জাতীয় ভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হলে বন সুরক্ষায় জনগন উদ্বুদ্ধ হবে


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭ ||

প্রকাশ ঘোষ বিধান
সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্য। সুন্দরবন বাংলার গর্ব, বিশ্বের গৌরব। জগৎসেরা ও জীব বৈচিত্রের আধার এই বন বাঙালী জাতির গর্ব। বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসভূমি এই সুন্দরবন। জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে ৭৯৮ তম বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা হিসাবে ঘোষনা করে। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির পর থেকে এই সুন্দরবন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী সহ বিশ্ববাসীর আগ্রহের শেষ নেই। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিশাল প্রাকৃতিক বন সুন্দরবন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০ হাজার ২ শত ৮০ বর্গ কিঃ মিঃ। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৬ হাজার ১৮ বর্গ কিঃ মিঃ। এ বনের প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী সহ রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতি গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতি শৈবল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানর, শুকর, গুইসাপ সহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রানী। ৩ শত’র বেশী নদী ও খালে কুমির, হাঙ্গর, ডলফিন সহ ২৯১৭ প্রজাতির মাছ। বনে জালের মত বিছিয়ে আছে প্রায় ৪৫০ টি ছোট বদ্ধ নদী ও খাল। প্রানী ও বৃক্ষের বৈচিত্রের সমাহার এই বন বৈজ্ঞানিক, নৃতত্ব ও প্রতœতাত্বিক বিবেচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। বিশ্বে বিরল প্রজাতির বাঘ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসভূমি এই সুন্দরবনে। বাংলাদেশে মোট বনাঞ্চলের ৪৪ শতাংশ জুড়ে থাকা এ বনের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। মূল্যবান প্রানীজ, জলজ ও বনজ সম্পদ মিলে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের আঁধার। এই সুন্দরবন শুধু জীব বৈচিত্রের উৎস নয়, একই সাথে বন সংলগ্ন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকার উৎস হিসাবে অবদান রাখছে। কাঠ, মধু, মৎস, অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরনের মাধ্যমে ৫-৬ লাখ মানুষ প্রায় সারা বছর জীবিকার জন্য সরাসরি সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল।
১৪ ফেব্রুয়ারী সুন্দরবন দিবস। সুন্দরবন মায়ের মতন। বিশ্ব ভালবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন। এই প্রতিপাদ্যের মধ্যে দিয়ে খুলনা ও সুন্দরবন সংলগ্ন জেলার উপজেলাগুলোতে ১৪ ফেব্রুয়ারী আঞ্চলিকভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হচ্ছে। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী খুলনায় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারী সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ও উপজেলাগুলোতে সুন্দরবন দিবস পালন করা হয়। সুন্দরবন সুরক্ষায় ২০০১ সালে সুন্দরবন একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংগঠনটির কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। এ বছর দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও যশোর সহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন সংগঠন সুন্দরবন দিবসটি পালন করছে।
উপকুল আঞ্চলে মানুষের জীবন প্রবাহের সাথে সুন্দরবন আবর্তিত। আবহমান কাল সুন্দরবনের সাথে মানুষের নিবীড় ঘনিষ্ঠতা। এই অর্থে সুন্দরবনের ভাল-মন্দ এ অঞ্চলের মানুষকে নাড়া দেয়। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর, ২০০৮ সালের ২৫ মে আইলা সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুন্দরবন মায়ের মত উপকুলবাসীকে আগলে রেখেছে। সুন্দরবন এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সুন্দরবন দিবসে আলোচনায় অতিথিবৃন্দ, বিশেজ্ঞরা ও সুন্দরবন প্রেমীদের জোরালো দাবি জাতীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালন করা হোক। এ কোন আবেগ নয়, বাস্তবতায় অত্যন্ত যৌক্তিক। এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষনে বন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেই চলেছে। তাই এ বন জীব বৈচিত্রকে সংরক্ষনের জন্য এখন প্রয়োজন সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। প্রকৃতি প্রেমীদের পদচারনায় মুখরিত হবে সুন্দরবন। বিকশিত হবে পরিবশে মান্ধব পর্যটন শিল্প। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন বাড়বে এবং দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। সরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হলে সুন্দরবনের গুরুত্ব আরো বাড়বে। এর সাথে সকলে সচেতন হবে সুন্দরবন সু-রক্ষায়।