নবজীবনের চেয়ারম্যানের সাথে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দর মতবিনিময় মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত জনকল্যাণে কাজ করতে চান শহীদ খান


প্রকাশিত : মার্চ ২১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবজীবনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ খানের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেছেন। সোমবার সকাল ১১টায় নবজীবনের নিজস্ব কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, প্রেসক্লাব সদস্য আমিরুজ্জামান বাবু ও আ’লীগ নেতা শামীম খান। নবজীবন কেন এবং কি উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করলেন এমন প্রশ্নত্তোরে নবজীবনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ খান বলেন, সাতক্ষীরার পলাশপোলে আমার জন্ম। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ১৯৬৪ সালে সুদূর লন্ডনে যাই এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করি। প্রবাসে জীবন যাপন করলেও মন ও প্রাণ যেন পড়ে ছিল প্রিয় জন্মভুমি দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার পলাশপোলে। কর্মজীবনের পাশাপাশি সকল সময় আমার চিন্তা, চেতনা ও স্বপ্ন ছিল দেশের তথা বিস্তীর্ণ এলাকার দরিদ্র ও বেকার মানুষদের কর্মসংস্থান,  অসহায়, সুবিধা বঞ্চিত নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাবলম্বী করা,  স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষাদান, নারীদের সুশিক্ষিত করা, বৈষম্য দুরীকরণ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থসামাজিক উন্নয়ন সহ বিভিন্ন সেবামূলক কল্যাণকর কাজ করা। এই মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৮ সালে শহরের প্রাণকেন্দ্র পলাশপোলের পৈত্রিক বসতভিটায় নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত করি নবজীবন। নবজীবন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সেবাধর্মী এবং বেসরকারী উন্নয়নসংস্থা। সংস্থাটি জবাবদিহীতামূলকভাবে এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘদিন যাবত সুনামের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সরকারের মহতী উদ্যোগ “সকলের জন্য শিক্ষা” বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ সালে গ্রামে গ্রামে প্রতিষ্ঠা করি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়। সাথে সাথে শহরমুখী মানসম্মত শিক্ষাদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত করি নবজীবন ইনস্টিটিউট (নার্সারী থেকে দশম শ্রেণি)। সেখানে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বল্প ব্যায়ে, মেধাবীদের বিনা খরচে এবং এতিম ও দরিদ্রদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষাদানের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংগীত চর্চ্চারও ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৬ সালে এসএসসি, জেএসসি এবং পিএসসিতে উল্লেখযোগ্য পরিমান শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ প্রাপ্তী ছাড়াও ১০০% সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়।
তিনি বলেন, দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠির একটি বৃহৎ অংশ বেকার। শিক্ষার প্রসার ও বেকার সমস্যা দুরীকরণে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত করি কারিগরী শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত নবজীবন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। এখানে মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে প্রতিষ্ঠিত করা হয় মানসম্মত ল্যাব এবং নিয়োগ দেওয়া হয় অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী। যার ফলশ্রুতিতে প্রতিবছর এ-প্লাস প্রাপ্তিসহ শতভাগ ছাত্র-ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়। নবজীবন  পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী মেলায় প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে একটি স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। নবজীবনের দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১,৪০০জন। এ ছাড়া নবজীবনের উদ্যোগে বিনামুল্যে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, চক্ষুছানি অপারেশন, এতিম ও দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা, মহিলাদের দর্জি প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ, দরিদ্র বেকার পরিবারকে ভ্যান, পোল্ট্রি ফার্ম, গরু-ছাগল বিতরণ, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্যাকেজ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, কৃষি উন্নয়নে সেচ প্রকল্প প্রদান, সুপেয় পানি প্রাপ্তিতে জেলাব্যাপী গভীর-অগভীর নলকুপ স্থাপন, দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে স্বাবলম্বী করতে নবজীবন মাইক্রোফাইন্যান্স, সহ নানামুখী কার্যক্রম অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছে নবজীবন।
আগামীতে সাতক্ষীরাকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি! সাংবাদিকদের  এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে দীর্ঘায়ূ করলে শিক্ষার মানউন্নয়নে দেশের একটি অন্যতম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠিত করবো। তদুপরি, মৃত্যর পুর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
আমি স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রগতি, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং উন্নয়নে চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব। আমার প্রতিষ্ঠানে ১৬৩ জন বিভিন্ন পদে চাকরির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সর্বোপরি তিনি বলেন, সাতক্ষীরা তথা দেশের সার্বিক সমৃদ্ধি ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নবজীবনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সাংবাদিক, সুশীলসমাজ, প্রশাসন সহ সকলের নিকট আন্তরিক সহযোগিতার আশা ও প্রত্যাশা করছি। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নবজীবনের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন এবং নি:স্বার্থভাবে এ ধরণের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেন, আপনি যে “ভোগে নয়,  সৃষ্টিতে ও দেশের মানুষের কল্যাণে বিশ্বাসী” নবজীবন তার একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত।