ভোমরা বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষ ক্রমেই দানা বাধছে


প্রকাশিত : মার্চ ১২, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্রম দপ্তরের নীতিমালা ভঙ্গ করে কাগজে কলমে নির্বাচন দেখিয়ে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরের চারটি শ্রমিক ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করায় বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষ ক্রমেই দানা বেধে উঠছে। সমিতির সদস্য হতে আগ্রহী শ্রমিকসহ তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে  নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোন মুহুর্ত্বে বন্দরে শ্রমকিদের দুই গ্র“পের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে খুলনা-১১৫৯, খুলনা-১১৫৫, খুলনা-১৯৬৪ ও খুলনা- ১৭২২ রেজিঃ ধারী চারটি হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের শ্রম দপ্তরের নীতিমালা ভঙ্গ করে গত ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ রেজিঃ খুলনা-১১৫৯ ও খুলনা-১৯৬৪ এবং ৭ জুলাই রেজিঃ খুলনা-১৯৬৪ ও খুলনা-১৭২২ কাগজে কলমে ভূয়া একটি নির্বাচন দেখিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সকলকে নির্বাচিত করা হয়। অবৈধভাবে নির্বাচিত এই চারটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অদ্যাবধি অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এঘটনায় সাধারন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর, খুলনা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে গত ১৯ ফেব্র“য়ারী যুগ্ম শ্রম পরিচালক, খুলনা বিভাগ, খুলনা স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে চারটি ইউনিয়নকে ১৫দিনের মধ্যে আগ্রহী শ্রমিকদের ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত করে সদস্য রেজিষ্টার হালনাগাদ সংরক্ষন করার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ এবং ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের বিধান মোতাবেক পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে সকলের অংশগ্রহণ মূলক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্টানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু খুলনা বিভাগীয় শ্রমদপ্তর কর্তৃক নির্দেশিত ১৫ দিন ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেলেও আগ্রহী শ্রমিকদেরকে এখনও সদস্য তালিকাভূক্ত করা হয়নি।
ভোমরা স্থল বন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য পদ্মশাখরা গ্রামের মৃত গোলাম কিবরিয়ার ছেলে মোঃ কওছার আলী জানান, বিগত ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ এবং৭ জুলাই তারিখে চারটি শ্রমিক সংগঠনের করা একতরফা নির্বাচন সম্পূর্ন অবৈধ। নিরপেক্ষ ভোট হলে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত ভেবে স্বার্থন্বেষী মহলটি কৌশলে কাগজে কলমে ভূয়া একটি নির্বাচন দেখিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সকলকে নির্বাচিত করেছে। সম্পূর্ন অগঠনতান্ত্রিক ভাবে চারটি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বাহুবলে শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারপিট করার পাশাপাশি বিভিন্ন মিথ্যে মামলায় দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সাধারন শ্রমকিরা তাদের কাছে একরকম জিম্মি হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক নেতা বলেন, খুলনা বিভাগীয় শ্রমদপ্তর কর্তৃক পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে সকলের অংশগ্রহণ মূলক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্টানের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিলেও তা মানছে না তারা। এখনও পর্যন্ত ২০ দিন পার হয়ে গেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে বন্দরে ক্রমশ: শ্রমিক অসন্তোষ জোরদার হচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বি দুই গ্র“পের শ্রমিকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি খুলনা বিভাগের শ্রম দপ্তরের নির্দেশ মোতাবেক যথাসময়ে সকলের অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সুন্দর কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমাদের গোচরিভূত আছে। এটা নিয়ে আমারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। শ্রমিক সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে খুব শিঘ্রেই বন্দরের শ্রমিকদের সকলের অংশগহণমূলক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি ভোমরা বন্দরে কর্মরত সকল শ্রমিককে শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার আহবান জানান।