প্রাইভেট কারের ধাওয়ায় ‘দুর্ঘটনা’য় পড়লেন সাংবাদিক মামুন


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭ ||

ন্যাশনাল ডেস্ক:

কালো কাঁচের একটি প্রাইভেট কারের ধাওয়া খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলসহ ‘দুর্ঘটনা’য় পড়েন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি অবজাভারের অপরাধবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মামুনুর রশীদ। এতে তিনি গাড়িচাপা থেকে রক্ষা পেলেও মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে কাওরান বাজার আন্ডারপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি মামুনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে সেগুনবাগিচা ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েন (ক্র্যাব) অফিসে যাচ্ছিলাম। ফার্মগেট পৌঁছার পর থেকেই একটি কালো কাঁচের প্রাইভেটকার আমার পিছু নেয়।’
মামুনুর রশীদ আরও বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করলাম, একটি প্রাইভেট কার আমাকে অনুসরণ করছে। বেশ কয়েকবার চাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি কারটিকে পাশ কাটিয়ে চলে আসি। কাওরানবাজার আন্ডারপাসের (প্রজাপতি গুহা) কাছাকাছি আসার পর আবারও আমাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে গাড়িটি। আমি দ্রুত পাশ কাটাতে গেলে সামনে একটি শিশুকে দেখতে পাই। শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে প্রায় ৬০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ি এবং মারাত্মক আহত হই।’
কী কারণে প্রাইভেট কারটি তাকে ধাওয়া করেছে জানতে চাইলে মামুন বলেন, ‘আমি বিভিন্ন সময় মাদক ও সন্ত্রাসীদের নিয়ে সংবাদ করেছি। আমি জানি না, এ কারণেই আমার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে কিনা। তবে মনে হচ্ছে, এটিও একটি কারণ হতে পারে।’
ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাংবাদিক মামুনুর রশীদ ডান হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পোস্ট অপারেটিভ কেয়ার ইউনিটে রয়েছেন তিনি। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গেছে।
জানা যায়, ২৩ জানুয়ারি ডেইলি অবজারভারে ‘পুলিশ অ্যাওয়েট পিএম’স অর্ডার টু ক্র্যাকডাউন অন ড্রাগ লর্ডস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে সরকার দলীয় চারজন সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও প্রতিবেদক মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। জাতীয় সংসদেও তিনি ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। নিজাম উদ্দিন হাজারী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও বিষয়টি নিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সমালোচনা করেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে নিজাম হাজারীর মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক আখতারুল হক মোবাইলে বলেন, ‘বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। যেহেতু মামলা দায়ের হয়েছে এবং আমাদের ওপর হুমকি-ধামকি চলছে, তাই এ ধরনের ঘটনায় সন্দেহ জাগেই। আমরা পুলিশকেও বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে বলেছি। এটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা না হয়ে উদ্দেশ্যমূলক কিছু হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাংবাদিক মামুনুর রশিদের দুর্ঘটনা বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী  বলেন, ‘এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যমূলক ঘটনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা চাই এটি নিছক দুর্ঘটনাই হোক। এটি উদ্দেশ্যমূলক হলে দুর্ভাগ্যজনক হবে। মামুনুর রশিদের প্রতিবেদন নিয়ে একটি মামলা হয়েছে। এমন সময়ে এ ধরনের একটি হামলা ও দুর্ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।’