যশোরের জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় সাংবাদিক পুলিশ বিরোধের নিষ্পত্তি


প্রকাশিত : মার্চ ১৫, ২০১৭ ||

যশোর প্রতিনিধি: যশোরে জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার বেলা ১১টায় সাংবাদিকরা প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশে মিলিত হন। এরই মাঝে সাংবাদিক নেতারা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পুলিশ সুপারকে অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবে আসেন জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর। তিনি এই কর্মসূচি শেষে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বেলা ২টার দিকে সাংবাদিক নেতারা স্মারকলিপি দিতে যান জেলা প্রশাসকের কাছে। এ সময় সেখানে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মো. সরোয়ার উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক সাংবাদিক নেতা ও পুলিশ সুপারকে নিয়ে তার অফিসকক্ষে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা পুলিশ সুপারকে অপসারণ, বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক ও তার পরিবার-সদস্যদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনাকে ‘দু:খজনক’ বলে বর্ণনা করেন। জেলা প্রশাসক সৃষ্ট পরিস্থিতি নিরসনে উভয় পক্ষকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সরকারি সংস্থার সঙ্গে মিডিয়ার দূরত্ব সৃষ্টি হলে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি হবে।’পরে উভয় পক্ষ বিরোধ মীমাংসায় সম্মত হন। এরপর সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রেসক্লাবে আসেন। তারা প্রেসক্লাবে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এখানে আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক একরাম-উদ-দ্দৌলা সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যে সব সমঝোতা হয়েছে, তার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘বিনয়কৃষ্ণ মল্লিকের বিলুদ্ধে পুলিশ সুপার নতুন করে আর কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। তার ছেলে সবুজ মল্লিকের নামে খুলনার ফুলতলা থানায় দায়ের হওয়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির সঙ্গে কথা বলবেন যশোরের ডিসি ও এসপি। আর শহরের নেতাজী সুভাষচন্দ্র সড়কে জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।’
‘অপর পক্ষে বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। ইতিপূর্বে উল্লিখিত দুইজন পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থায় যে সব অভিযোগ দাখিল করেছেন, সেগুলোও যাতে সহজে নিষ্পত্তি হয়, দুই পক্ষই সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখবেন।’ পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে বলেন, ‘যশোর জেলা পুলিশে কোনো মুখপাত্র না থাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে। আজ থেকে সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জেলা পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া পেশাগত কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করবেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মো. সরোয়ার।’ জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর দুই পক্ষকেই রাগ-অভিমান ভুলে পরস্পর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আগামী ১৮ বা ১৯ মার্চ প্রেসক্লাবে যশোরের সব থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) ডেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে অনুরোধ জানান পুলিশ সুপারকে। এসপি আনিসুর রহমান এই অনুরোধ রক্ষা করেন। পরে সাংবাদিক নেতা একরাম-উদ-দ্দৌলা চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। প্রসঙ্গত: প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সহ-সভাপতি ও দৈনিক টেলিগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক গত সোমবার বেলা ১১টায় স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি পুলিশ সুপারকে বরখাস্তেরও দাবি জানান।  এই সংবাদ সম্মেলনের প্রায় আট ঘণ্টা পর সাদা পোশাকের পুলিশ বিনয়কৃষ্ণ মল্লিককে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। ওই রাতেই একটি মামলার আসামি হিসেবে তাকে নরসিংদীর শিবপুর থানায় নেওয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার তাকে নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেন। এদিকে, বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক ও তার ছেলে সবুজ মল্লিকের মুক্তি, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিক হয়রানি-নির্যাতনের প্রতিবাদে যশোরের সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন। পরদিন মঙ্গলবার তারা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরনা দেন জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনে। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের যৌথ সভা থেকে বৃহস্পতিবার যশোরে অনুষ্ঠেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কর্মসূচি বর্জন, তাকে কালো পতাকা প্রদর্শন, যশোর পুলিশের সব ইতিবাচক সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত হয়।