল ইসলাম খাঁ, আব্দুর রাজ্জাক সরদার, রেজাউল মোল্যা, করিম বক্্র খাঁসহ প্রায় ৯০ জন জমির মালিক এক জোট হয়ে ওই বিলের ৩০০ বিঘা জমির মধ্যে তাদের প্রাপ্য নিজস্ব ১৮০ বিঘা জমিতে ভেড়ি বাঁধ দিয়ে ধান চাষ এবং পরবর্তীতে যাতে মাছ চাষ করতে পারেন সে জন্য স্কেভেটর ম্যাশিন দিয়ে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মিজানুর রহমান পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় শনিবার বিকেলে ঘের ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের নিয়ে শালিস হয়। কিন্তু থানার এস আই শেখ আশরাফুল আলম শালিসে ওই জমিতে চৈত্র মাসের আগে কিছু না করার জন্য জমির মালিকদের শাসিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। এমনকি ভেড়িবাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করলে বিভিন্ন নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার করার হুমকিও দেন ওই এস আই। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে জমির মালিক ও কৃষকরা। তারা এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জমির মালিক ও কৃষকরা।

শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার সমাপনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৩দিন ব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৭ এর সমাপনী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এ সময় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এমপি রবি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিানা বাঙালী জাতির ভাগ্যোন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তার পিতার স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিয়ে চলেছেন এ জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। বর্তমান সরকার সবার মাঝে ডিজিটাল বার্তা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে ডিজিটাল মেলার আয়োজন করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় এখন বাস্তব। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ.এন.এম মঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অরুন কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফারুক আহমেদ, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস.এম আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সাতক্ষীরা পলিটেকিিনক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জি.এম আজিজুর রহমান, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোদাচ্ছের আলী, জেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আফসানা কাওসার, বিটিসিএল’র কর্মকর্তা শোকর আনা, জেলা তথ্য অফিসার শাহনেওয়াজ করিম, বি.আর.টি’এ’র সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারি পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী, এনডিসি মো. আবু সাঈদ, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো. রোকনুজ্জামান, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব শেখ মুসফিকুর রহমান মিল্টনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ। সাতক্ষীরায় ৩দিন ব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৭ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ডিজিটাল সেবায় অনন্য অবদানের জন্য সদর উপজেলা প্রশাসন শ্রেষ্ঠ স্টলসহ ২টি প্ররস্কার পেয়েছে। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসফিয়া সিরাত ও মোশারেফ হোসেন।

ধুলিহরে স.ম আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স মাদ্রাসা ভবন ও মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরুল সাতক্ষীরার উন্নয়নই আমার কাজ

 

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর সরদার পাড়া প্রয়াত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম আব্দুর রউফ এতিমখানা কমপ্লেক্স ও আনোয়ারা মেমোরিয়াল হাফিজিয়া মাদ্রাসার নব-নির্মিত মাদ্রাসা ও মসজিদ ভবনের উদ্বোধন করেছেন জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম। শনিবার বিকালে মদ্রাসা চত্তরে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমপ্লেক্স’র সভাপতি জেলা পরিষদের প্রসাশনিক কর্মকর্তা এস. এম মাহাবুবর রহমান’র সভাপতিত্বে অন্ষ্ঠুানে প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্জ মো. নজরুল ইসলাম এ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। এতিমখানা কমপ্লেক্স ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি প্রধান অতিথি নব নির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দকে পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে স্বাগত জানানোর পর পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত নতুন ভবন ও কমপ্লেক্সের কার্যক্রম দেখে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা এসএম মাহাবুবুর রহমানকে ভূয়শী প্রশংসা করে ও প্রয়াত চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধান অতিথি বলেন, জেলার সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন আমার কাজ তার মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি আমার নিজের। আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করবেন একমপ্লেক্স এর উন্নয়ন করার জন্য। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের কর্মময় জীবনের উপর আলোচনা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাজান আলী, জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত ৫নং ওয়ার্ড সদস্য সৈয়েদ আমিনুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুর রশিদ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সম জালাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা শফিক আহম্মেদ মোল্যা, ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শামছুর রহমান, ধুলিহর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মেম্বর আমিনুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মুকুল, ডিবি গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এমাদুল ইসলাম দুলু, ধুলিহর আদর্শ হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র মন্ডল, নেহালপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলিপ কুমার মল্লিক, ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি আজহারুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক আরশাদ আলি, সরদার আব্দুর রশিদ, মো. ফজলুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিদ মাষ্টার, শিক্ষক রুহুল আমিন বাবলু, আ’লীগের অংঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মি সহ এলাকার সর্বস্তরের সুধী ব্যক্তিগণ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ধুলিহর আদর্শ হাইস্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম।

কালিগঞ্জে চোরের হামলায় গৃহকর্তা গুরুতর আহত: আটক এক

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে চুরি করার সময় দেখে ফেলায় চোরদের হামলায় গৃহকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা শাহাজান গাইন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সে ভাড়াশিমলা গ্রামের বিশ্বাসপাড়া এলাকার বিশ্বাস পাড়ার শাহাদ আলীর জামাতা এবং সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকার মৃত মফো গাইনের ছেলে। এসময় পাশ্ববর্তী খামারপাড়া গ্রামের মৃত হাজের আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রশিদ (৪০) নামে এক চোর পালিয়ে গেছে বলে আটক শাহাজান গাইন জানিয়েছে।
থানার উপ-পরিদর্শক রাজিব রায় জানায়, শাহাজান গাইন ও আব্দুর রশিদ শুক্রবার গভীর রাতে নারায়নপুর গ্রামের ইশার আলী গাজীর ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল্যা আল মামুনের (৩৫) বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। চুরির সময় গৃহকর্তা মামুন বুঝতে পারায় এক চোরকে জাপটে ধরে। এসময় চোরেরা হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করে। রড দিয়ে উপুর্যপুরি আঘাতের পরও গৃহকর্তা মামুন শাহাজানকে আটকে রাখে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অপর চোর আব্দুর রশিদ পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে শাহাজান চোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গুরুতর আহত গৃহকর্তা আব্দুল্যা আল মামুন বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। মামুনের বাড়িতে চুরির পূর্বে ওই চোরেরা একই গ্রামের আব্দুস ছামাদের মায়ের ঘর থেকে ১১শ’ টাকা ও শাড়ি কাপড় চুরি করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম গাজী জানান, শাহাজান মূলত: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার অধিবাসী। সে ভাড়াশিমলার বিশ্বাস পাড়ার শাহাদ আলীর জামাই হিসেবে ওই এলাকায় বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এর আগেও চুরির অপরাধে সে একাধিক বার হাজতবাস করেছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার তাকে নিয়ে বিচার শালিস হয়েছে। এসব কারণে শাহাজানকে এই এলাকা থেকে বিতাড়িত করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

লাখো প্রাণের উচ্ছ্বাসে শেষ হলো সাগরদাঁড়ির মধুমেলা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: লাখো প্রাণের উচ্ছ্বাসে শেষ হলো সাগরদাঁড়ির সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদ তীরের সাগরদাঁড়িতে দেশের দক্ষিণ পশ্চিামাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মধুমেলা শুরু হয়। ২১ জানুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ২৭ জানুয়ারী মেলার শেষ দিন। সপ্তাহব্যাপী মধুমেলায় লাখো মধুভক্ত আর ভ্রমন পিপাসুদের পদচারণায় মেলাঙ্গণ সরব হয়ে ওঠে। মধুমেলা অশ্ল¬ীলতামুক্ত হওয়ায় মধু ভক্তদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। মেলা প্রস্তুতি কমিটির কঠোর পদক্ষেপে এবারের মধুমেলা গ্লানীমুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মেলায় আগত মধু প্রেমীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে অধিক রাত পর্যন্ত হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু মেলার মাঠে মধুমঞ্চে মন্ত্রী, এমপি ও দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিকদের আলোচনা ও সাং®কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রা, সার্কাস দেখে এবং নাগরদোলায় চড়ে সময় কাটিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সারাক্ষণ মেলার মাঠে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী কেনাকাটায় ছিলেন ব্যস্ত। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মধুভক্তরা ঘুরে ফিরছেন নিরাপদে। দুরদুরান্তের দর্শকরা গভীর রাত অবধি ঘুরে ফিরে উপভোগ করছেন মেলা। এবারের মেলায় প্রতিটি স্টলেই আগত মধুপ্রেমী দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে শিশুদের খেলনা জাতীয় দ্রব্য। রেশমী চুড়িসহ মেয়েদের সাজগোজের অন্যান্য মালামালও বিক্রি হয়েছে প্রচুর। মেলার মাঠে এবার ছোট বড় মিলে আট শতাধিক স্টল বসেছে। মেলার মাঠে মিষ্টির দোকানগুলোতে ভাজা চানাচুর, মোয়া মুড়ি, নানা জাতীয় মিষ্টির পাশাপাশি এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রসগোল¬া বানিয়ে সাজানো হয়েছে। মধুমেলার মাঠে কৃষি প্রদর্শনীর স্টল না থাকায় অনেকেই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কবির জন্মবার্ষিকী ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ রায়হান কবীর জানান, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুমেলায় লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটেছে। দর্শণার্থীরা সারাক্ষণ মেলার মাঠে সার্কাস, মৃত্যুকুপে মটর সাইকেল চালানো, চড়ছেন নাগরদোলায়। মেলার মাঠের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলো প্রচুর। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলাম সহিদ জানান, মেলার মাঠের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সর্বাত্মক সর্তকতা নেয়া হয়েছে। এবারের মধু মেলায় সরকারের সড়ক, পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রীর আগমন মেলাকে সার্থক করেছে।

ছাত্রলীগ নেতা ইমনকে হত্যার রাতে কে বিপুল অংকের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল ?

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসিবুল হাসান ইমন গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে তার চাচাত ভাই ইখতিয়ার হোসেন বিপ্ল¬ব, মোস্তাফিজুর রহমান মুরাদসহ কয়েকজনের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা করেন। খেলা শেষের একপর্যায়ে ইমন কয়েকজনকে বলেছিল সে রাতে এমন টাকা পাবে যে বিপ্লবসহ কয়েকজনের পাওনা টাকা পরিশোধ করে পরদিন নতুন মোটর সাাইকেল কিনবে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাচা আলমগীর হোসেন আলমের সাথে দেখা করার পর ভাই লিমনকে বলেছিল সে রাতে বাড়ি ফেরার সময় বিরিয়ানি নিয়ে ফিরবে। তাই সে না আসা পর্যন্ত তারা যেন ভাত না খায়। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ১৭ জানুয়ারি রাতের কোন এক সময়ে ইমনকে হত্যা করে লাশ ধুলিহর ইউনিয়নের কামারডাঙা স্লুইস গেটের সন্নিকটে আমতলা বিলের ইকবাল বিশ্বাসের মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়।
এদিকে ১৮ জানুয়ারি সকালে পুলিশের কাছ থেকে মোবাইলে ইমন হত্যার বিষয়টি শুনতে পায় বিপ¬ব ও মুরাদসহ তাদের বন্ধুরা। এ নিয়ে তারা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সুলতানপুর ক্লাবের পাশে আলোচনা করছিল। এমনই সময়ে একটি মোটর সাইকেলে ওই ক্লাবের পাশে আম বাগানে চলে আসেন জনৈক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশীদ ও তার কাছের লোক বলে পরিচিত নিহত ইমনের চাচা আলমগীর হোসেন আলম। প্রায় একই সময়ে সেখানে চলে আসেন সুলতানপুরের জনৈক রবিউল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম। মোটর সাইকেল থেকে নামতেই আব্দুর রশীদ মুরাদকে লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে বলে ওঠেন, তুই ইমনকে মার্ডার করেছিস। নইলে তোর মুখে ময়লা কেন ? একইভাবে তিনি বিপ্ল¬বকে নানা কথা বলেন। তাহলে একটি প্রশ্ন উঠে আসে যেখানে পুলিশ লাশ উদ্ধার করলো না, হত্যা না আত্মহত্যা জানা গেল না, তবে আব্দুর রশিদ কিভাবে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হলেন। তিনিই বা কেন এত উৎসাহী হয়ে উঠলেন।
১৯ জানুয়ারি সকালে সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিস কক্ষে বসে নিহত ইমনের চাচা আলমগীর হোসেন আলম বলেন, ভাইপো ইমন ১৭ জানুয়ারি আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বাসায় যেয়ে কিছু বলতে চেয়েছিল। কিন্তু না বলেই সে চলে যায়। তবে বিপ্ল¬ব ইমনের কাছে যে টাকা পায় তার মধ্যে ৫৫হাজার টাকা যোগাড় হয়েছে বলে তিনি জেনেছিলেন। সে টাকাটাও মারা যাওয়ার আগে তার কাছে ছিল বা ব্যাংকে রাখতে পারে বলে তার মনে হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি সাংবাদিকদের কাছে ইমনের মৃত্যুর নেপথ্য কারণ হিসেবে রনির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, বিপ্ল¬বের ঋণ পরিশোধ করতে না পারা, দু’জন চোরাচালানির সঙ্গে বন্ধুত্বসহ বিভিন্ন কথা বলেন। ১৮ জানুয়ারি সকালে লাশ উদ্ধারস্থলে বিপ¬বকে ইশারার মাধ্যমে পুলিশে ধরিয়ে দেন আলমগীর হোসেন আলম। একইভাবে মুরাদ ও রনিকে গ্রেপ্তার করানো হয়।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে ইমনের বাবা ও তার তিন চাচার দহাকুলার যৌথ সম্পত্তি বিক্রির ২৮ লাখ টাকার এক চতুর্থাংশ ভাই থোকনকে দেন আলমগীর আলম। বাবা ইকবাল আলম লিটনের অংশ সাত লাখ টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ইমন তার চাচা আলমগীর আলমকে চাপ দিচ্ছিলেন বার বার। ১৭ জানুয়ারি রাতে চাচা আলমগীর আলমের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করার পর একটি নতুন মোটর সাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইমন। সে অনুযায়ি চাচার নির্দেশনা মত কোন এক স্থানে টাকা আনতে যেয়ে এ নিয়তি কে মেনে নিতে হলো না তো ! এ টাকা নিতে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামী আলমগীর আলম তার কোন আওয়ামী লীগ নেতা বন্ধুর কাছে পাঠিয়েছিল না তো ? ফলে ওই আওযামী লীগ নেতাই ১৮ জানুয়ারি সকালে পুলিশকে ইমন হত্যার খবর দিয়ে সুলতানপুর ক্লাবের পাশে এসেছিল না তো ? ইমন হত্যার পর বাবা ইকবাল আলম লিটন বা তার পরিবারের কেউ হত্যা মামলার বাদি না হয়ে চাচা আলমগীর আলম তড়িঘড়ি করে কারো নাম উলে¬খ না করে হত্যা মামলার দায়ের করলেন কেন ? মামলার পর নিহতের বাবা, মা ও ভাই যাতে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও কোন আইন প্রয়োগকারি সংস্থার সদস্যের কাছে মুখ না খুলতে পারে সেজন্য বাড়ির সামনের ফটকে লোক মজুত করে রাখা, আলমগীর আলমের ইশারায় তিনজন গ্রেফতার হওয়াটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে তদন্তকারি টিমের এক সদস্যের কাছে।
এদিকে ঘটনার নেপথে জানা গেছে, ইমন প্রায়ই বেক্সিমকো কোম্পানির কাশির সিরপ ডেক্সপোটেন খেত। নেশা না হওয়া পর্যন্ত সে থামত না। মুজিবর মাষ্টারের ছেলে বাবু ও মঈনুর ডাক্তার ইমনের কাছে টাকা পেত। বাবু ম্বেরের পাশের আড়তে ইমন কিছু টাকা সুদে খাটাত। ১৭ জানুয়ারি রাত প্রায় সাড়ে আটটার দিকে ইমন তার চাচা আলমগীর আলমের বাড়ি থেকে বের হয়ে ভাই লিমনকে বিরিয়ানি খাওয়ানোর কথা বলে বড়বাজারে চলে আসে। সেখানে বাবু মেম্বরের পার্শ্ববর্তী একটি আড়ৎ এর কর্মচারি মঈনুরের কাছে ২০০ টাকা নিয়ে মুজিবর মাষ্টারের বাড়ির পাশ দিয়ে কাজীপাগড়ার দিকে চলে যেতে দেখেছেন।
বৃহষ্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল আমতলা বিলের পাশে বসবাসকারি জুবায়ের, জাভেদ ও সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, ইমনকে অন্য কোথাও খুন করার পর মোটর সাইকেলে এনে লাশ ইকবাল বিশ্বাসের ঘেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হত্যার মোটিভ সম্পর্কে জেনে তার মনে হয়েছে এটা একটি পেশাদার হত্যাকারিদের কাজ। কারণ যেভাবে লাশ উদ্ধারের আগে পুলিশকে খবর দেওয়া, জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ থাকা, ইকবাল আলম লিটনের সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর আলমের দেখভালের দায়িত্ব থাকার পর ইমন ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের দায়িত্ব থাকার পর মাথা চাড়া দিয়ে পৈতৃক সম্পদ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা, কেবলমাত্র মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে বিপ¬ব ও পরে কাল্পনিক গল্প সেজে রনিকে গ্রেফতার করানো সবটাই তদন্তকারি কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলবে নিশ্চয়ই। তাছাড়া মেডিকেল কলেজে এক্স-রে বিভাগের কর্মী বিপ¬ব ও কলেজ ছাত্র মুরাদ তাদের চাচাত ভাই সুখে দূঃখের বন্ধু ইমনকে হত্যা করে বাড়িতেই অবস্থান করবে এটা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাই ১৭ জানুয়ারি রাতে কে ইমনকে টাকা দিতে চেয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছিল সেটা না প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত হত্যার রহস্য তিমিরেই থেকে যাবে। এজন্য ইমনের পরিবারের সদস দের আরো বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে তদন্তকারি টিমের কাছে।
তবে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আলমগীর কবীর জানান, ঘটনার সত্যতা বের করতে তারা সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলায় ঝিমিয়ে পড়েছে মাদক বিরোধী অভিযান

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঝিমিয়ে পড়েছে মাদক বিরোধী অভিযান। মাদকের কারণে নিজের ছেলেকে পুলিশে দিচ্ছে পিতা। এরপরও মাদক ব্যবসা কমছে না। বেড়েছে সেবনকারিদের সংখ্যা। মাদকের কারণে এলাকায় চুরি ডাকাতিসহ নান অপরাধ বেড়েছে। সদর উপাজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোলামেলা মাদক বিক্রি হচেছ এমন প্রচার রয়েছে এলাকায়।
কয়েক জন কলেজ শিক্ষক ও ব্যবসায়ি জানান, কয়েক মাস আগে মাদকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানে নামে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা। অভিযানের কারণে অনেকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছিল। অনেক মাদকসেবী মাদক ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছিল। কমেছিল মাদক বিক্রি। অনেকে স্বেচছায় মাদক বিক্রি ও সেবন করবো না বলে লিখিতভাকে সদর থানার ওসি’র কাছে আবেদন করেছিল। অনেকে এলাকা ছাড়া হয়েছিল মাদক ব্যবসায়িরা।
বর্তমানে আবার নতুনভাবে শুরু হয়েছে মাদক ব্যবসা। সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়িদের হামলায় আহত হয়েছে সদর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা। একটি দায়িত্বশলি সুত্র জানিয়েছে সদরের ভোমরা ও লক্ষিদাড়ি এলাকার বাবু ঠাকুর, বাদল, পুটে, মনি, কবির, জোহর, খোরশেদ, আলিপুর এলাকার মুজিদ, শাহাদাত (১), শাহাদাত(২), জয়নাল, খোরশেদ, জুল্লু, গাংনি এলাকার হবিবার, আইজুল, নূরমোহম্মদ, আরমান, শাহিন, আছাদুল(১) মাধপকাঠি এলাকার ছবুর, ছয়ঘরিয়া এলাকার মোস্ত ওরফে মোস্তফা, মোহনপুর এলাকার নাসির, ইসমাইল, কুদ্দুস, রউফ, খালেক, ঝাউডাঙ্গা এলাকার নূর মোহম্ম্দ, জামাল, ছামাদ, বাবু, খলিল, পরোয়ার, মোসারাব, ছরো, বাবলু, আনছার, রেউই এলাকার শহিদুল, আমিনুর, রেজাউল, ওহেদ, রফি, কামারবাসা এলাকার শরিফুল, শফিকুল, সদরের ঝাউডাঙ্গা গ্রামের কয়েকজন জানান, একই গ্রামের গত দুই দিন ধরে এক মাদকসেবী তার মাকে ও বাবাকে পিটিয়ে আহত করেছে। ভাংচুর করেছে ঘরের জিনিসপত্র। তারা দুই দিন ধরে তার হাতে জিন্মি হয়ে পড়েছে। সদর থানার পুলিশকে প্রথমে জানানো হয়। পরে তার পিতা দিপংকর রায় থানায় একটি লিখিত আবেদন করে ছেলেকে গ্রেপ্তার করার জন্য। এরপরও পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। পরে গ্রাম পুলিশ তাকে আটক করে থানায় দেয়। শুক্রবার ঝাউডাঙ্গা বাজার থেকে ১০০গ্রাম গাঁজাসহ মোস্তাফা নামে মাদক ব্যবসায়িকে আটক করে।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদায় ও নবীনবরণ

পত্রদূত ডেস্ক: আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে বিভিন্নশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর নি¤েœ উপস্থাপন করা হলো।
শাখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়
সীমান্ত প্রতিনিধি: ২৮জানুয়ারি সকাল ১১টায় সদর উপজেলার শাখরা কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক আহমেদ শরিফ ইকবাল। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গোলাম বারি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভোমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজি আবদুল গফুর, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আলফেরদাউস, শিক্ষক আবদুর রহিম, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
দেবহাটার নাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটার নাংলা ফাতেমা রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলাম বিশ^াসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ফসিয়ার রহমানের সহধর্মীনি ফাতেমা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে প্রতিষ্ঠাতার ছেলে মাসফিয়ার রহমান, পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাস, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সাহেব আলী, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক আবু সাফা। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বাবলু। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ ইসরাঈল আশেকের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
দেবহাটা পাইলট হাইস্কুল
দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটা পাইলট হাইস্কুলে এসএসসি পরিক্ষাথীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও নবাগত শিক্ষাথীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান প্রাক্তন সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও পাইলট হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দেবহাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মামুন-অর রশিদ (পিপিএম)। বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান। এবারের এসএসসি পরিক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৮ জন, মানবিক বিভাগে ৬৪ জন ও বাণিজ্য বিভাগ ২২জন সর্বমোট ৮৬ জন পরিক্ষাথী অংশগ্রহণ করবে।
পলাশপোল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক: পলাশপোল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নবীণবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা সৈনিকলীগের সভাপতি মাহমুদ আলী সুমন, শাহীদ হাসান রেবু, বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক শামীমুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক সুদর্শন ব্যানার্জী, মঙ্গল কুমার পাল, আনোয়ারুল হাসান, ইসরাইল আলম, সুরাইয়া পারভীন প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, সহকারী শিক্ষক কানিজ ফাতেমা। সভায় শেষে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পলাশপোল বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব শাহাদৎ হোসেন।
দেবীশহর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
গাজিরহাট (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার ৪নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নে দেবীশহর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনোরঞ্জন মুখার্জি (মনি বাবু)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৪নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অনিমা সিংহ। বিদ্যালয় থেকে ২০১৭সালে ৩৭জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক লুৎফর রহমান।
কলারোয়া পাইলট হাইস্কুল
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের উদ্যোগে ঈদ-মিলাদুন্নবী ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় স্কুল চত্বরে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উপজেলা আ’রীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু। এসময় অন্যন্যেদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাকিব, সিনিয়র শিক্ষক এসএম গোলাম রব্বানী, মাওলানা আকবার হোসেন প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা গোলাম রসুল শাহী।
কলারোয়ায় বিবিআরএনএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ার সীমান্তবর্তী বিবিআরএনএস ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শনিবার শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের সভাপতি আহ্সান কবীর টুটুলের সৌজন্যে এ শিক্ষা সামগ্রী ও পুরস্কার শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আহ্সান কবীর টুটুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু। আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তন ও মাল্টি মিডিয়া কক্ষ উদ্বোধন এবং ৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে ১টি করে স্কুলব্যাগ, ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি প্রদান করা হয়।

কল্যাণপুর এমএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রতাপনগর (আশাশুনি) প্রতিনিধি: স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হায়দার (পলাশ) এর সভাপতিত্বে কল্যাণপুর এমএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিশেষ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকনুজ্জামান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাষ্টার রিয়াছাত আলী (মামুন)।
পাটকেলঘাটার কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটার কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান প্রধান শিক্ষক সুকৃতি কুমার রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ঘোষ সনৎ কুমার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য তবিবর রহমান, রফিকুল ইসলাম, গোপাল ঘোষ, বরুন দাস, মফিদুল ইসলাম, সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিমল রায়, সহকারী শিক্ষক মফিদুল ইসলাম, অর্পনা রানী, জাহাঙ্গীর হোসেন, নবকুমার পাইন, টিশান সরদার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক সজীবুদৌল্লা।
পাটকেলঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল হাই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজ সেবক সরদার আব্দুল লতিফ। বিদ্যালয়ের শিক্ষক উদয় কৃষ্ণ ও অমর চন্দ্র রায়ের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লোকনাথ নার্সিং হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুলক কুমার পাল। অনুষ্ঠানে ১৫৪ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাতে বিদায়ী উপহার হিসেবে স্কুলের পক্ষ থেকে পরীক্ষার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

দেবহাটা ইউএনওর গভীর রাতে হতদরিদ্রদেরকে কম্বল বিতরণ

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল-আসাদ শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাস্তার পাশে বসবাসরত হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদেরকে শীতের প্রকোপ থেকে বাচাতে কম্বল বিতরণ করেছেন। গত কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতে সারাদেশের ন্যায় দেবহাটাতেও প্রচন্ড শীত পড়েছে। এই শীতে একদিকে যেমন অসহায় মানুষগুলো কষ্ট পাচ্ছে ঠিক তেমনি সাধারন মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার রাতে দেবহাটা উপজেলায় নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল-আসাদ উপজেলায় কর্মরত দেবহাটা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বিঞ্চুপদ বিশ^াস, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ইসরাঈল হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন প্রাং, দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দেবাশীষ কুমার, উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেন সহ সঙ্গীয় কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে উপজেলাব্যাপী ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল ৬০জন বয়:বৃদ্ধ মানুষদের গায়ে নিজে কম্বল পরিয়ে দেন। এই প্রচন্ড শীতের মধ্যে অসহায় মানুষগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন মহানুভবতায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই আনন্দে চোখের পানি ফেলে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসময় বলেন, মানবসেবাই বড় ধর্ম। তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব ততটুকু কাজ করার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

তালা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই অনলাইনে ৪৪১টি আবেদন জমা: ৫৬টির বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এমপি রবি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। যারা নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ মাতৃকার টানে দেশকে শক্রুমুক্ত করতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের ঋণ এ জাতি কোন কিছুর বিনিময়ে শোধ করতে পারবেনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সেদিন এই মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করতে অনেকে জীবনকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান বৃদ্ধি করতে তাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করেছে। এ জন্য সঠিক যাচাই বাছাই করার লক্ষ্যে সরকার নতুনভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেন কোন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত হতে না পারে। তালা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ে অনলাইনে ৪৪১টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৬টির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ আহমেদসহ ঐ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারবর্গ।

কলারোয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন করলেন এমপি মুস্তফা

নিজস্ব প্রতিনিধি: উন্নত আগামীর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি- স্লোগানে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় উদ্বোধন করা হলো জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্তরে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সাংসদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন। ৩৮তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে ২দিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় উপজেলার বিভিন্ন হাইস্কুল, মাদরাসা ও কলেজসহ ২৪টি প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিনন্দন স্টল স্থান পেয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু নসর, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ. রউফ, প্রেসক্লাবের সভাপতি শিক্ষক দীপক শেঠ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন বাবু, কৃষি কর্মকর্তা মহাসীন অলী, অধ্যক্ষ আবু বক্কর ছিদ্দিক, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান ও মাস্টার শেখ শাহজাহান আলী শাহীন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান পতিœ প্রভাষক সুরাইয়া ইয়াসমিন রতœা, শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক হরি সাধন ঘোষ, প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান বিপ্লব, এমদাদুল হক, পৌর কাউন্সিলর প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল, সামছুল হক, ফজলুর রহমান, অধ্যক্ষ এসএম শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা আয়উব আলী, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক এমএ সাজেদ, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, বিজ্ঞান শিক্ষক, শিক্ষকমন্ডলী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধায়নে উপজেলা প্রশাসন এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম।