কলারোয়ার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬৫ বছরেরও গড়ে ওঠেনি শহিদ মিনার


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭ ||

শেখ জিলুø
মহান ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছরেও কলারোয়ায় অনেক বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় গড়ে ওঠেনি শহিদ মিনার। এছাড়া উপজেলার কোনো মাদ্রাসায় নেই একটিও শহিদ মিনার। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নের কোথাও আজও স্থাপন করা হয়নি  শহিদ মিনার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলারোয়া পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে শহিদ মিনার রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে কলারোয়া ফুটবল ময়দানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, কলারোয়া সরকারি কলেজের শহিদ মিনার ও শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের শহিদ মিনার-এই ৩টি পৌর সদরের। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শহিদ মিনারগুলো হলো হেলাতলা ইউনিয়নের দমদম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেলাতলা আইডিয়াল হাইস্কুল ও ঝাঁপাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জয়নগর বদরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় ও ধানদিয়া হাইস্কুল, দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো হাইস্কুল, কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের পানিকাউরিয়া হাইস্কুল, কেরালকাতা ইউনিয়নের কাজীরহাট হাইস্কুল ও কেকেইপি হাইস্কুল, চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া বাজার, চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজ, বয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চান্দুড়িয়া কেসিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাবাড়িয়া সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের কেএল হাইস্কুল প্রাঙ্গণ। উপজেলার কয়লা, জালালাবাদ ও যুগিখালি ইউনিয়নে কোনো শহিদ মিনার নেই বলে জানা গেছে। এমনকি গত ৬৫ বছরে ওই তিন ইউনিয়নে শহিদ মিনার স্থাপনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও শোনা যায়নি। কয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল রোববার বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয় চত্বরে একটি শহিদ মিনার নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এখানে প্রতি বছর বাঁশের তৈরি শহিদ মিনারে ভাষা শহিদ প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয় বলে প্রধান শিক্ষক জানান। শহিদ মিনার বিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেধরনের উদ্যোগও দেখা যায়না। ইতোমধ্যে কলারোয়া বিবিআরএনএস মাদ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে একটি শহিদ মিার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও তা এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। সূত্র জানায়, উপজেলায় ৩৪টি এমপিওভূক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। যার মধ্যে সিনিয়র মাদ্রাসার সংখ্যা ৫টি। এসব মাদ্রাসার কোথাও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়নি একটিও শহিদ মিনার। তবে হতাশার বিষয় হলো, উপজেলার ১২টি বেসরকারি কলেজের মধ্যে ৯টি কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার। কলারোয়া সরকারি কলেজ, শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ ও চন্দনপুর ইউনাইটেড কলেজ ক্যাম্পাসে শহিদ মিনার রয়েছে। এমআর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান নিজ অর্থায়নে বিগত কয়েক বছরে কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া হাইস্কুল, হেলাতলা হাইস্কুল, কেকেইপি হাইস্কুল, চন্দনপুর কলেজ ক্যাম্পাসে শহিদ মিনার তৈরি করে দিয়েছেন। এছাড়া কলারোয়া ফুটবল মযদানে ‘স্বাধীনতা’ স্তম্ভ¢ ও শহিদ মিনার তাঁরই অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়, যা সবার জানা। এ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী কলেজে এসে ক্যাম্পাসে শহিদ মিনার দেখছে না। এদের অনেকেই তাদের স্কুল প্রাঙ্গণে শহিদ মিনার দেখে এসেছে। শহিদ মিনার বিহীন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে পারে না। বেসরকারি কলেজের চেয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কেননা, উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে। অপরদিকে উপজেলার ১২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবলমাত্র শহিদ মিনার রয়েছে রঘুনাথপুর, ঝাঁপাঘাট ও বয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সাতক্ষীরা জেলার ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ভাষা সৈনিক প্রয়াত আলহাজ্ব শেখ আমানুল্লাহ তাঁর জীবদ্দশায় অনেক অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার গড়ে তোলার কথা বলতেন। তিনি প্রয়াত হয়েছেন ২ বছর। কিন্তু তাঁর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে প্রয়াত এই ভাষা সৈনিকের প্রতি আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধা দেখাতে পারি। এজন্য প্রয়োজন উদ্যোগ ও সমণি¦ত প্রয়াস। সব মিলিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দিতে ও নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম-ভাষাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা করা দরকার শহিদ মিনার-এমনটি মনে করেন ভাষাপ্রেমি মানুষ।