শ্যামনগরে ইটভাটায় পোড়ানো কিশোর ইসরাফিল গাজিপুরে জীবিত উদ্ধার!


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছেলেকে লুকিয়ে রেখে স্থানীয় কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমকে ফাঁসাতে মিথ্যা অপহরণ মামলা করেছেন শ্যামনগরের তারানিপুরের আবদুল মজিদ। গাজিপুরের শ্রীপুরে তার বোনের বাসা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পালিয়ে থাকা কিশোর ইসরাফিলকে। সেই সাথে তার ফুফু ও ফুফুর মেয়েকেও  আটক করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, নির্বাচনে তিনি জয়ী হবার পর পরাজিত প্রার্থী জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা করিয়েছেন। এতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে তিনি তার বিরুদ্ধে আরও একটি নারী অপহরণ মামলা করিয়েছেন।  আবদুর রহিম জানান, তিনি সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউলের আক্রোশের মুখে রয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি মিডিয়া ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আবদুল মজিদের অভিযোগ তার ছেলে ইসরাফিল গত ২ ফেব্রুয়ারি বালু বিক্রির পাওনা টাকা আনতে কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের কাছে যায়। চেয়ারম্যান রহিমের ইটভাটা ম্যানেজার আবদুর রাশেদ পাওনা টাকা না দিয়েই তাকে অপহরণ করে। পরে তারা তাকে ভারতে পাচার করে অথবা পুড়িয়ে মারার লক্ষ্যে ইটভাটার মধ্যে নিক্ষেপ করে। বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায় মামলা দিতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত না থাকায় তা রেকর্ড করা যায়নি। এরপর আবদুল মজিদ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
তিনি জানান, এই মামলা দায়েরের এক সপ্তাহের মাথায় ২২ ফেব্রুয়ারি গাজিপুেেরর শ্রীপুর থানা পুলিশ  ইসরাফিলকে তার ফুফু মরিয়ম আকতার সাথীর বাসা গাজিপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে। এসময় মরিয়ম ও মরিয়মের মেয়ে মর্জিনাকেও আটক করে পুলিশ। তারা এখন  শ্যামনগর থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, শনিবার তাদেরকে আদালতে তোলা হবে। সেখানে ইসরাফিলের জবানবন্দীর ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে  ‘উদ্ধার হওয়া ইসরাফিল জানিয়েছে যে কৈখালির সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তাকে (ইসরাফিল) ষড়যন্ত্র করে গাজিপুরে ফুফুর বাসায় রেখে গেছেন। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান রহিমের ওপর দোষ চাপানোর জন্য তার ওপর চাপ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান রহিম তাকে অপহরণ করে এখানে রেখে গেছেন বলে পুলিশকে বলতে বলা হয়েছে’।
এদিকে কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, আবদুল মজিদ মামলায় যে সব কথা উল্লেখ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি তার কাছে কোনো টাকা পাবেন না। তার কাছে পাওনা টাকা আনতে যাবার কারণও নেই। সাম্প্রতিক ইউপি নির্বাচনে পরাজিত পক্ষের ষড়যন্ত্রের মুখে তার বিরুদ্ধে এসব কল্পিত অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান যদি তাকে অপহরণ করেই থাকবেন তাহলে ইসরাফিলকে তার ফুফুর বাসায় পাওয়া যাবে কেনো। এছাড়া অপহরণের অভিযোগ যদি সত্যি হয়েই থাকবে তাহলে সাত আটদিন পার হলেও গাজিপুর থেকে কিশোর ইসরাফিল, তার ফুফু ও বোন বাড়িতে জানালো না কেন। এতোদিন পর পুলিশকে যেয়ে তাকে উদ্ধার করতে হলো কেনো। বৃদ্ধ আবদুল মজিদ সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা কথা বলেছেন বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন ইসরাফিলকে দিয়ে এখন আদালতে কল্প কাহিনী জানিয়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে।