সাতক্ষীরা ছেড়ে এখন যশোরের পথে শিক্ষিত হবার স্লোগান নিয়ে সাইকেলে দেশভ্রমনে বরগুনার কৃষক জাহিদুল


প্রকাশিত : মার্চ ১২, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি। নিজে লেখাপড়া শিখতে পারেন নি। সেই কষ্ট ও ব্যর্থতা মনে ধারন করেছেন তিনি। আর তাই সবাইকে লেখাপড়া শিখে শিক্ষিত হবার আহবান জানাতে পথে উঠেছেন  বরগুনার কৃষক জাহিদুল ইসলাম। নিজের সাইকেলে দেশ ভ্রমন করে তিনি সকলকে সচেতন করতে চান।

‘ ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠান। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষককে ভালবাসুন। বাল্য বিয়ে বন্ধ করুন, বাংলাদেশকে ভালবাসুন, মাতৃভাষাকে ভালবাসুন’ এমন সব স্লোগান নিজের বুকে পিঠে ও ব্যাগে লিখে সড়ক পথ ধরে সাইকেলে চলেছেন জাহিদুল। গত ২ মার্চ  বরগুনা জেলার আমতলি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে নিজের সাইকেলে চেপেছেন তিনি। এরপর পটুয়াখালি বাকেরগঞ্জ ভোলা বরিশাল ঝালকাঠি পিরোজপুর বাগেরহাট খুলনা হয়ে তিনি সাতক্ষীরায় শুক্রবার রাত্রিযাপন করেছেন। শনিবার সকালে  যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন জাহিদুল।
বরগুনার আমতলির আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালি গ্রামের ইউসুফ মৃধার ছেলে জাহিদুল বলেন ‘ছোটবেলায় কয়েকদিন মাত্র স্কুলে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়া আসা সহজ ছিল না। গরিব মানুষ , তাই আর পড়া হয়নি’ । গতরে না খাটলে  সংসার  চলে না। টানা ১৬ বছর বাবার সাথে ইটভাটায় কাজ করেছেন, ঢাকায়  দোকান কর্মচারির কাজও করেছেন।  এখন তিনি পুরোমাত্রায় একজন কৃষক। বাপ দাদার অনেক জমি এক সময় থাকলেও এখন কোনো জমি নেই নিজের । সবই বর্গা নেওয়া।
জাহিদুল বলেন এখন উপলব্ধি এসেছে যে লেখাপড়া না শিখলে অন্ধকারেই থেকে যেতে হয়। ভাল মন্দ বিচার বিবেচনা করা যায়না। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোও যায়না। তিনি বলেন ‘বড় মেয়ে সাবিনা খাতুনকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। এক বছর ভ্রমন শেষে বাড়ি ফিরে তাকে ক্লাস ওয়ান থেকে টুতে দেখতে চাই। আর তখন আমি স্কুলে ভর্তি হবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি’। নিজের ভাই শহিদুল ও বাবা ইউসুফ মৃধা দায়িত্ব নিয়েছেন জাহিদুলের  সংসার নির্বাহ করার । তাদের সম্মতি নিয়েই ভ্রমণে বেরিয়েছেন । তিনি জানান শিক্ষাকে জাগ্রত করার জন্যই তার এই অভিযান।

জাহিদুল বলেন  আমি  ভালো চাকুরির অফার পেয়েছি। কিন্তু লেখাপড়া না জানায় চাকুরি করতে পারিনি। এলাকার অনেক ভাল অফিসার বড় বড় চাকুরি করেন । তারা আমাকে চাকুরি দিতে চাইলেও আমি নিতে না পারার  ব্যর্থতায় ভুগছি। জাহিদুল নিজের নাম ঠিকানা বাংলা ও ইংরেজিতে পরিস্কারভাবে লিখতে পারেন দাবি করে  বলেন ‘আমার লেখা দেখলে কেউ বলবে না যে আমি লেখাপড়া জানিনা’।
বর্ষব্যাপী ভ্রমণের শুভ কামনা করে আমতলি থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় দেন বরগুনার এডিসি মো. নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ, ইউএনও মুশফিকুর রহমান , ওসি মো. শহিদুল্লাহ এবং ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন মৃধা ও হারুনার রশীদ।