সামাজিক বন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম


প্রকাশিত : মার্চ ২১, ২০১৭ ||

ঞরসব ধহফ ঃরফব ধিরঃ ভড়ৎ হড়হব অর্থাৎ সময় ও ¯্রােত কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। তেমনি বর্তমান বিশ্বে নতুন নতুন সৃষ্টি, নতুন নতুন উদ্ভাবন থেমে নেই। মানুষের কল্যাণের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন যোগাযোগ মাধ্যম আবিস্কৃত হচ্ছে। আর সেটি সবচেয়ে দ্রুত প্রতিফলিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।
বর্তমান বিশ্ব তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির। আর এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রধান হাতিয়ার হল অনলাইন মিডিয়া। অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিমুহূর্তে বিশ্বের সকল খবরা-খবরসহ বেশীর ভাগ তথ্য সহজে জানা যায়। প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অর্থ্যাৎ অনলাইন মিডিয়ার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোর মধ্যে প্রধান হল: ফেইসবুক, টুইটার, হোয়াটস আপ, ইমো, ভাইবার ইত্যাদি। তবে এদের মধ্যে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সেতুবন্ধনের একটি প্রধান মাধ্যম। যার মাধ্যমে বিশ্বের সকল তথ্য ও ঘটে যাওয়া খবর সহজে জানা যায়। তাছাড়া এটি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সাথে সাথে অজানাকে সহজে জানা যায়। কেননা কহড়ষিবফমব রং ঢ়ড়বিৎ অর্থ্যাৎ জ্ঞানই শক্তি। আর এই জ্ঞানকে প্রসারিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে অতি মূল্যবান।
প্রতিটা ক্ষেত্রে, প্রতিটা মুহূর্তে, প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাই কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে কন্ঠে মিলিয়ে বলছে সবাই ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে’। অর্থাৎ বর্তমান প্রজন্ম বদ্ধ ঘরে না থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারা জগৎকে আজ হাতের মুঠোয় নিতে ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করছে। আর এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাথে একটা সেতুবন্ধন সৃষ্টি হচ্ছে।
নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন সম্পর্কে দেবহাটা কলেজের শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায় যে, আমাদের সমাজে যারা লেখাপড়া জানেন না তাদেরকে মূর্খ বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই কথাটি বদলে গেছে। কেননা আধুনিক সময়ে যারা সামাজিক যোগাযোগ সম্পর্কে জানেন না তারা বর্তমান সময়ে মূর্খের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হচ্ছেন। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রজন্মের সেতুবন্ধনের বিকল্প নেই।
বলা যায়, বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের রাষ্ট্রপ্রতি এড. আব্দুল হামিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছেন, সময়ের কাজ সময়ে কর, এর ভিতরে আনন্দ অন্তর্নিহিত। সুতরাং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেতুবন্ধন সৃষ্টি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এর মাধ্যমে উগ্রবাদি ও সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করার জন্য বিভিন্ন ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়, যা থেকে সমাজে শান্তি বিঘœ করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। সকল নেতিবাচক দিক পরিহার করে সমাজের শান্তি আনয়নের লক্ষ্যে সকলকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।
বর্তমান প্রজন্ম আজ শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ফেসবুক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব আর ছবি আপলোডের কাজই শুধু করছে না, পাশাপাশি দৈনন্দিন কর্মপরিকল্পনাও করছে এরই মাধ্যমে। এই সৃজনশীল মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অতীত দিনের নিজের কর্মকে সামনে আনছে । এই সামাজিক মাধ্যমটি মনে করে দিয়ে থাকে কে, কোথায়,কী কী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। ইহা নিজ সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও প্রসারে রাখছে কার্যকরি ভূমিকা। শত শত না হাজার লাখ ভক্ত সমর্থক বা কর্মী তৈরীও করে দিচ্ছে কর্মকান্ডের গ্রহণযোগ্যতার মধ্যদিয়ে। সুতরাং বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অবজ্ঞা করে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব। যে যেখানে থাকুন না কেন বন্ধুত্ব ও স্বপ্নের বলয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সবারই প্রয়োজন। লেখক: দেবহাটা কলেজের জয়ন্তী পাল, ইব্রাহিম খলিল, মেহেদী সাহান, সখিপুর আলীম মাদ্রাসার আরিফ বিল্লাহ, আমিনা খাতুন।