শেখ হাসিনার সাহিত্য ও রাজনৈতিক মানস


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ ||

মন্ময় মনির
শেখ হাসিনার সাহিত্য ও রাজনৈতিক মানস অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন আবহে তৈরী। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গড়ে উঠেছেন তিনি। পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মাতা বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনার জন্ম। প্রকৃতির নিসর্গে শৈশব কেটেছে শেখ হাসিনার। গোপালগঞ্জের পাশ দিয়ে বহমান বাইগার নদী, মধুমতি নদী। মাটি ও মানুষের মমতায় বঙ্গবন্ধু যেমন নিজেকে নির্মাণ করেছেন নিজস্ব স্বকীয়তায় তেমনি শেখ হাসিনাও নিজেকে গড়ে তুলেছেন সাবলীল ও নান্দনিক মানসিকতায়। তাই বাংলার পতাকায় ও শ্যামল প্রান্তরে শেখ হাসিনা এক উজ্জ্বল নাম। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার অবদান অনন্য। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও দৃষ্টিভঙ্গি দেশে-বিদেশে বিপুলভাবে প্রশংসিত। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন জননেত্রী শেখ হাসিনা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি বলেন, ‘আমি শাসক নই, সেবক’। ১৯৭৩ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করেন। সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বরেণ্য কবি কাজী রোজী তাঁর সহপাঠী। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মানস ও চেতনা পরিস্কার। সুগভীর জাতীয়তাবোধ, দেশপ্রেম ও ন্যায়পরায়নতা সৃষ্টিতে শেখ হাসিনার অবদান অনস্বীকার্য। শেখ হাসিনা একজন রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক। একজন মুগ্ধ পাঠকও বটে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি সংক্রান্ত বই ও সাময়ীকি তিনি নিয়মিত পড়েন। রাজনৈতিক কাজ ও রাষ্ট্রপরিচালনার সাথে সাথে তিনি অনেকগুলো বই রচনা করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ওরা টোকাই কেন (১৯৮৯), বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম (১৯৯৩), দারিদ্র্য দুরীকরণ: কিছু চিন্তা ভাবনা (১৯৯৫), বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন (১৯৯৯), বিপন্ন গণতন্ত্র, লাঞ্ছিত মানবতা (২০০২), সহে না মানবতার অবমাননা (২০০৩), সাদা কালো (২০০৭) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এজন্যে তিনি গণতন্ত্রের মানসকন্যা নামে বাঙালি জাতিতে সুপরিচিত। যা কিছু মন্দ, অকল্যাণকর, অশুভ, তার বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ সোচ্চার।
শেখ হাসিনা মানবতাবাদী, দেশপ্রেমিক, সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ, ন্যায়পরায়ন, মননশীল রাজনীতিবিদ ও লেখক। জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, দু:শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ গর্জে উঠেছে বার বার। শেখ হাসিনা উচ্চারণ করেন, ‘কিছু মুষ্টিমেয় লোক ধনসম্পদের মালিক হয়েছে, গাড়ি-বাড়ি সম্পদের চাকচিক্য বেড়েছে। কিন্তু নব্বই ভাগ মানুষই তো বঞ্চনার শিকার।’ মানবিক মূল্যবোধের দিক থেকে শেখ হাসিনার অবস্থান সুউচ্চে। তিনি যেমন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তেমনি শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন ২০০১ সালে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারী বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা তৃতীয় বারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। শেখ হাসিনা চান বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে। সেই লক্ষ্যে তিনি এগুচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছেন। বিগত ৮ বছরের মধ্যে শেখ হাসিনা একাধিকবার সাতক্ষীরায় এসেছেন। তাঁর আন্তরিকতার স্পর্শে সাতক্ষীরাতে একটি মনোরম মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাহসে-সংগ্রামে, চিন্তা-চেতনায় শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির অগ্রগামী মানুষের মধ্যে অন্যতম প্রধান। একটি রাষ্ট্রকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নিদর্শন রেখেছেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া, এরশাদ, খালেদা সকলেই নানাভাবে আওয়ামীলীগ সংগঠনকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেও এ দলটিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে নাই।’ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন অত্যন্ত সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর মূলনীতি বাংলাদেশের উন্নতি। শেখ হাসিনার দর্শন বাংলাদেশের উন্নয়ন। শেখ হাসিনার দর্শন পদ্মা সেতু নির্মাণ। শিক্ষকদের সুবিধা প্রদান, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ক্রীড়াসহ সকল ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বে দেশে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। কংক্রিটের সড়ক করার ঘোষণাও তিনি দিয়েছেন। পরিচ্ছন্নতার আবহ পরিলক্ষিত হয় শেখ হাসিনার মননে মননশীলতায়। তাঁর লেখনিতে প্রজন্মের চেতনা পরিস্কার হয়। ‘আমার চেতনার অগ্নি শিখা’Ñ নিবন্ধে শেখ হাসিনা উচ্চারণ করেন, ‘জাহানারা ইমাম যে চেতনা জাগিয়ে দিয়ে গেছেন, আজকের প্রজন্ম এতদিন যাদের মিথ্যা স্তবকে ভুলে ছিলো আজ তারা নিজেরাই নিজেদের ইতিহাসকে খুঁজে বের করবে। নিজেদের আত্মপরিচয়কে চিনে নেবেÑএচেতনা তিনি জাগ্রত করে গেছেন।’
কর্মের স্বীকৃতিসরূপ শেখ হাসিনা বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট (১৯৯৭), ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান(১৯৯৭), আবিরডিন ড্যান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৯), ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্রাসেলস, বেলজিয়াম (২০০০), ব্রিজ পোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়, কানেকটিকাট, যুক্তরাষ্ট্র (২০০০), প্যাট্রিস লুম্বাবা পিপলস্ ফ্রেন্ডশীপ বিশ্ববিদ্যালয়, মস্কো, রুশ ফেডারেশন (২০০৫) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে ‘দেশীকোত্তম’(ধরিত্রীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ), ২০০৫ সালে ফিলিপাইনের পার্লামেন্ট ‘কংগ্রেশনাল মেডেল অব এচিভমেন্ট’, পার্বত্য চট্টগ্রামের সহিংসতা বন্ধ ও শান্তি আনার লক্ষ্যে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’ সম্পাদনার জন্য ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো হুফে-বোগনি পুরস্কার প্রদান করেন। তিনি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক শান্তি পদক ২০০৯ ও কোলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার জন্য ‘ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণপদক ২০০৯’ পুরস্কারে ভূষিত হন। শেখ হাসিনা ‘বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন’ নিবন্ধে বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ, সংবিধানে সে ক্ষমতা জনতাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২১ বছর জনগণ উপেক্ষিত ছিলো।’ শেখ হাসিনার রাজনীতি মানুষের জন্য। তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনার সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার অবদান অতুলনীয়। তাঁর সময়ে মাথাপিছু আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন এক ও অভিন্ন। সবশেষে বলা যায়,শেখ হাসিনার রাষ্ট্রচিন্তা ও পরিচালনা যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন সকলক্ষেত্রে বাঙালি জাতিকে বিকাশমান ধারায় অর্ন্তভুক্ত করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার উচ্চারণ,‘… পিতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের মধ্যদিয়ে বড় হয়েছি। পিতার স্বপ্ন ছিলো বাংলার দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমি এই আদর্শ নিয়ে জনগণের সেবক হিসেবে রাজনীতি করে যাচ্ছি।’ লেখক: প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কলারোয়া উপজেলা শাখা, সাতক্ষীরা