সাতক্ষীরা নারী ও শিশু আদালত: বিচারক নেই সাত মাস, ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে বিচারক নেই দীর্ঘ সাত মাস। বর্তমানে এই আদালতে বিচারক সংকটে আড়াই হাজার মামলার জট সৃষ্টি হয়েছে। জেলার দূর-দূরান্ত হতে আসা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েও বিচার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা। গত বছর ১৩ জুলাই এ আদালতের বিচারক আবু মুনছুর মো. জিয়াউল হক বদলী হলে এখানে শুন্যতার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতরেন স্পর্শকাতর মামলাগুলোর দ্রুত নিস্পত্তির জন্য ২০০০ সালে সাতক্ষীরায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালত স্থাপিত হয়। জেলার ৮টি থানার মামলা নিষ্পত্তিতে একটি মাত্র আদালত থাকায় চাপ ছিল শুরু থেকেই। তার পরও গত সাত মাস ধরে বিচারক না থাকায় এখানে সৃষ্টি হয়েছে মামলা জট। ভোগান্তিতে পড়েছে এ আদালতের বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ। মামলার বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা জানান, ভোগান্তি এড়াতে নারী ও শিশু আদালতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংখ্যক মামলার শুনানী জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো. আমিরুল ইসলাম এর আদালতে করা হচ্ছে। কিন্তু পাশাপাশি উক্ত বিচারকের নিজের আদালতের মামলার শুনানী করতে হচ্ছে। একজন বিচারকের পক্ষে প্রতিদিন এতগুলো মামলার শুনানী করা আত্যান্ত দূরহ। দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় জেলার শ্যামনগর ও আশাশুনি সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী ও শিশু আদালতের বিচারপ্রার্থীরা দিনেরপর দিন শুনানীর তারিখ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের স্পেশাল পিপি জহুরুল হায়দার বাবু জানান, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি এড়াতে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে বিচারক নিয়োগ দেয়া জরুরী।
আদালত সংশ্লিষ্ঠ অপর একটি সূত্র জানান, সাতক্ষীরার নারী ও শিশু আদালতে গত জানুয়ারীর শেষে মোট মামলা ছিল ২৪১৫টি। এর মধ্যে নারী-শিশু মামলা ১৮৫০টি, কোর্ট পিটিশন মামলা ৪২৮টি, মানব পাচার মামলা ১৩৫টি এবং সিভিল রিভিশন মামলা ২টি। আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ জানান, জেলায় একটিমাত্র নারী শিশু কোর্ট হওয়ায় প্রায় আড়াই হাজার মামলার জট সৃষ্টি হয়েছে এখানে। বিচারপ্রার্থী মানুষের হয়রানী এড়াতে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দেয়া জরুরী।