শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে: রুহুল হক এমপি


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে।

উন্নয়নের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। স্বাস্থ্য বিভাগের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামীদিনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন, প্রফেসর ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে রুহুল হক এমপি দীর্ঘ ১৮মিনিট ধরে সাতক্ষীরার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তিনি যেসব উন্নয়নমূলক কাজ সরকার করেছে তার ফিরিস্তি তুলে ধরেন এবং যেসব কাজগুলো করা দরকার তারও তালিকা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আর্কষন করেন।
রুহুল হক এমপি তার নিজের উপজেলা কালিগঞ্জ এবং নিজ গ্রাম নলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, কালিগঞ্জের নলতায় আই এসটি ম্যাটস এর কাজ, কালিগঞ্জের চম্পাফুল ইউনিয়নে হাসপাতাল, তারালী ও নলতা ইউনিয়নে গ্রোথ সেন্টারের কাজ শেষ হয়েছে। সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে।
দেবহাটা উপজেলার কথা উল্লেখ করে রুহুল হক এমপি বলেন, এখানে ১৮টি সাইক্লোন সেন্টার, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যুতায়নের কথা উল্লেখ করে রুহুল হক এমপি বলেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে দেবহাটা উপজেলার শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। তবে এখানে সুপেয় পানির সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আর্কষন করেন। দেবহাটার ইছামতি নদীভাঙন রোধের জন্য তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করেন। আশাশুনি উপজেলার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে রুহুল হক এমপি বলেন, এখানে ১২৭ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা করা হয়েছে। আশাশুনি বেইলী ব্রীজটি নতুনভাবে তৈরী করা হয়েছে।  মানিকখালীতে খোলপেটুয়া নদীর ব্রীজের কাজ শুরু করার জন্য নতুন করে যে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে তা দ্রুত শেষ করার জন্য সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করেন তিনি। রুহুল হক এমপি বলেন, খুব শিঘ্র আশাশুনিতে শিল্পকলা একাডেমী ভবনের কাজ শুরু হবে। আশাশুনিতে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন তৈরী করা হয়েছে। সাতক্ষীরার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, নাভারণ হতে সাতক্ষীরা রাস্তায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা হতে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার মেরামতের কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করার কথা উল্লেখ করে রুহুল হক এমপি বলেন, সময়ের প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর কিছু নির্দেশনামূলক কথা বলতে চাই। শেখ হাসিনার সরকার স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। হাজার হাজার নতুন ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে নতুনভাবে চিন্ত-ভাবনা করার সময় এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হলে বড় বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোকে স্বায়ত্বশাষণ দিতে হবে। তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এক্ষেত্রে তিনি বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদাহরণ তুলে ধরেণ। তিনি বলেন, স্বায়ত্বশাষণ দেয়ার পর এখানে সকল বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সেবাসহ সকল বিভাগের চিত্র পাল্টে গেছে।  উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে বিভাগীয় শহর থেকে নিয়ন্ত্রন করার কথা উল্লেখ করে রুহুল হক এমপি বলেন, মন্ত্রনালয় এবং অধিদপ্তর থেকে এসকল প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক ম্যানেজমেন্ট গড়ে তুলতে পারলে সাধারণ জনগণ ভালো সেবা পাবে। মালয়েশিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলা শুরু করি, এখনও তা চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকার যদি কোম্পানির মাধ্যমে যন্ত্রপাতি তৈরী করে তা বিতরণ করে তবে তা হবে বেশ ফলোদায়ক। দেশব্যাপী হাসপাতাল মেডিকেল কলেজগুলোতে প্রায়সময়ই যন্ত্রপাতি বিকল্প থাকার দরুন চিকিৎসা ব্যাহত হয়। নিজস্ব যন্ত্রপাতি তৈরীর ব্যবস্থা থাকলে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের কথা উল্লেখ করে রুহুল হক এমপি বলেন, এই মন্ত্রনালয়ের ভালো পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিভাগে উন্নয়ন হতে পারে। সাভারে তিন মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টেকনিশিয়ান তৈরীর আমদের একটা প্রজেক্ট আছে। কিন্তু তা পুরাতন হয়ে গেছে। সাভারে বর্তমানে ৩০ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন একটা প্রজেক্ট করতে পারলে সেখানে আইসোটোপ তৈরী করা সম্ভব হবে। এখানে ক্যানসার জাতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রামে সমুদ্র গবেষনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমুদ্রের সম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এই প্রজেক্ট বেশ কাজ দেবে।
রুহুল হক এমপি বক্তব্যের শুরুতে ১৫আগষ্ট জাতীরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহধর্মিনীসহ নিহতদের এবং জেলে চার নেতা নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিন্দা জানান ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টা চালানোয়। তিনি বক্তব্যের শেষে বলেন, রুপপুরে যে নিউক্লিয়ার প্লান্ট হাতে নেয়া হয়েছে তা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে। এই নিউক্লিয়ার প্রজেক্ট স্বাস্থ্যবিভাগের উপকারে আসবে। আমি আশাবাদি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো। কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। কারণ তিনি আমাদের সকলকে একমনা করে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই শেখ হাসিনার সরকার বার বার দরকার। জননেত্রী শেখ হাসিনা না থাকলে আমরা দেশের উন্নয়ন পাবোনা। এ কথা মনে রেখেই সকলকে আগামী দিনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।