কলারোয়ায় বজলুর রহমান টি-২০ ক্রিকেট ব্লু-ভাইপার্স মাহিন ক্রিকেটার্সের জয়লাভ

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ৭ম বজলুর রহমান স্মৃতি টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় খেলায় জয়লাভ করেছে ব্লুভাইপার্স মাহিন ক্রিকেটার্স, যশোর। রোববার কলারোয়া ফুটবল ময়দানে এমআর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের অর্থায়নে এবং এমআর ফাউন্ডেশন, পাবলিক ইনস্টিটিউট ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের এই খেলায় ব্লুভাইপার্স মাহিন ক্রিকেটার্স, যশোর ২ উইকেটে সাতক্ষীরা সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমিকে পরাজিত করে। প্রথমে ব্যাটিং করে সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমি, সাতক্ষীরা নির্দিষ্ট ওভারে ৮ উইকেটে মাত্র ১৪৭ রান তুলতে সমর্থ হয। ১৪৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিং এ নেমে ব্লুভাইপার্স মাহিন ক্রিকেটার্স ১৯.৩ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ বিবেচিত হয়েছেন বিজয়ী দলের ফিরোজ। খেলা পরিচালনা করেন আম্পায়ার মিয়া ফারুক হোসেন স্বপন ও মাসউদ পারভেজ মিলন। খেলার চলতি ধারাবিবরণী দেন মাস্টার শেখ শাহাজাহান আলি শাহিন ও মাস্টার আব্দুল ওহাব মামুন। আজ সোমবার একই ভেন্যুতে টুর্নামেন্টের তৃতীয় খেলায় পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে সাতক্ষীরা বলাকা ক্রীড়া চক্র ও কলারোয়া ক্রিকেট একাডেমি।

বড়দল ইউপিতে কর্মসূচির পুরাতন তালিকাভূক্তদের বাদ দেয়ার অভিযোগ

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নে কর্মসূচির কাজের নতুন তালিকায় পূর্বের তালিকা ভূক্তদের নাম বাদ দেয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বঞ্চিতদের পূর্নঃবহালের দাবিতে ইউএনও বরাবর আবেদন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপওজলার বড়দল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পুরাতন তালিকাভূক্ত উপকার ভোগিদের পক্ষে কর্মসূচীর কাজের সর্দার রবীন্দ্র নাথ কর্তৃক লিখিত আবেদনে জানাগেছে, ফকরাবাদ গ্রামের জোসনা খাতুন, বাক্কার সরদার, রহমান সরদার, গফুর গাজী, সালাম গাজী, সাবহান গাজী, হরিশ চন্দ্র মন্ডল, মিরা ঢালী, আয়শা খাতুন, আছাদুল গাইন, ফুলমালা মন্ডল, বুড়িয়া গ্রামের শেফালী বেগম, আনছার গাজী, রবীন রায় ও খুকুমনি পুরাতন তালিকাভূক্ত উপকারভোগি এবং অত্যান্ত অসহায় ব্যক্তি। নতুন তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা সরকারি নীতিমালায় উপকারভোগি নির্বাচন ৩.৭ এর অনুচ্ছেদের নির্দেশনা মোতাবেক অন্তঃর্ভূক্তির জন্য দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া ৬ নং বাইনতলা ওয়ার্ডের ৯ জন উপকারভোগি একই দাবিতে ইউএনও বরাবর আবেদন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল আমীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নতুন তালিকা প্রনয়নের ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা, পরিষদের চেয়ারম্যান বা মহিলা মেম্বর জানে, তবে নতুন তালিকায় অদ্যবধি আমি স্বাক্ষর করিনি। উপজেলা নির্বাহি অফিসার সুষমা সুলতানা জানান আবেদন পেয়েছি, বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাগুরা ফুলবাড়িতে ভূমিহীন সমাবেশ

ভুমি খাসজমি ভূমিহীনদের মাঝে বন্দবস্ত করে দেওয়ার দাবিতে সদর উপজেলা মাগুরা ফুলবাড়িতে জেলা ভুমিহীন উন্নয়ন সমিতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকালে মাগুরা ফুল বাড়িতে ভুমিহীন সমাবেশে জেলা ভূমিহীন উন্নয়ন সমিতি সহ-সভাপতি মো. তৌহিদুজ্জামান তোতা সভাপতিত্বে প্রধান অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক কালের চিত্রর প্রকাশক ও সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জেলা ভুমিহীন উন্নয়ন সমিতির সভাপতি আ. সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক আ. সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার নজরুল ইসলাম লাবসা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক রহমত আলি, ভুমিহীন উন্নয়ন সমিতি সহ সভাপতি মফিজুর রহমান; আতিয়ার রহমান,যুগ্ন সম্পাদক ওমর ফারুক, কোষাধক্ষ মনিরুজ্জামান টুটুল, কৈখালীর সমাজ সেবক মুজিবর রহমান, মেম্বর জমির উদ্দীন, হান্নান, গোলাম কিবরিয়া, প্রমূখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইনতাজ আলী মোড়ল। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মৎস্য চাষকে আরও এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যায়ে চাষীদেরে মূল্যায়ন করতে হবে: এডিএম সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফিসারী প্রোডাক্ট্ বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (এফপিবিপিসি) এর অর্থায়নে ও সহযোগিতায় ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ফোয়াব) কর্তৃক আয়োজনে গলদা চিংড়ি চাষের সাথে অপ্রচালিত মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা শীর্ষক এক দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফোয়াব’র সভাপতি মোল্লা সামসুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, আলহাজ্ব সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ। তিনি তার বক্তবে বলেন মৎস্য চাষকে আরও এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যয়ে চাষীদেরে মূল্যায়ন করতে হবে, তাদেরকে সরকারি পৃষ্টপেশকতার পাশাপাশি ফোয়াবকে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধান অতিথি আরও বলেন চিংড়ি চাষিদের কল্যানে বর্তমান সরকার ব্যাপক কাজ করে চলেছে। কর্মশালার উদ্ধোধন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খন্দকার হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সরদার, সহকারি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব এর সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, কালিগঞ্জের তারালি ইউ.পি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, ভোমরা ইউ.পি চেয়ারম্যান ইসরাইল বিশ্বাস, চেয়ারম্যান মজনু মালি। মৎস্য চাষী ও সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শিমুলের সঞ্চলনায় কর্মশালায় অংশগ্রহনকারীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতারন করা হয়। এসময় অন্যান্যদেও মদ্ধে উপস্থিত ছিলেন পলাশ কুমার ঘোষ, প্রোগ্রাম সহকারী (এপিবিপিসি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শেখ শাকিল হোসেন, সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ফোয়াব, কৃষিবিদ মূরশীদা পারভীন পাপড়ি সাংগঠনিক সম্পাদক ফোয়াব, রওশনারা ইয়াছমিন মো. শামীম গাজী সচিব ফোয়াব, কর্মশালায় মৎস্য চাষি, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ কর্মশালায় অংশগহন করেন।

প্রখ্যাত বামপন্থী নেতা কমরেড হাফিজুর রহমান ভুঁইয়া আর নেই, তিন দিনের শোক কর্মসূচি

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পাটকল-সুতাকল-বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক, বর্ষীয়ান মার্কসবাদী রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া আর নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ২.৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ এ তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ কন্যা, ২ পুত্র, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তিনি ভারতের নয়াদিল্লীর বিএলকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে আসা হয়।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ষাটের দশকে খুলনার বিএল কলেজে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম পাস করার পর পার্টির নির্দেশে তিনি শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে তিনি খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিলের শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করেন। ১৯৬৯ সালে খুলনার অগ্নিগর্ভ শ্রমিক আন্দোলন থেকে শুরু করে দীর্ঘকাল তিনি পাটকল শ্রমিক সহ শ্রমিক আন্দোলনের সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।
হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুসংবাদ শুনে রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি। এ খবরে পুরো পার্টি ও দেশের শ্রমিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুর রব ভূঁইয়া ও মাতার নাম তহুরুন্নেছা। ১৯৫৯ সালে ফুলতলা রি-ইউনিয়ন হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬০-৬১ সালে দৌলতপুর বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ। ছাত্রাবস্থায় তিনি ফুলতলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ কালিপদ ঘোষের হাত ধরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। এ সময় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় প্রকাশ্যে ভাসানী ন্যাপের রাজনীতি করতেন। ১৯৬৩ সালে খুলনা আযম খান কমার্স কলেজ থেকে বিকম পাস করেন এবং ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম পাস করে কর্মজীবনের শুরুতে বটিয়াঘাটা ডেউয়তলা হাই স্কুলে ৬ মাসের জন্য প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কমরেড নজরুল ইসলামের প্রেরণায় ১৯৬৬ সালের ১১ এপ্রিল শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হয়ে খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে ঐ মিলের এমপ্লয়িজ ইউনিয়নে বারবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এছাড়া আলিম ও ইস্টার্ন জুট মিলস মজদুর ইউনিয়নে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বহুবার বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দিতে চাইলেও তিনি শ্রমিক আন্দোলনের স্বার্থে পদোন্নতি নেন নি। এমনকি আশির দশকের প্রথম দিকে ডিজিএম পদে লোভনীয় পদোন্নতি প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭০ সালের প্রথমদিকে পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন। দেশ স্বাধীনের পর লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮ সালে ইউপিপি-তে এবং ১৯৮৫ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির এক অংশের কেন্দ্রীয় সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (নজরুল) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগÑ এই দুই পার্টির ঐক্যের মধ্যদিয়ে ১৯৮৮ সালে গঠিত ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল একত্রিত হয়ে ১৯৯২ সালে তিন পার্টির ঐক্য কংগ্রেসের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খুলনা জেলা সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমরেড হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ২০০৫ সালে যশোরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির সপ্তম কংগ্রেসে পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৫ সাল থেকে অদ্যবধি তিনি পার্টির খুলনা জেলা সভাপতি ছিলেন। একই সাথে তিনি জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
তাঁর বর্ণাঢ্য আন্দোলনমুখর জীবনে রক্ষীবাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতন ও কারাভোগসহ বিভিন্ন সময় ও মেয়াদে ৫ বার কারাভোগ করেন। শ্রমিক নেতৃত্ব ছাড়াও ১৯৯৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্টির প্রার্থী এবং ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে ফুলতলা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন। তিনি পাট-সুতা-বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন কমিটির সদস্য, খুলনা-যশোর পাট শিল্প সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক, বিল ডাকাতিয়া সংগ্রাম কমিটি, পানি ঠেকাও ফুলতলা বাঁচাও আন্দোলন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলন, খুলনা শিল্প কারখানা রক্ষা ও মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন, বিভিন্ন সময় সা¤্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, স্বৈরাচারী-দু:শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলের শ্রমিক আন্দোলনের রূপকার হিসেবে খালিশপুরসহ দেশব্যাপী আন্দোলনের চালিকা শক্তি হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে ফুলতলা এমএম কলেজ, ফুলতলা মহিলা ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। জামিরা বাজার আসমোতিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ফুলতলা রি-ইউনিয়ন হাইস্কুল, দামোদর মুক্তময়ী হাই স্কুল, ফুলতলা মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও ফুলতলা এমএম কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, ফুলতলা লিটল এ্যাঞ্জেল কিন্ডার গার্টেনের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তিন দিনের শোক
হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের সকল কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে।
ঢাকায় ও মঙ্গলবার খুলনায় শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন
প্রয়াত হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার মরদেহ আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় তাঁর মরদেহ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে (৩১/এফ, তোপখানা রোড) আনা হবে। পার্টি কার্যালয় চত্বরে সকাল ৯.৩০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। আজ বেলা ১২টায় তাঁর মরদেহ নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হবে। রাতে মরদেহ রাখা হবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরচুয়ারিতে।
১৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খুলনার শহিদ হাদিস পার্কে তাঁর মরদেহ রাখা হবে। সেখানে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সকাল ১১.৩০টা থেকে বেলা ১২.৩০টা পর্যন্ত খালিশপুর প্লাটিনাম জুট মিল ময়দান, বেলা ১টায় দৌলতপুর শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ইস্টার্ন জুট মিল, ফুলতলা পার্টি কার্যালয়, ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ আসর ফুলতলা ডাবুর মাঠে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। পরে উপজেলা সরকারি কবরস্থানে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হবে।
সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ’র শোক
হাফিজুর রহমান ভূইয়া’র মৃত্যুতে শোক বিবৃতি প্রদান করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ তালা কলারোয়া থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রয়াত হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বাংলাদেশের বাম প্রগতিশীল রাজনীতি ও শ্রমিক আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। তিনি পাটকল শ্রমিক বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের পাটকল শ্রমিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে আমৃত্যু ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর আপোসহীন নেতৃত্বে দেশের পাটকল শ্রমিকরা বহু আন্দোলনে বিজয় অর্জন করেছেন। শ্রমিকদের দাবিদাওয়া আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি বহুবার কারবরণ করেছেন। এমন এক মহাপ্রাণ নেতার মৃত্যু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন এবং শ্রমিক আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এই আমৃত্যু বিপ্লবী নেতার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।’
ওয়ার্কার্স পার্টি’র সাতক্ষীরা জেলা কমিটির বিবৃতি
হাফিজুর রহমান ভূইয়া’র মৃত্যুতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা কমিটি শোক বিবৃতি প্রদান করেছে। শোক বিবৃতি প্রদান করেছেন পার্টির সাতক্ষীরা জেলা কমিটি’র সভাপতি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল্ল্যাহ মোড়ল, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সাবীর হোসেন, ফাহিমুল হক কিসলু, ময়নুল হাসান, জেলা কমিটি’র সদস্য আব্দুল জলিল মোড়ল, নাসরিন খান লিপি, সরদার রফিকুল ইসলাম, স্বপন কুমার শীল, নির্মল সরকার, পাল শুভাশীষ ও মফিজুল হক জাহাঙ্গীর।
বিবৃতিতে পার্টির জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের প্রখ্যাত বামনেতা ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য হাফিজুর রহমান ভুইয়া ছিলেন এদেশের শ্রমিকশ্রেণী’র সকল আন্দোলনের পুরোধা নেতৃত্ব তার মৃত্যুতে জাতি একজন ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবীদকে হারালো। পার্টির সকলস্তরের নেতাকর্মীরা তার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন জেলা কমিটি’র শোক
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পাটকল-সুতাকল-বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান ভূইয়া’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন’র সাতক্ষীরা জেলা কমিটি’র সভাপতি ফাহিমুল হক কিসলু, সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, আবুল খায়ের, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুল হোসেনসহ জেলা কমিটি’র সকল নেতৃবৃন্দ।

চাম্পাফুল এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন

চাম্পাফুল (কালিগঞ্জ) প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলার নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর আহমেদ মাছুম চাম্পাফুল ইউনিয়নের এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র চাম্পাফুল আ.প্র.চ. মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ পরিদর্শন করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি গণিত পরীক্ষার দিন তিনি আকস্মিক এ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং পরীক্ষা মনোরম পরিবেশ সুন্দর হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন। গণিত পরীক্ষায় মোট ৪৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪৩৬ জন। অনুপস্থিত ৩ জনই ছাত্রী। এ সময়  আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. জহুরুল ইসলাম, কেন্দ্র সচিব বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স. ম. আবুল খায়ের, কুন্দুড়িয়া পি.এন. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহকারী সচিব মো. আরিফুল ইসলাম, বি.টি.জি.আর. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহকারী সচীব মো. ফারুক হাসান, মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হল সুপার সুব্রত কুমার বৈদ্য, চাম্পাফুল আ.প্র.চ. মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের সিনিয়র শিক্ষক সহকারী হল সুপার উদয় ভাস্কর ব্যানার্জী, কম্পিউটার শিক্ষক মো. আবু হাসান প্রমুখ।

দরগাহপুর পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বহিস্কার ও ৪ জন শিক্ষকের অব্যাহতি

দরগাহপুর (আশাশুনি) প্রতিনিধি: এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন আশাশুনির দরগাহপুর (২৫৯) নং কেন্দ্রে ১নং ভেন্যুতে ১৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। যাদের রোল নং-৫১০১৬২, ১০৬৮৩৬, ১০৬৮৭৫, ১০৬৮৭৩, ২১৪৭৪৯, ২১৪৭০৩, ২১৪৭৪৫, ২১৪৭২৮, ২১৪৭০৪, ২১৪৭০১, ২১৪৭০০, ২১৪৭৩১ এবং ২১৪৭০২। জানা গেছে, একই সেট কোড মিল থাকায় অর্থাৎ বহু নির্বাচনী প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ওএমআর শীটের উত্তর সংগতি না থাকায় ওই ১৩ জন পরীক্ষার্থীকে আগামী অনুষ্ঠেয় পরীক্ষাগুলো থেকে তাদের বহিস্কার করা হয়। এছাড়া কর্তব্য অবহেলার কারণে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক হরেন্দ্রনাথ মন্ডল, উৎপল কুমার মন্ডল, মো. ছাবিলুর রাশেদ ও রসময় কুমার মন্ডলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এই ৪জন শিক্ষককে আগামী পরীক্ষা সমূহের কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রাপ্ততথ্য থেকে জানাযায়, রবিবার গণিত পরীক্ষা চলাকালীন সময় প্রথম পর্বে বহু নির্বাচনী পরীক্ষার ২৮ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার সময় নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট আবু তালেব পরীক্ষা কেন্দ্রের ১নং ভেন্যুতে পরিদর্শনের সময় ২টি কক্ষের ছাত্রীদের ওএমআর শীটের মধ্যে সেট কোড অমিল দেখতে পান। যে কারণে তাদেরকে বহিস্কার করা হয়। উল্লেখ্য, বহিস্কার ছাত্রীর অভিভাবকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বলেন, শিক্ষকদের অসচেতনা ও গাফিলতার কারণে কোমলমতি ছাত্রীদের জীবনে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। এ ছাত্রীদের দায়ভার কর্তৃপক্ষ শিক্ষকের বহন করতে হবে।

কলারোয়ায় মুক্তিযোদ্ধা মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় মুক্তিযোদ্ধা মেধাবী সন্তনদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে কলারোয়া এমআর ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমআর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান।
উপজেলার ১৮জন মেধাবী মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মাঝে ১হাজার টাকা করে মোট ১৮হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, ডেপুটি কমান্ডার আবুল হোসেন, সাংগঠনিক কমান্ডার সৈয়দ আলী, পাবলিক ইন্সটিটউটের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আবুল খায়ের, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, দপ্তর সম্পাদক এমএ সাজেদ, রিপোটার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাবলিক ইন্সটিটউটের সাধারণ সম্পাদক এড. শেখ কামাল রেজা। মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের অর্থায়নে এমআর ফাউন্ডেশন এ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করে।

কলারোয়ায় অস্ত্রসহ তিন ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় অস্ত্রসহ তিন ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। রবিবার ভোররাতে পৌরসভাধীন গোপিনাথপুর এলাকার গোপাল পোদ্দারের মাছের ঘের থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলো-গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে কবিরুল ইসলাম (৩৪), গোপাল পোদ্দারের ছেলে সুমন কুমার পোদ্দার (২১) ও মুরারীকাটি গ্রামের মৃত আজিজ মোল্লার ছেলে আশরাফুজ্জামান বাবু (৩০)। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এস.আই রফিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে ওই মাছের ঘের থেকে একটি ওয়ান শুটারগানসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওসি এমদাদুল হক জানান, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে অবৈধ অস্ত্র রাখার বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আশা করছি।
এ ব্যাপারে কলারোয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: মা বিশাখার পারুলিয়ায় ভারতীয় নাগরিক প্রতারণা করছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় নাগরিক বড় ছেলে বাংলাদেশে এসে তার ছোট ছেলেদের সাথে প্রতারনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ার বিশাখা ঘোষ। তাদের পৈত্রিক জমি আগেই বন্টন হবার পরও সে ওই জমি অন্যত্র বিক্রির পাঁয়তারা করছে। রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন ওই গ্রামের মৃত অজিত ঘোষের স্ত্রী বিশাখা। বাংলাদেশে থাকা দুই ছেলে শংকর ঘোষ ও রতন ঘোষ বাপ্পিকে সাথে রেখে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন ১৯৯৯ সালে তার স্বামী অজিত ঘোষ মারা যান। তার আগে তার বড় ছেলে স্বপন ঘোষ ভারতের দক্ষিণ আখড়াখোলায় বসবাস করে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহন করেন।(পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নম্বর ২১৫/ঔঐঘ ২৬৭৩২০০)। তিনি জানান স্বামীর মৃত্যুর পর পারিবারিক জমির ভাগ নিতে এলে তাকে তার প্রাপ্য ১১ বিঘা জমির বিপরীতে ৩লাখ ৭০হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং অবশিষ্ট এক লাখ ২০হাজার টাকা পরিশোধের পর জমি রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। কিন্তু বড় ছেলে ভারতীয় নাগরিক স্বপন ২০০৭ সালে গোপনে পারুলিয়ার স্বরজিত ঘোষের কাছে জমি বিক্রির চেষ্টা করে। এ নিয়ে বিরোধের জেরে স্বপনের ইন্ধনে স্বরজিত ও তার ছেলে দীপংকর তার ছেলে বাপ্পিকে মারপিট করে। ২০১২ সালে ওই জমির নিলাম খরিদ করেন বিশাখার ছেলের বউ নমিতা ঘোষ। এই জমি দখলের লক্ষ্যে পারুলিয়া ইউনিয়নে ভোটার হতে না পেরে দেবহাটার নোয়াপাড়া ইউনয়নের হাদিপুরে যেয়ে ২০১৬ সালে ভোটার হয়ে( ভোটার নম্বর ৭৪৪ ওয়ার্ড নম্বর ৫) ভারতীয় নাগরিক স্বপন ঘোষ নিলাম হওয়া জমি উদ্ধারের লক্ষ্যে আদালতে মামলা করে।
বিশাখা ঘোষ অভিযোগ করে আরও বলেন স্বপন মিথ্যা নাটক বানিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় রিপোর্ট করিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেদিন আদালত চত্বরে স্বপন ও বাপ্পির মধ্যে কোনো ধরনের মারামারি হয়নি। স্বপন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে  ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে।

ব্র্যাকের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে হেয়ারিং এইড ও চশমা বিতরণ

১২ ফেব্রুয়ারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফার্নিচার ও টেলারিং এন্ড ড্রেস মেকিং ট্রেডের প্রতিবন্ধী পাঁচ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে ৪টি হেয়ারিং এইড ও ১টি চশমা প্রদান করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন (সজল) এসব উপকরণ বিতরণ করেন। জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে কর্মসূচি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সকল বিষয় অবগত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা ব্যবস্থাপক (দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি) সাতক্ষীরা দীপক কুমার অধিকারী, কর্মসূচি সংগঠকদ্বয় সুজাউদ্দিন ইসলাম ও স্বপ্না দাশ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সহায়তা প্রদানের জন্য ব্র্যাকের প্রশংসা করেন এবং ব্র্যাকের সকল কাজে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কমরেড হাফিজুর রহমান ভুইয়া চির বিদায় মঙ্গলবার বেলা ১০টায় শহীদ হাদিস পার্কে জানাজা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

পত্রদূত ডেস্ক: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য, খুলনা জেলা পার্টির সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও পাট-সুতা-বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক, মার্কসবাদী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা হাফিজুর রহমান ভূইয়া (৭৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ’র ১৬নং বেডে আজ ১২-০২-২০১৭ রবিবার, দুপুর ২:৪৫ টায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুর রব ভূইয়া ও মাতার নাম তহুরুন্নেছা। ১৯৫৯ সালে ফুলতলা রি-ইউনিয়ন হাই স্কুল থেকে এস এস সি, ১৯৬০-৬১ সালে দৌলতপুর বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রবেশ এবং ছাত্র অবস্থায় ফুলতলার প্রবীন রাজনীতিবিদ কালিপদ ঘোষের হাত ধরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। এ সময় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় ভাষানী ন্যাপের রাজনীতি করতেন। ১৯৬৩ সালে আযমখান কমার্স কলেজ থেকে বি কম পাশ করেন এবং ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম কম পাশ করে কর্মজীবনের শুরুতে বটিয়াঘাটা ডেউয়তলা হাইস্কুলে ৬ মাসের জন্য প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কমরেড নজরুল ইসলামের প্রেরণায় ১৯৬৬-র ১১ এপ্রিল, শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হয়ে খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলে চাকুরিতে যোগদান করেন। চাকুরির সুবাদে ঐ মিলের এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নে বার বার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এছাড়া আলিম ও ইষ্টার্ণ জুট মিলস মজদুর ইউনিয়নে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বহুবার বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ পদোন্নতি দিতে চাইলেও তিনি শ্রমিক আন্দোলনের স্বার্থে পদোন্নতি নেননি, এমনকি ৮০ দশকের প্রথম দিকে ডিজিএম পদে লোভনীয় পদোন্নতি প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭০ সালের প্রথমদিকে পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন। দেশ স্বাধীনের পর লেলিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮ সালে ইউপিপি-তে এবং ১৯৮৫ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির এক অংশের কেন্দ্রীয় সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন, এরপর ‘বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (নজরুল)’ ও ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ’ এই দুই পর্টির ১৯৮৮ সালে গঠিত ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল একত্রিত হয়ে ১৯৯২ সালে ৩ পার্টির ঐক্য কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির খুলনা জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য হন। ২০০৫ সালে যশোরে অনুষ্ঠিত সপ্তম পার্টি কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে পলিট ব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৫ সাল থেকে অদ্যাবধি পার্টির খুলনা জেলা সভাপতি ছিলেন। তার বর্ণাঢ্য আন্দোলনমুখর জীবনে রক্ষীবাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতন ও কারাভোগসহ বিভিন্ন সময় ও মেয়াদে ৫ বার কারাভোগ করেন। শ্রমিক নেতৃত্ব ছাড়াও ১৯৯৬-এর  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্টির প্রার্থী এবং ১৯৯০ ও ১৯০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন কমিটির সদস্য, পাট-সুতা-বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও খুলনা-যশোর পাট শিল্প সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক, বিল ডাকাতিয়া সংগ্রাম কমিটি, পানি ঠেকাও ফুলতলা বাঁচাও আন্দোলন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান আন্দোলন, খুলনা শিল্প কারখানা রক্ষার ও মুজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন, বিভিন্ন সময় সা¤্রাজ্যবাদ ও সম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, স্বৈরাচারী-দুঃশাসনের আন্দোলন এবং রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের শ্রমিক আন্দোলনের রূপকার হিসেবে খালিশপুরসহ দেশব্যাপী আন্দোলনের চালিকা শক্তি হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে ফুলতলা এম এম কলেজ, ফুলতলা মহিলা ডিগ্রী কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। জামিরা বাজার আসমোতিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, ফুলতলা রি-ইউনিয়ন হাই স্কুল, দামোদর মুক্তময়ী হাই স্কুল, ফুলতলা মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও ফুলতলা এমএম কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, ফুলতলা লিটল এ্যাঞ্জেল কিন্ডার গার্টেনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ কন্যা, ২ পুত্র, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
কমরেড হাফিজুর রহমান ভূইয়া দিল্লির বিএলকে হাসপাতালে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ’১৬ পেটের লিভারের টিউমার অস্ত্রপচার হয় এবং পরবর্তীতে চেক-আপের উদ্দেশ্যে ২৮ ডিসেম্বর ’১৬ তারিখে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হতে দেশ ত্যাগ করেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৩ জানুয়ারী ’১৭ থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে এবং পার্টির পলিট ব্যুরো ও পরিবারের যৌথ সিদ্ধান্তে একই চিকিৎসা দেশে থাকায় গত ১০-০২-২০১৭ শুক্রবার দিল্লি থেকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্স যোগে দেশে এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাফিজুর রহমান ভূইয়ার মরদেহ ঢাকা কেন্দ্রীয় পার্টি কার্যালয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর জন্য আজ সোমবার (১৩-০২-১৭) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাখা হবে এবং ১৪-০২-১৭ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় খুলনা শহীদ হাদিস পার্কে জানাজা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, বেলা ১২টায় খালিশপুর প্লাটিনাম ময়দানে জানাজা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি, ১২:৪৫ টায় দৌলতপুর শহীদ মিনার চত্বরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, বেলা ১:৩০ টায় ইস্টার্ণ জুট মিল শ্রমিক ময়দানে শ্রদ্ধাঞ্জলি, বেলা ২ টায় ফুলতলা উপজেলা পার্টি অফিস ও ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আছর বাদ উপজেলা ডাবুর মাঠে জানাজা অনুষ্ঠানের পর উপজেলা সরকারি কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হবে। অপরদিকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে ৭ দিনের শোক পালন এবং পার্টির কার্যালয়সমূহে পার্টি পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

থেমে নেই প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা কাকড়া শিকার

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবন উপকুলীয় প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা ডিমওয়ালা শিকারে মেতে উঠেছে জেলেরা।

 

প্রতিনিয়ত মা কাকড়া আহরন করছে বন এলাকা থেকে। এভাবেই প্রজনন কালীন কাকড়া শিকার চলতে থাকলে চিংড়ের ছেয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় মৎস্য সম্পদ অচিরেই বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশে^র অন্যতম মৎস্য সম্পদ কাকড়া প্রধান প্রজননক্ষেত্র হলো সুন্দরবন এলাকা এখান থেকে বিশে^র বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। রপ্তানিযোগ্য কাকড়া প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে প্রতি বছর জানুযারি ও ফেব্রয়ারী এই দু’মাস কাকড়া ধরা বন্ধ থাকে। কিন্তু জেলেরা মাছ ধরার পাস নিয়ে চুরি করে অবাদে ধরে যাচ্ছে ডিমওয়ালা মা কাকড়া সরাজমিনে, দেখাযায় কলবাড়ী বাজার, নিলডুমুর খেয়াঘাটে ও হরিনগর বাজারে বাজরায় ও বস্তায় করে  নিয়ে বিক্রয় করছে তারে কয়েক জন ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে জানাযায়, দাম বেশি থাকায় মালিকরা পয়ন্টের কাকড়া বাজারে বিক্রয় করছে। নিলডুমুর এলাকাবাসির কাছ থেকে জানাযায়, গাবুরা থেকে বোর্টে করে আসছে বিপুল পরিমান কাকড়া। নৌ পুলিশ ফাড়ী ও বনবিভাগকে বাজরা ও বস্তা পিছু টাকা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তারা ডিমওয়ালা কাকড়া শিকার। নৌ পুলিশ ফাড়ির এসআই মামুনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমরা সুন্দর বনের কাকড়া যাতে দিচ্ছে না। নিলডুমুর এসও বিল্লাল বলেন, আমরা ডিমওয়ালা কাকড়া ধরা ছাড় দিচ্ছিনা। সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম বলেন, মাছের পাস নিয়ে চুরি করে কাকড়া ধরছে এবং তাদেরকে ধরতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন রবিউল ইসলাম

মো. রবিউল ইসলাম বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সদস্য পদ থেকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। এছাড়া তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি দৈনিক কালেরচিত্র পত্রিকার সহ-সম্পাদক, চ্যানেল এস টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক অনির্বাণ’র সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক খবরপত্র ও সিএন বাংলা নিউজের জেলা প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কেশবপুর হতে পারে পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ মিনি চিড়িয়াখানা ভ্রমন পিয়াসীদের বাড়তি বিনোদন

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সাগরদাঁড়ীতে অবস্থিত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভুমি, বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান, ইতিহাস খ্যাত কপোতাক্ষ নদ, মোঘল স¤্রাজ্যের সৃস্মি বিজড়িত হাম্মামখানা, ভরত রাজার দেউলসহ বিভিন্ন প্রতœতত্ত্ব ভ্রমন পিয়াসীদের জন্য হতে পারে দর্শনীয় স্থান। পাশাপাশি সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীর পশ্চিমে ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর সামনে কপেতাক্ষ নদের পাড়ে অবস্থিত কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানা  দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের বিনোদন প্রিয় মানুষের বাড়তি বিনোদন। সম্প্রতি আঞ্চলিক এই চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু ও পশু-পাখির সমারহ ঘটিয়ে দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছেন চিড়িয়াখানার একমাত্র স্বত্ত্বাধিকারী আনিছুর রহমান। যার ফলে প্রতিদিন দুর-দুরান্ত হতে ছুটে আসা  ভ্রমন পিয়াসীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভুমি হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মধুপ্রেমী মানুষের বাড়তি বিনোদনের খোরাক মিটিয়ে আসছে এই  কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানা। মধুমেলা ২০১৭ সামনে রেখে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে বুলবুল, বউ কথা কও, টুনটুনি, ময়না, ঈগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এছাড়া রয়েছে অজগর, গোখরা,বানর, খরগোশ, মেছোবাঘ, শিমপাঞ্জি, কুমির, ৬পা ওয়ালা গরু, হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির জীব জন্তু। এছাড়াও চিড়িয়াখানার ভিতরে রয়েছে গাছ পালা ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান বেষ্টিত সুবিস্তৃত পার্ক। যা দর্শনার্থীদের বাড়তি বিনোদনের যোগান দিয়ে আসছে। একটু সময় পেলেই যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন  দত্তের স্মৃতি বিজড়িত তার জন্মভুমি সাগরদাঁড়ীর এই কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানাতে। আর পাশেই রয়েছে কপোতাক্ষ ফিউসার পার্ক। রয়েছে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে মির্জানগর হাম্মামখানা, ভরত রাজার দেউল। মঙ্গলকোট পাচারই গ্রামে অবস্থিত এসবি গার্ডেন ঘুরে আসতে পারে সেটাও। এছাড়াও পৃথিবী বিখ্যাত বিরল প্রজাতির কালোমুখী হনুমানকে নিজ হাতে খাওয়াতে পারেন কলা, বাদাম, পাউরুটি।
যশোর জেলা শহর থেকে ৩২ কি. মি.  খুলনা থেকে ৪৮ কি. মি. সাতক্ষীরা থেকে ৩৫ কি.মি. রাস্তা কেশবপুর উপজেলা শহর পর্যন্ত। মটর সাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস অথবা বাস যোগে আসা যায় কেশবপুরে। আর কেশবপুর থেকে মাত্র ১৩ কি. মি. দুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানা। কেশবপুর থেকে ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল অথবা ইঞ্জিন ভ্যানে ৩০/৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে অনায়াসে ২০/২৫ মিনিটে পৌছানো যায় এই কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানা ও কপোতাক্ষ ফিউসার ওয়ার্ল্ড পার্কে। আর প্রবেশ টিকেট মুল্য সাধারণের জন্য ১০টাকা, এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৫টাকায় কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানার দর্শন পাওয়া যায়। একই সাথে নাম মাত্র প্রবেশ মুল্যে মধু পল্লীতে দেখা মেলে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পৈত্রিক বসত ভিটা ও প্রসূতি স্থানসহ কবি পরিবারের যাবতীয় খুটিনাটি। পাশে পর্যটন কমপ্লেক্স ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় রাত্রি যাপনেরও রয়েছে সুব্যবস্থা। সারাদিনের ক্লান্তি অবষাদ দুর করতে সদা প্রস্তুত এই ভবনগুলি। কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানার স্বত্ত্বাধিকারী আনিছুর রহমান বলেন, তার নিজস্ব অর্থায়নে গড়া এই চিড়িয়াখানা ২০১১সাল থেকে আনন্দ পিপাসু পর্যটকদের বিনোদনের খোরাক মিটিয়ে আসছে। দর্শনার্থীদের অধিক আনন্দ দিতে প্রতি বছর তিনি থেকে নতুন নতুন জীবজন্তু আমদানি করছে সাগরদাঁড়ী কপোতাক্ষ চিড়িয়াখানায়।