ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে পরিবেশের প্রভাব


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৭ ||

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
মানবদেহে ইনসুলিন নামক প্রয়োজনীয় হরমোনটির অপ্রতুল নি:সরণ এর কারণে রক্তে  শর্করার পরিমান বেড়ে যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী হয়ে বেশীদিন ধরে থাকলে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। সাধারণত: ডায়াবেটিস বংশগত কারণে ও পরিবেশের প্রভাবে হয়। কখন কখনও অন্যান্য রোগের ফলেও হয়ে থাকে। এ রোগ যে কোন বয়সে সব লোকেরই হতে পারে। ডায়াবেটিস একবার হলে আর সারে না। এটা সবসময়ের এবং আজীবনের রোগ। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ রোগকে ভাল ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রতিরোধ করা যায় এবং প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব হয়। অতিরিক্ত প্রস্রাব, অত্যধিক পিপাসা, বেশী ক্ষুধা, দূর্বল বোধ করা এবং কেটে ছিঁড়ে গেলে ক্ষত তাড়াতাড়ি না শুকানো হচ্ছে এ রোগের সনাতন সাধারণ লক্ষণ। যাদের বংশে রক্ত-সম্পর্কযুক্ত আত্মীয় স্বজনের ডায়াবেটিস আছে, যাদের ওজন খুব বেশী, যাদের বয়স ৪০ এর উপর এবং যারা শরীর চর্চা করেন না-গাড়ী চড়েন এবং বসে থেকে অফিসের কাজকর্মে ব্য¯ত থাকেন, যারা নিয়মিতভাবে সুষম খাবার পরিমিত পরিমানে খান না, ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড খেতে অভ্যস্ত তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। অত্যধিক চিন্তা-ভাবনায়, মানসিক চাপে, দুশ্চিন্তা দূর্ভাবনায়,  আঘাতে, সংক্রামক রোগে, অস্ত্রপাচারে, গর্ভাবস্থায় এ রোগ বাড়াতে সাহায্য করে। এগুলির প্রতি দৃষ্টি রেখে প্রথম থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এ রোগ প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা যায় বলে অধুনা গবেষণায় প্রতিভাত হয়েছে। ডায়াবেটিস প্রধানত: দু’ প্রকারের। যথা- (ক) টাইপ ১: ইনসুলিন নির্ভরশীল এবং (খ) টাইপ ২: ইনসুলিন নিরপেক্ষ। ইনসুলিন নির্ভরশীল রোগীদের ইনসুলিনের অভাবের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মিত  ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। পক্ষান্তরে ইনসুলিন নিরপেক্ষ রোগীদের দেহে কিছু পরিমাণ ইনসুলিন থাকে। তবে চাহিদার প্রয়োজনে তা যথেষ্ট নয় বা শরীর ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না। এ সব রোগীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে শর্করা কমানোর বড়ি সেবন করতে হয় কিংবা প্রয়োজনবোধে সাময়িকভাবে ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়।
ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। বেশী মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয়, এ ধারণা ঠিক নয়। জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম এর ভাষায় ৩উ (উরবঃ, উরংপরঢ়ষরহব ধহফ উৎঁম) অর্থাৎ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা এবং ওষুধ এ রোগ নিয়ন্ত্রণের উপায়। খাদ্যের গুনগত মানের দিকে নজর রেখে পরিমাণ মতো খাদ্য নিয়মিতভাবে গ্রহণ, জীবনের সবক্ষেত্রে নিয়মকানুন বা শৃঙ্খলা মেনে অর্থাৎ কাজেকর্মে, আহারে, বিহারে, চলাফেরায়, এমন কি বিশ্রামে ও নিদ্রায়, শৃঙ্খলা মেনে চলা দরকার। নিয়ম শৃঙ্খলাই ডায়াবেটিস রোগীর জীবনকাঠি। ডায়াবেটিস রোগীকে স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ এবং  চিকিৎসকের পরামর্শ মতো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। রোগ সম্বন্ধে ব্যাপক শিক্ষা ও আত্মসচেতনতা ছাড়া ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়না। তবে ডায়াবেটিস বিষয়ে শিক্ষা কেবল রোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একই সাথে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব এবং ডাক্তার ও নার্সদেরও শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। রোগী যদি চিকিৎসকের সাথে সহযোগিতা করে তার উপদেশ ও নির্দেশ ভালভাবে মেনে চলেন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যথাযথভাবে গ্রহণ করেন তবে সুখী, কর্মঠ ও দীর্ঘজীবন লাভ করতে পারেন।
ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবসের প্রচার প্রচারনায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেয়া, একই  সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ডায়াবেটিস থেকে রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যাদের ডায়াবেটিস আছে, যাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে আর এ চিকিৎসায় নিবেদিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সকলেরই শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এর মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বি¯তারকে থামানো, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করণ এবং এর প্রভাব প্রতিক্রিয়াকে  সীমিতকরণ। এসব প্রচার প্রচারনা মূল ৩ঊ (ঊফঁপধঃরড়হ, ঊহমধমব ধহফ ঊসঢ়ড়বিৎ) বা তিনটি প্রতিপাদ্যে প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ সকলকে এ রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে শিক্ষার প্রসার, অধিক সংখ্যক রোগী- অরোগী- চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ ও সেবায় সম্পৃক্তকরণ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের নিজেদের কর্তব্য ও অধিকার সম্পর্কে ক্ষমতায়ন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অর্থাৎ আজকের যারা  শিশু ও তরুণ তারা যে পরিবেশে বড় হচ্ছে সেই পরিবেশকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বিশেষ দৃষ্টিসীমায় আনতে চাওয়া হয়েছে এজন্য যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপযুক্ত জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে তাদেরকে ডায়াবেটিস থেকে সুরক্ষার কর্মসূচি এখনই শুরু করতে হবে। সুষম ও পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং শরীর র্চ্চার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অর্থাৎ  শিশু ও তরুণ সমাজকে ডায়াবেটিস প্রতিরেধের  মৌল ধারণা ও সর্তকতা অবলম্বনের এ  বিষয়গুলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বাড়াতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর সেই শিক্ষার উদ্দেশ্যই হচ্ছে তারা নিজেরা যাতে এ রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বনে আগ্রহী হয় এবং একই সাথে তাদের পরিবার সদস্যদের মধ্যে যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে সেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তাদেরকে তারা সহায়তা করতে পারে।
অরিকল্পিত নগরায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তনহেতু ডায়াবেটিসের বিস্তার ত্বরান্বিত হচ্ছে। দ্রুত ও দূর্বল নগরায়ন এর ফলে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা এখন শহরে বাস করে। এখানে আছে যন্ত্রচালিত পরিবহন ব্যবস্থা, চলছে বস্তির বিস্তার, শরীর চর্চা বিহীন যাপিত জীবনে বাড়ছে বয়োবৃদ্ধ জনসম্পদ, হচ্ছে বনজ প্রাকৃতিক সম্পদ উজাড় ,প্রাণীজ ও সুষম খাদ্যের জায়গা দখল করছে  কলকারখানায় প্রক্রিয়াজাত  কুত্রিম অস্বাস্থ্যকর খাবার, পরিবর্তিত হচ্ছে আহার প্রক্রিয়া, বাড়ছে বিশ্বখাদ্য- কৃষির ব্যবসা ও বিপননে  প্রতিযোগিতা। ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ বিলিয়ন বিশ্ব জনসংখ্যার ৫ বিলিয়ন বাস করবে শহরে যাদের মধ্যে ২ বিলিয়নই বাস করবে বস্তিতে। ফলে জীবনযাত্রায় জটিলতা বাড়তেই থাকবে ,উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নানান অনিয়মের ও ব্যবস্থাপনার কাছে নতি শিকার করতে বাধ্য হতে থাকবে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যা ৭ থেকে ৯ বিলিয়নে বৃদ্ধি পাবে এবং এশিয়া ও আফ্রিকাতেই ঘটবে এর ব্যাপক বিস্তার। সার্বিকভাবে বিশ্বজনসংখ্যায় প্রবীণের প্রাধান্য পেলেও উন্নয়নশীল দেশে নবীনের পাল¬া হবে ভারী। জনমিতিতে এহেন অসম পরিবর্তন প্রবণতায় ইতিমধ্যে সম্পদের অপ্রতুলতায় পরিবেশ দূষণে, নানান রোগের প্রাদুর্ভাবে ও বিস্তারকে প্রভাবিত করছে।। এ পটভুমিতে  বর্তমানে বিশ্বে ৩৬৬ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এর পরিমাণ অর্ধ বিলিয়নে দাঁড়াবে। বছরে ৪.৬ মিলিয়ন মানূষ এ রোগে মারা যায়। ডায়াবেটিসে সব চাইতে বড় ক্ষতি কর্মক্ষমতা হারানো, এ রোগের পেছনে বার্ষিক ব্যয় হয় ৪৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৫জনের মধ্যে ৪ জন ডায়াবেটিস রোগী বাস করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। এ রোগ পরিবারকে অসচ্ছল করে, শ্রমশক্তি বিনষ্ট করে, এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পর্যুদস্ত করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মতে ২০০০ সালে ভিত্তি বছরে বিশ্বে ডায়বেটিক রোগীর সংখ্যাা  যেখানে  প্রায় ১৭ কোটি (বিশ্ব জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৩ ভাগ) ছিল , তাদের আশঙ্কা ২০৩০ সালে সে সংখ্যা  দ্বিগুন এর বেশী হয়ে যাবে। প্রাদূর্ভাব ও বিস্তারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায় উন্নত বিশ্বে টাইপ ২ অর্থাৎ ইনসুলিন নিরপেক্ষ রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, ২০৩০সালের মধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দেশসমূহে সবচাইতে বেশী  (১৮০%), এর পর আফ্রিকা মহাদেশে (১৬০%), তারপর  দক্ষিণ পূর্ব  এশিয়ায় (১৫৫%) হারাহারিমতে ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবার প্রবল প্রবণতায় রয়েছে। বিশ্বে এই রোগের গড় বিস্তার যেখানে ১১৪% আমাদের বাংলাদেশে সেই বিস্তারের হার ১৪৯% যা যথেষ্ট আশঙ্কাজনক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষামতে নগরায়ন, ’ওয়েস্টার্ন ফুড’ আর সার্বিক পরিবেশ এর ভারসমাম্যহীনতায় এই রোগের বিস্তারকে করছে বেগবান। বিশ্ব রোগ নিরাময় কেন্দ্রের মতে এই শতকের মাঝামাঝি তক পৌছার আগেই এটি মানবভাগ্যে মারাত্মক মহামারী রূপে উদ্ভাসিত হবে। যুক্তরাস্ট্রের জাতীয় ডায়াবেটিক তথ্য নিকাশ কেন্দ্রের হিসাব মতে খোদ যুক্তরাস্ট্রেই এই ঘাতকব্যধি বছরে ১৩২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিসাধন করে সেদেশের জাতীয়  অর্থনীতির।
ডায়াবেটিসের বিস্তারের সাথে বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রসংগটি সম্পৃক্ত করা হয়েছে এ জন্যে যে ডায়াবেটিসের বিস্তারে ও প্রতিরোধে পরিবেশের রয়েছে বিশেষ প্রভাব। জলবায়ু পরিবর্তন প্রেক্ষাপটে ডায়াবেটিস ও অসংক্রামক ব্যধি নিচয়ের বিস্তাররোধে বিশ্ব ডায়াবেটিক ফেডারেশনের সাথে সুইজারল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড হেলথ এসেম্বলীর সম্মেলনে ডায়াবেটিস ও জলবায়ুর পরিবর্তনের আনুভূমিক সম্পর্ক সম্পর্কে যৌথ সমীক্ষা চালানোর ব্যাপারে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ডায়াবেটিসের বি¯তার বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ উপসংহার ও উপলব্ধি বেরিয়ে এসেছে যে, পরিবেশ ডায়াবেটিস বিস্তারে নিয়ামক ভূমিকায়। গ্যাস নি:সরণ সহ খাদ্য বাসস্থান ও যোগযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনায় যে অসম পরিবেশ সৃজিত হয়ে জলবায়ুর পরিবর্তনকে উসকে দেয় ডায়াবেটিস এর বি¯তারে তাদের রয়েছে আনুভূমিক সম্পর্ক। সংলাপে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের আন্তসম্পর্ক বিষয়টি প্রাধ্যন্য পায়। বলা হয় একবিংশ শতাব্দীতে ঘাতকব্যধি ডায়াবেটিস ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা মানবজাতির জন্য প্রধানতম ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেবে। সংলাপ সভায় টাইপ-২ ডায়াবেটিসের বিস্তারকে বিশ্বব্যাপী সচেতন দৃষ্টি সীমায় আনতে আহবান জানানো হয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ওপর জলবায়ু পরিবর্তন তথা পরিবেশ বিপর্যয়ের যে প্রভাবক ভূমিকা রয়েছে তা স্পষ্টত-
(১) জলবায়ুর পরিবর্তনে ঘটে খরা, সুপেয় পানির দু¯প্রপ্যতা, অত্যাধিক উত্তাপে ওষ্ঠাগত প্রাণ সহ শরঅরচ্চার সুযোগ সীমিত হয় বা শারীরিক শ্রমে বাধাগ্রস্ততা সৃষ্টি হয় তা প্রকারন্তরে ডায়াবেটিসের প্রকোপ এবং মাত্রা বাড়ায়।
(২) প্রাকুতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষুধা ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি পায়। এমতঅবস্থায় গর্ভবর্তী মহিলাদেরকে এমন পুষ্টিহীনতায় পেয়ে বসে যে তাদের গর্ভের সন্তান টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েই জন্মগ্রহণ করে।
(৩) যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভোগেন তাদের ঔষধ, সুষম খাবার সংগ্রহে ও শরীরচর্চায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দূর্যোগ।
(৪) নগরায়ন ও জনসংখ্যা আধিক্যের কারণে স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থান খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করা সম্ভব না হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পায়।
(৫) উন্নয়নের অভিঘাতে নগরজীবনে ব্যস্ততা বাড়ে, হাটাচলার পথ ঘাট সংকুচিত হয়, সুষম খাবার ও খাদ্য তৈরির চেয়ে ফাস্ট ফুড গ্রহন থেকে শুরু করে সর্বত্র একটা কৃত্রিমতা এসে সুষম খাদ্য গ্রহণের সুযোগকে করে সীমিত। লেখক: ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সরকারের সাবেক সচিব এবং এন বি আরের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির চীফ কো অর্ডিনেটর