খুলনা বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ও উদ্ভাবন উৎসবে সাতক্ষীরা জেলার ১০টি পুরস্কার লাভ


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: খুলনা বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ও উদ্ভাবন উৎসবে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে সম্মাননা পেলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে ‘উদ্ভাবন উৎসব ও বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা ২০১৭’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের হাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বর্ণ পদক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেছবাহ উল আলম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান প্রমুখ।  সম্মাননা প্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘খুলনা বিভাগের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা উদ্ভাবনী প্রক্রিয়া ও চর্চায় অনেক এগিয়ে আছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে এ জেলার সকল নাগরিকের সহযোগিতায়।  স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, এলিট পার্সন ও সাংবাদিকরা এ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে। যার ফলে, ২০১৭ তে শ্রেষ্ঠ জেলা টিম, শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক, শ্রেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, শ্রেষ্ঠ ইউএনও, শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড, শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান, শ্রেষ্ঠ বেসরকারি উদ্যোক্তা, শ্রেষ্ঠ ইউডিসি উদ্যোক্তা, শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন ওয়েব পোর্টাল, শ্রেষ্ঠ সিটিজেন জার্নালিস্ট সহ মোট ১০টি ক্যাটাগরিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অর্জিত এ সাফল্যের জন্য তিনি সাতক্ষীরাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সবার প্রতি সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা খুলনা বিভাগীয় উদ্ভাবন সংকলন ২০১৭ ‘উদ্ভাবন নক্ষত্র’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন।
এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলা। এ জেলার পর্যটন শিল্পসহ নানা বৈচিত্র্যতায় মুখরিত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি বড় অংশও রয়েছে এ জেলায়। এছাড়াও নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন শিল্পের প্রসারে এ জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারসহ নানাবিধ ইনোভেশন উদ্যোগ। ইতিহাস ঐতিহ্যের এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ। আম ও চিংড়ী রপ্তানির ক্ষেত্রেও এ জেলা ইতিমধ্যে অনন্য স্বীকৃতি লাভ করেছে। ক্রীড়া ও সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায়ও রয়েছে সাফল্য। আগামী দিনে সাতক্ষীরা জেলাকে উন্নয়নমূলক ও ডিজিটাল সাতক্ষীরা হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার মোট ৮টি থানা এবং ৭৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে সাধারণ নাগরিকরা ই-সেবা পাচ্ছেন। বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এসব তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলো নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাতক্ষীরা জেলার ওয়েব সাইটে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে ভূমি অফিসসহ অন্যান্য অফিসিয়াল কার্যক্রমেও। ওয়েব সাইট থেকেই জনগণ জেলার প্রয়োজনীয় সব তথ্য জানতে পারছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে তৃণমূল থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সবার সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন।
বাল্য বিবাহ রোধে’র ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এ প্রতিনিধিকে বলেন, সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম সামাজিক সমস্যার নাম বাল্য বিয়ে। বাল্য বিবাহ বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। তারপরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এ সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার সার্বিক শিক্ষার হার বেড়েছে। গ্রাম ও দুর্গম চরে স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের স্কুলমুখী করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে নারী শিক্ষার হারও। এছাড়া সাতক্ষীরা কালেক্টর স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
খেলাধুলা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, খেলাধুলায় সাতক্ষীরা জেলার রয়েছে অনন্য অবদান। সম্প্রতি বিশ্ব ক্রিকেটে মুস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকারের অসাধারণ নৈপুণ্য সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিম-লে সুপরিচিত করেছে। ফিফা আন্তর্জাতিক ফুটবল রেফারী হিসেবে তৈয়ব হাসান বাবু এবং প্রমীলা ফুটবলে সাবিনার রয়েছে অনন্য সাফল্য। ক্রীড়ার অন্যান্য ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরার অবস্থান চোখের পড়ার মতো।