ফলোআপ: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল: অফিস সহকারি আক্তারের ক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন!


প্রকাশিত : মার্চ ৪, ২০১৭ ||

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের অফিস সহকারী দূর্দান্ত ক্ষমতাধর আক্তার হোসেনের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সংবাদের প্রতিবাদ বা বন্ধ করতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে তার অপকর্মের বিষয়ে সদ্য বিদায়ী সিভিল সার্জন ডা. উৎপল কুমার দেবনাথ তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেন অন্যের স্বাক্ষর ব্যবহার করে খুলনা মেডিকেলে পত্র প্রেরণ করেছেন মর্মে তাকে কৈফিয়ৎ তলব করলে তিনি যে জবাব দিয়েছেন তা সন্তোস জনক নয় বলে পরবর্তি সিভিল সার্জনকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে অবসর নিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, বিগত ১৫ বছর যাবত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে অত্যন্ত দাফটের সাথে নানা প্রকার নিয়ম আর অনিয়মের মধ্য দিয়ে সরকারী চাকুরি করছেন অফিস সহকারী আক্তার হোসেন। একজন সরকারি চাকুরে কিভাবে একই অফিসে একই চেয়ারে ১৫ বছর থাকে সেটি নিয়ে শহরের সূধি মহলে বেশ আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি খাদ্য বিভাগের তদারকিতে থাকায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে হাত মিলিয়ে প্রতি মাসে মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে চলেছেন। উক্ত ঠিকাদার সদর হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে বছরের পর বছর বিনা টে-ারে খাদ্য ও পথ্য বিভাগের ঠিকাদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। আর চরম এই অনিয়মের অন্যতম সহযোগি অফিস সহকারি আক্তার হোসেন। এজন্য তাকে হিস্যা দিয়েই চলতে হয় এমন দাবী হাসপাতারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের।
অপর দিকে জমাজমাট মেডিকেল সাটিফিকেট বাণিজ্য তো আছেই। কার সার্টিফিকেট কি করতে হবে তা আর্থিক চুক্তি হলেই সকল ব্যবস্থা আক্তার হোসেনের হাতে। ইতোপুর্বের এমনও রেকর্ড আছে, একটি মারামারির ঘটনায় উক্ত রুগীর মাথা কেটে গেলে তার সার্টিফিকেট দেয়া হয় নাক ভেঙ্গে যাওয়ার। এই সার্টিফিকেট পেয়ে হতবাক হন ঘটনার বিপরিতে অবস্থান কারিরা। এক কথায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রুগীদের সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে পকেট সুবিধা পেলে সব কিছুই করা সম্ভব হয়। আর এসবের হেড অফিসার উক্ত দূর্ণীতিবাজ কর্মচারি আক্তার হোসেন।
সরেজমিনে দেখাগেছে, বিভিন্ন থানা থেকে আসা পুলিশ অফিসাররাও মামলা দ্রুত শেষ করতে মেডিকেল সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য সদর হাসপাতালের কর্মচারি আক্তার হোসেনকে তেল মাখিয়ে চলেছেন।
এদিকে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. উৎপল কুমার দেবনাথ গত ২৮.০২.১৭ তারিখে অফিসে উপস্থিত থাকাকালিন তার স্বাক্ষর জাল করে খুলনা মেডিকেলে একটি চিঠি পাঠানোর ঘটনা তাৎক্ষনিক প্রমানিত হওয়ায় তাকে কৈফিয়ৎ তলব করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জবাব দাখিল করতে বলা হয়। এতে তিনি যে জবাব দাখিল করেছেন তা সন্তোস জনক নয় বলে সদ্য বিদায়ী সিভিল সার্জন উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তী দায়িত্বে আসা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়ে অবসরে গেছেন ডা. উৎপল কুমার দেবনাথ। নতুন সিভিল সার্জন আসলে তাকে বিষয়টি অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।