বাঙালীর সার্বজনীন সরস্বতী পূজা হোক অসাম্প্রদায়িকতার আলোকবর্তিকা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩১, ২০১৭ ||

ডা. সুব্রত ঘোষ
আজ সরস্বতী পূজা। প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। সরস্বতী হলেন জ্ঞান, বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শুদ্ধতার দেবী। সৌম্যাবয়ব, শুভ্র বসন, হংস-সম্বলিত, পুস্তক ও বীণা ধারিণী এই দেবী বাঙালির মানসলোকে এমন এক প্রতিমূর্তিতে বিরাজিত, যেখানে কোনো অন্ধকার নেই, নেই অজ্ঞানতা বা সংস্কারের কালো ছায়া। সরস্বতী দেবীকে হিন্দুরা পূজো করলেও সে কারণেই সব বাঙালির কাছে ‘বিদ্যা’ নামক অব্যাখ্যাত শব্দটির প্রতীক এই সরস্বতী।
দেশ ও জাতির উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। সনাতন ধর্মে শিক্ষাকে উঁচু স্তরে আসীন করা হয়েছে। এ ধর্মে প্রাচীন ঋষিরা ব্রহ্মের অনন্ত শক্তির অংশকে একেকজন দেব-দেবীরূপে কল্পনা করেছেন। আর তেমনিভাবে ব্রহ্মের যে শক্তি আমাদের বিদ্যা শিক্ষাদান করেন-তাঁকে সরস্বতী দেবী নামে পূজা-অর্চনা করা হয়।
শাস্ত্রে দেখা যায়, চতুর্ভূজা ব্রহ্মার মুখ হতে আবির্ভূতা শুভ্রবর্ণা বীনাধারিণী চন্দ্রের শোভাযুক্তা দেবীই হলেন সরস্বতী। সরস্বতী দেবীর ধ্যান, প্রণামমন্ত্র ও স্তবমালা থেকে সামগ্রিক রূপটি হলো ‘এই দেবী সরস্বতী শুভ্রবর্ণা শ্বেত পদ্মাসনা, শ্রী হস্তে লেখনী, পুস্তক ও বীণা। তিনি শুভ্রবস্ত্রাবৃতা হংসরূপ বাহনে উপবিষ্ট বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্তাদি বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী।’
পুরাণে সরস্বতী দেবীর উদ্ভব নিয়ে নানা প্রসঙ্গ আছে। ঋগবেদের দশম মন্ডলে ঋষি মধুছন্দা গায়ত্রী ছন্দে সরস্বতী দেবীকে বন্দনা করেছেন গতিময় জীবন প্রত্যাশা করে। সংস্কৃত ‘সরস’ হলো পূর্ণতাপ্রদাত্রী বা জ্যোতির্ময়ী অথবা ঐশর্যময়ী। আবার ‘সরস’ অর্থ জল বা জীবনের প্রশান্তি। উভয় অর্থেই (সরস+বতী) সরস্বতী আলোকিত জীবনময়তার প্রতীক।
শাস্ত্রে বিভিন্নরূপে সরস্বতী দেবীর পূজার কথা বর্নিত আছে। হিন্দুদের মূল ধর্মগ্রš’ বেদে নদীরূপে, যজ্ঞ কর্মাদিতে প্রজ্ঞাদাত্রীরূপে, ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে শ্রীকৃষ্ণ কর্ণৎভবা বাগাধিষ্ঠাত্রীরূপে, শ্রীহরির ভাষারূপে, মৎস্যপুরাণে নৃত্য-গীতাদির সিদ্ধিদাত্রীরূপে সরস্বতীর কথা বর্ণিত আছে। বেদান্ত শ্রুতিতে জ্ঞান মোক্ষদা বলে ব্রহ্মা তার ¯‘তি করেছেন। দেবর্ষি নারদ তাকে বলেছেন জগন্ময়ী, ব্রহ্মময়ী, কোটিন্দুমুখী। ঋষি যাজ্ঞবল্ক বলেছেন, জ্যোতিরূপা সনাতনী পরমা ব্রহ্মস্বরূপা। বর্তমানে স্কুল-কলেজ-বিশ¡বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দ্বারা সরস্বতী বিদ্যা, জ্ঞান, সঙ্গীত ও কলাধিষ্ঠাত্রী দেবীরূপে পূজিত, বন্দিত ও চর্চিত হন।
সরস্বতী দেবীর স্বরূপ সম্পর্কে সরস্বতী স্তোত্রে বর্ণিত আছে, ‘শে¡ত পদ্মাসনা দেবী শে¡ত পুষশোভিতা/ শে¡তাম্বর ধরা নিত্যেমবেত গন্ধানু লেপনা/ মানসে রমতাং নিত্যং হংসেব হংস বাহিনী/ বাচং দদাতি বিপুলাং যা চ দেবী সরস্বতী।’ সরস্বতী শে¡ত পদ্মের ওপর উপবিষ্টা। সাধকদের মতে, দেহে ছয়টি পদ আছে। বিশুদ্ধ পদে আরোহণ করলে সারস্বত জ্ঞান লাভ হয়। সরস্বতীকে পদ্মাসীনা দেখিয়ে দেহ¯’ প্রাণবায়ুকে উত্তোলন করার কৌশল নির্দেশ করা হয়েছে। তিনি শুভ্রবর্ণা। তার এই শুভ্রবর্ণ শুচিতা, শুভ্রতা, শুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক; যা আমাদের মনকে শুচি, শুভ্র ও শুদ্ধ রাখার নির্দেশ দি”েছ। কারণ মন শুদ্ধি না হলে চিত্ত শুদ্ধি হয় না আর চিত্ত শুদ্ধি ছাড়া জ্ঞান লাভ করা যায় না। সরস্বতী দেবী হংসবাহনা। হংসের একটি বিচিত্রতা আছে। হংসকে দুধ ও জলের মিশ্রণ খেতে দিলে সে অনায়াসে জল রেখে সারব¯‘ দুধ গ্রহণ করে। সার ও অসার মিশ্রিত এই জগৎ সংসারে মানুষ যেন সারবস্তু‘ গ্রহণ করে এ নির্দেশই হংসবাহনতায় প্রকাশিত। দেবীর হাতের পুস্তক জ্ঞান”র্চার প্রতীক। জ্ঞানের মতো পবিত্র এ জগতে আর কিছুই নেই। এই জ্ঞান সব যোগের পরিপক্ব ফল। সংযতেন্দ্রিয় ও তৎপর হয়ে তত্ত্ব জ্ঞানে শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই জ্ঞানলাভ করেন এবং অচিরেই তিনি পরাশাস্তিপ্রাপ্ত হন। সরস্বতী মায়ের হাতের বীণা সঙ্গীতবিদ্যার প্রতীক। মনের ভাব প্রকাশ হয় ভাষায় আর প্রাণের ভাব প্রকাশ পায় সুরে। সুর মানুষকে বিমোহিত করে। প্রাণে আনন্দের সঞ্চার ঘটায়। সুরের লহরি সবাই শুনতে চায়, কিš‘ বেসুর কেউ শুনতে চায় না। দেবীর হাতের বীণা বেসুর সৃষ্টিকারী নয়। এ যে প্রাণের বৈরাগ্য সৃষ্টিকারী ছন্দময় সুর। সেই বীণা তারে সা-রে-গা-মা-পা-ধা-নি এই সপ্তস্বর বাঁধা আছে। এদের প্রথম দুটি বর্ণ ‘স’ এবং ‘র’ যোগে দেবীর নামের আদ্যাক্ষর সূচিত হয় ‘গ’ এবং ‘ম’ যোগে ঊর্ধ্ব গমন করা বোঝায়। ‘প’ পবিত্রতার পরিচয় বহন করে এবং ‘ধ’ অর্থে ধারণ ও ‘ন’ অর্থে আনন্দকে বোঝায়।
শব্দ বিজ্ঞানের ভাষায়, কম্পনের ফলে সৃষ্টি হয় স্বর আর স্বরের সম্মিলিত রূপই হলো শব্দ। ঋগে¦দে বলা হয়েছে, ‘শব্দ ইতস্ততে ব্রহ্ম।’ অর্থাৎ শব্দই ব্রহ্ম। আর ব্রহ্মকে নিয়ে যে বিজ্ঞান তা-ই শব্দবিজ্ঞান। শব্দহীন দেহ অসার, তাই দেহে যতক্ষণ শব্দ থাকে অর্থাৎ ব্রহ্ম থাকেন ততক্ষণই জীবন আছে বলা যায়। শব্দ নিঃশেষ হলে দেহ অকেজো। অতএব, ব্রহ্মহীন বিজ্ঞানও তখন অর্থহীন। আবার যোগতত্ত্ব অনুসারে, বীণা মেরুদন্ডের প্রতীক। দেবীর বীণায় তিনটি তার। সেই তার তিনটি জরা প্রকৃতিজাত সত্ত, রজঃ ও তমো গুণকে নির্দেশ করে যা দ্বারা জীব আবদ্ধ থাকে। তেমনি মেরুদন্ডে রয়েছে তিনটি তার, যাদের বলা হয় ঈড়া, পিঙ্গলা ও সুষমা। পরিশেষে বলা যায়, সরস্বতী দেবীর পদধর্মিতা, হংসধর্মিতা, বীণাধর্মিতা, জ্ঞানধর্মিতা জীবনে অনুশীলন করলে জীবন হয় সার্থক ও সুন্দর।
সনাতন ধর্মের মতো বিশে¡র বেশ কিছু ধর্মেও সরস্বতী দেবীর পূজার প্রচলন দেখা যায়। বৌদ্ধ ধর্মে সরস্বতী দেবীর তিন মুখ ও ছয় হাত। মহাযান বৌদ্ধদের জগতে বাগীশ¡র মঞ্জুশ্রী শক্তি সরস্বতী। ‘সাধনমালা’ নামের বৌদ্ধতন্ত্রে ‘মহাসরস্বতী’, বজ্রবীণা সরস্বতী, বজ্রসারদা ও আর্যসরস্বতী এই চার প্রকার সরস্বতীর বিবরণ রয়েছে। এ ছাড়া বৌদ্ধ মহাযান গ্রন্থ’গুলোতে জাঙ্গুলী তারা, সিতারা ও বজ্রতারা নামে তিনজন দেবী আছেন। তাঁরা ব্রাহ্মণ্য সরস্বতীর অনুরূপ। এই দেবী নীলবর্ণা, নীলকমলাসনা, ডমরন্ড ও শূলধারিণী। বৌদ্ধরা মনে করেন, দেবীর অর্চনায় সর্ববিদ্যা লাভ হয়। জৈন ধর্মাবলম্বীরা মাঘী শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে দেবীর পূজা করেন এবং ওই দিনটি জৈনদের জ্ঞানপঞ্চমী বা বিদ্যাপঞ্চমী নামে পরিচিত। জৈন ধর্মগ্রšে’ ১৬ প্রকার সরস্বতীর নামের উল্লেখ দেখা যায়। যেমন- দেবী কালী, মহাকালী, দেবী রোহিনী, দেবী মানসী, দেবী গান্ধারী, বাণী চক্তেশ¡রী, সরস্বতী গৌরী, প্রজ্ঞাপ্ত দেবী, মানসী দেবী, বানী বৈরাটী, সরস্বতী অচ্যুতা, বজ্রশঙ্খলা দেবী, দেবী বজ্রাঙ্কুশা, মহাজ্বালা দেবী, মহামানসী দেবী, পুরুষ দম্ভাভারতী এই ১৬ প্রকার দেবীর মধ্যে বাহন আসন গায়ের রংভুজ ও হস্তধৃত অস্ত্রের মধ্যে গরমিল রয়েছে। গ্রিক জাতিও সরস্বতী পূজা করেন। তাদের সরস্বতী দেবীর নাম নিনার্ভা।
সম্প্রদায়গত ধর্মীয় পুজো-অনুষ্ঠানের বাইরে সরস্বতী পুজোর বিশেষ সামাজিক গুরুত্ব আছে। দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পূজো হয়ে আসছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে স্কুলে যেহেতু কোমলমতি শিশু-কিশোরদের পদচারণা, সেহেতু তাদের মনে আন্তঃধর্মীয় সুসম্পর্ক বৃদ্ধিতে এর গুরুত্ব অস্বীকার করার অবকাশ নেই। সরস্বতী পুজো শুধুই বিশুদ্ধ পুজো নয়। পুজোর শাস্ত্রীয় কাজটুকুর বাইরে এর রয়েছে সম্প্রদায়-উত্তীর্ণ সার্বজনীন আবেদন। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক কর্ম বা অনুষ্ঠান যখন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত তখন শ্রীপঞ্চমীর ওই দিবসটি এক মহামিলনের দিন হিসেবেই উঠে আসে। অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হয় এ প্রাণবন্যার সঙ্গে, ধর্মীয় বিভেদ তুচ্ছ হয়ে যায় এ জোয়ারে। বিগত দিনে যখন সরস্বতী পূজো প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো, তখন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীদের পরস্পরের ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান ও শ্রদ্ধা ছিল ব্যাপক। এ দেশের সংস্কৃতি বহু ধর্ম ও মতের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। আন্ত:ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা রুদ্ধ হলে এক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায় এবং তা অন্যের জন্য অমর্যাদাকর ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হয়ে ওঠে। দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ আর সরস্বতী পূজো অনুষ্ঠিত হয় না। এমনকি রাজধানী ঢাকাতেও নয়। যদিও বহু প্রতিষ্ঠানেই সরস্বতী পূজারিরা আছে, অর্থের সংস্থানও হবে, তবু তা অনুষ্ঠিত হয় না। এর মূল কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা পরিষদের অনাগ্রহ এবং পূজারিদের অগ্রর্বতী হওয়ার সাহসের অভাব। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধর্ম নির্বিশেষে ওই প্রতিষ্ঠানের সব ছাত্রছাত্রী। বৃহৎ অংশের ছাত্রছাত্রী তার সহপাঠী বা বন্ধু বা প্রতিবেশীর ধর্মচর্চা সম্পর্কে থেকে যাচ্ছে সম্পূর্ণ অন্ধকারে। এ অন্ধকার সারাজীবন তার পিছু ছাড়বে না।
আবার একটি জিনিস গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে। সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজিতে মেতে উঠছে একটি গোষ্ঠী। যত্র তত্র সরস্বতী পূজার নাম করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তারা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিদ্যার দেবীকে আরাধনা করতে নিজের কষ্টার্জিত আয়ই যথেষ্ট-এর জন্যে মানুষের কাছে টাকা ভিক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। চাওয়া পয়সায় সাড়ম্বরে না হোক সাদামাটাভাবে নিজের সামর্থ অনুযায়ী দেবীকে আরাধনা করলেই দেবী তুষ্ট হবেন এটাই সত্য। আমাদের নৈতিকতা নষ্ট হতে হতে আমরা এত বেশী নীচে নেমে গেছি যে, পূজার নামে টাকা তুলে নিজের পকেটে ভরতেও এখন আর কুন্ঠা বোধ করি না আমরা। সরস্বতী পূজার সংখ্যা বাড়–ক এটা যেমন আমাদের কাম্য তেমনি পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন চাঁদাবাজি করে আমাদের সনাতন ধর্মের সুনামকে ক্ষুন্ন না করে সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
তারপরও আমরা নতুন আশায় স্বপ্ন বুনি। সে যার অবস্থানে থেকে যার যার প্রতিষ্ঠানে বিদ্যার দেবীকে আরাধনার চেষ্টা করি। আর এখানে মিলিত হয় জনতার স্রোত। সংহতি ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত, সার্বজনীন মিলনমেলার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে ওঠে প্রতিটি আনন্দময় পূজা প্রাঙ্গণ। সরস্বতী তখন শুধুই বিশেষ ধর্মের দেবী থাকেন না, হয়ে ওঠেন প্রশান্তির আলোকøাত অনাবিল ঋদ্ধির নাম। সরস্বতী মাতা জ্ঞান-বুদ্ধি-চেতনা দিয়ে আমাদের বিবেক জাগ্রত করুন, আমরা যেন সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে জাতি-ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে সকল হানাহানি-ভেদাভেদ ভুলে মানবতা আর মনুষ্যত্বের জয়গান গেয়ে এই পৃথিবীতে আমাদের জন্মকে স্বার্থক করতে পারি। সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা- জগতের সকল জীব সুখী হোক, কেউ যেন দু:খ ভোগ না করে। লেখক: সমাজকর্মী, কলামিস্ট, চিকিৎসক এবং সংগঠক