নানাবিধ অনিয়মের মধ্যে চলছে আয়েনউদ্দিন মহিলা মাদ্রাসা, দেখার কেউ নেই


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে চলছে সাতক্ষীরা সদরের আয়েনউদ্দিন মহিলা আলিম মাদ্রাসা। প্রায় এক বছর যাবৎ বিনা গভর্নিং বডিতে চলছে মাদ্রাসাটি। শিক্ষকদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করছেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

মাদ্রাসার এক অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২০এপ্রিল মাদ্রাসার অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ঐ মাদ্রাসার মনোনীত সভাপতির পদ ও অনুমোদিত গভর্ণিং বডি ভেঙে দেয়। সেই থেকে চলছে বিনা অভিভাবকে। বিলুপ্ত ওই গভর্ণিং বডি তাদের ক্ষমতার শেষের দিকে আরও যেসমস্ত অনিয়ম দূর্নীতি স্বজনপ্রীতি করেছে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ও অবাধ্যতার প্রতিকার চেয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পেশ করেছে। ইতোমধ্যেই ওই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর তুচ্ছ একটি ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় এবং ঐ একই তারিখের প্রভাষক মনিরুজ্জামানকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে তার দায়িত্বভার পালনে যে বিধি রয়েছে, তা অত্র প্রতিষ্ঠানের গভার্ণিং বডি লংঘন করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সংখ্যাঃ শিম/শা;১১/৩-৯/২০১১/২৫৬ তাং ০৬-০৬-২০১১ এবং নং শিম/শা;১১/৩-৯/২০১১/৪৮৪ তাং-০৯-০৭-২০১২ নং পত্রে বলা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষক বা উপাধ্যক্ষ না থাকলে জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমপিও ভূক্তির তারিখ, একই তারিখে এমপিও ভূক্ত হলে যোগদানের তারিখ এবং যোগদানের তারিখ একই হলে বয়সের দিক হলে বয়োজ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই বয়সের দুইজন হলে উচ্চতর শিক্ষাগতযোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষককে জ্যেষ্ঠ গণ্য করা যাবে”। উক্ত বিধি লঙ্ঘন করে মাদ্রাসার গভার্ণিং বডি গত ইংরেজি ৩০-১০-২০১৫ তারিখের সভায় প্রভাষক মাও. মনিরুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন। তার এমপিওভূক্ত হয় ০১-০৭-২০০২ তারিখে এবং তার জন্ম তারিখ ২২-১০-১৯৭৩। অথচ প্রভাষক মমতাজ খানম, সহকারী শিক্ষক আছিয়া তাহেরার জন্ম তারিখের নিরিখে সিনিয়র শিক্ষক এবং পদবির দিক দিয়ে মোতাহার হোসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রাপ্যদার। এ ব্যপারে এলাকাবাসীর পক্ষে জিয়াদ আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিধি বহির্ভূত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগকারী জানান,শিক্ষামন্ত্রনালয়ের উপরোক্ত আদেশ অনুযায়ী মাওলানা মনিরুজ্জামান কোন ভাবেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হতে পারেন না।
এছাড়া অত্র মাদ্রাসার গত ইং ৩০-১০-১৫ তারিখের সভায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ রুহুল আমিনকে  বিধি-বহির্ভূত ও অনিয়মের মাধ্যমে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (গভার্ণিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধান মালা, ২০০৯ এর প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে  ৩৩/(৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, তবে শর্ত থাকে যে “শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগ বা তাহাদের অপসারণ বা বরখস্তকরণ বা কোন শিক্ষককে বহিষ্কার সংক্রান্ত কোন আলোচ্য সূচিতে বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভূক্ত না থাকলে উহা সভায় আলোচনা করা ও সেই সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাইবে না”। অথচ ঐ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাদ্রাসার (বিলুপ্ত) গভার্নিং বডি সম্পূর্ন অন্যায় ও খামখেয়ালিপনা ও বিধি বহির্ভূতভাবে অধ্যক্ষ মোঃ রুহুল আমিনকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন। এ বিষয়ে  বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথক আরেকটি অভিযোগ করেছেন ওই মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোতাহার হোসেন।
এদিকে বাংলাদেশ মাদ্রসা শিক্ষাবোর্ড ওই মাদ্রসার গভর্ণিং বডি ভেঙে দিয়ে গত ২০-০৪-১৬ ইং তারিখে ১১৪৯ নং পত্রে এবং গত ২৭-০৯-১৬ তারিখে ১৬৮৩/২ নং পত্রে পুনরায় ঐ মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করার জন্য পুনরায় অনুরোধ করা হয়। কিন্তু অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এডহক কমিটি গঠন না করে তালবাহনা শুরু করেছেন। উল্লেখ্য, জুনিয়রকে দায়িত্ব দেওয়ায় বর্তমানে মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার অবনতি, শিক্ষার্থী হ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ দলাদলি চরম আকার ধারণ করেছে। অত্র মাদ্রাসায় ৪ জন সিনিয়র শিক্ষক থাকা স্বত্তেও জ্যেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে অর্থাৎ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সংখ্যাঃ শিম/শাঃ১১/৩-৯/২০১১/২৫৬ তারিখ ০৬-০৬-২০১১ এবং ০৯-০৭-১২ তারিখের ৪৮৪ নং পত্রের নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসার গভর্ণিং বডি (বিলুপ্ত)  ঐ মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক, মো. মনিরুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর দায়িত্ব দেন। তিনি মূলত দীর্ঘদীন যাবৎ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর দায়িত্বে থাকবেন বলে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সূত্রে বর্ণিত নির্দেশ অমান্য করে প্রকারান্তে বোর্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন বলে জানান ওই মাদ্রাসার অন্য আরেকজন অভিভাবক। ইতোমধ্যেই তিনি শিক্ষা মন্ত্রী বরাবর ভারপ্রাপÍ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণসহ আইনগত ব্যবস্থার জন্য অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে চলেছেন। উল্লেখ্য মাদ্রাসার কমিটি না থাকায় শিক্ষকদের বেতন বিলে কখনও জেলা প্রশাসক কখনও উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বাক্ষর করছেন। এব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিষ্ট্রার বলেন, মাদ্রাসার কমিটি গঠনের অনুমতি না চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বেতন বন্ধ সহ মাদ্রাসার একাডেমিক স্বীকৃতি বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে।