পিছনে সুন্দরবন সামনে আকাশলীনা নদীর উপর ইত্যাদি


প্রকাশিত : মার্চ ১৬, ২০১৭ ||

আবু সাইদ: সাতক্ষীরা ও শ্যামনগরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এবার অনুষ্ঠিত হল মুন্সিগঞ্জের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে।

১৯৯০ এর দশকে শুরু হওয়া এই ইত্যাদি দক্ষিণ এশিয়ার সেরা বিনোদন অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সমাজের নানা অসংগতিকে ব্যঙ্গাত্মক ও রসময় করে তুলে মাতিয়ে তোলা হয় দর্শক মন। আর এই কারণে অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান হিসেবে দর্শক হৃদয় জয় করেছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে কলবাড়িতে অবস্থিত আকাশলীনা ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হল এবারের ইত্যাদি। বিগত ১৪ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালঞ্চ ও চুনা নদীর সংযোগ স্থলে ইত্যাদির শুভ উদ্বোধন ঘটে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ভাবনায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বারটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় সুন্দরবনের কোলে এবারের ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হল।

 

¯্রতোস্বিনী নদীর বুকে বিশালাকৃতির মঞ্চেই শুরু হল মূল অনুষ্ঠান। পেছনে সুন্দরবন বেষ্টিত সুসজ্জিত মঞ্চের সামনে কয়েকশত সারি সারি নৌকা দ্বারা তৈরি হয়েছে দর্শক গ্যালারী। হাজারো দর্শকের করতালির মধ্য দিয়ে জমকালো ঝলমলে আলোয় চিরায়ত হাসিমুখ নিয়ে মঞ্চে হাজির হলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত। একের পর এক নানা ধরনের ব্যতিক্রমী পর্ব চলতে থাকে। বিকাল ৫টায় শুরু হয়ে নানা ইভেন্টের মধ্য দিয়ে রাত ১১টায় শেষ হয়। জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আকবর “তোমার হাত পাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে ও একদিন পাখি পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে” দু’টি গান গেয়ে মাতিয়ে তোলেন হাজারো দর্শক হৃদয়। ইত্যাদির চিরায়ত পর্ব নানী নাতির সুন্দরবন বিষয়ক রসময় অভিনয় সরাসরি দেখে আনন্দে বিমোহিত হয় পুরো সাতক্ষীরাবাসী।

 

সমাজের বর্তমান সমস্যা নিয়ে শ্যামনগরের স্থানীয় শিল্পীবৃন্দের পটগান পরিবেশনা ইত্যাদির অনুষ্ঠান আরো একধাপ পূর্ণতা পায়। হাজার হাজার দর্শকের বহু আকাঙ্খিত দর্শক পর্ব শুরু হয় সুন্দরবন বিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে। সুন্দরবন ও সাতক্ষীরার নানা ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে চারজন দর্শককে মঞ্চে নিয়ে কেয়া কসমেটিকস এর পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদান করেন। ইত্যাদি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন পিপিএম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ ফারুক আহমেদ, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা, সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সাধারণ জনগোষ্ঠী। ইত্যাদি অনুষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিডিআর, কোষ্টগার্ড, ডিবি ও আনছারসহ বহু নিরাপত্তাকর্মী সহযোগিতা করেন। সাতক্ষীরার ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং রাজা প্রতাপাদিত্যের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন নিদর্শনসমুহ ধারণ করেন ইত্যাদির মূল অনুষ্ঠানের জন্য, যা আগামী ৩১ মার্চ ২০১৭ তারিখে এবারের ইত্যাদি সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে সুন্দরবন তথা সাতক্ষীরার ইতিহাস ও  ঐতিহ্য সমগ্র বিশ্ববাসী দেখতে পাবে।