ফলো আপ: পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা আজাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, দাবি পরিবারের


প্রকাশিত : মার্চ ২, ২০১৭ ||

মো: আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরায় পাওনা টাকা চাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। নিহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ঘোনা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে আক্তারুল ইসলাম শিমুল ৭জনকে আসামী করে মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠালেও মূল ঘাতকরা পালিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ দালালের ছেলে মোমিনুল ইসলাম দালাল (৪২), মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল ওয়াদুদ (৫৪), মোমিনুল ইসলাম ছেলে মুন্না হোসেন (১৫) ও ইকরামুলের ছেলে মো. রনি (১৪)।
এদিকে নিহত মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে আক্তারুল ইসলাম শিমুল জানান, তাদের ঘোনা বাজারে এসএ ট্রেডার্স নামে রড সিমেন্টের দোকান রয়েছে। ইকরামুল দালাল তাদের দোকান থেকে প্রায় পাচ হাজার টাকার সিমেন্ট বাকিতে নেয়। পরে টাকা পরিশোধে টালবাহানা করতে থাকে। সোমবার রাত ৮টার দিকে ঘোনা বাজারে তার পিতা ইকরামুলে কাছে পাওনা টাকা চায়। এতে আইফুর ও একরামুলসহ ৭/৮ জন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও আমার পিতাকে বাশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে আঘাত করে। এতে নেতৃত্ব দেন ঘোনা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার সাইদ মনোয়ার। আসামী আইফুর দালাল, ইকরামুল দালাল, আলিমুল দালাল ও আব্দুল ওয়াদুস সীমান্তে চোরাচালিন ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সবাই ঘোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশার লোক। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। কিছু বলা হলে তাদের মারধর করা হয় এবং চেয়ারম্যান মোশার জোরে তারা এলাকার বিভিন্ন মানুষের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। তারা আগে সবাই জামায়াত করতো ৫ জানুয়ারির কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগে যোগদান করে।
তিনি আরো বলেন, এরপর আব্দুল ওয়াদুদ আমার বাবাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই কামাল হোসেন খাঁন বলেন, এটিতো সরাসরি হত্যা না। ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ও তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে অসুস্থ হয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরো বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৭/৮ জন গিয়ে মারধর করে। তবে ধারণা করা হচ্ছে তাদের হত্যা করার পূর্ব পরিকল্পনা ছিলো না। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল মারধর করবে। কিন্তু তিনি আহত হয়ে পরে মৃত্যু বরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাতজনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে জড়িত সন্দেহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম বলেন, আবুল কালাম আজাদ আর আমি প্রায় সম বয়সী। আমরা এক সাথে আট নম্বর সেক্টরের অধীনে ভোমরা বন্দরে, কাকডাঙ্গা, হাকিমপুরের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলাম। সেই মুক্তিযোদ্ধাকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসির দাবী করছি। আমাদের সহযোদ্ধার নিহতের ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা ইউনিটের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে আটক হওয়া চার পরিবারে দাবি ঘটনার সময় তারা সেখানে উপস্থিত ছিলো না।
মামলার এক নম্বর আসামী আইফুরের স্ত্রী সাবিনা ও দুই নাম্বার আসামী একরামুলের স্ত্রী রাফিয়া খাতুন বলেন, তিনি আমাদের মামা শ্বশুর হন। এর আগে তিনি দুইবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয় এবং চেচামেচির শব্দে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমাদের দাবি এটি হত্যা না দুর্ঘটনা। মুন্না হোসেন ও রনি দুইজন শিক্ষার্থী তাদের এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তাদের পরিবারের দাবি।
এ বিষয়ে ঘোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মোশা বলেন, ‘যিনি মারা গেছেন তিনি আমার খুব ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন। যারা অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হয়েছে তারা আমাকে ভোট দিয়েছে ও আমার সমর্থক। তবে নিহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ছেলে হত্যাকারীরা আমার লোক বলে যে কথা বলেছে তা ঠিক না। বাবা হারানোর শোকে তার মাথা ঠিক নাই। আমিও হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
প্রসঙ্গত, পাওনা টাকা চাওয়ায় সাতক্ষীরা সদরের ঘোনা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদকে পিটিয়ে আহত করা হয়। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।