শ্যামনগরের রমজানগরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীতে বিস্তর অভিযোগ


প্রকাশিত : মার্চ ২২, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার রমজানগর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী কার্ডধারীদের কয়েকজন জানান, বিগত ৩ দিন যাবৎ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ০৪, ০৫ও ০৬ নং ওয়ার্ডের ডিলার সোরা গ্রামের মোঃ মক্তার মোল্যার পুত্র মোঃ আনিছুর রহমান চাল দেওয়ার নাম করে অগ্রিম ৩০০ শত টাকা ও কার্ড জমা নিচ্ছে। প্রতিটি কার্ডধারীদের ৩০ কেজি চাল প্রদান না করে ২৯ কেজি করে চাল দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর স্বীকার করছে।
মঙ্গলবার বিষয়টি শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মনজুর আলমকে অবগত করলে তিনি চাল বিতরণের স্থানে উপস্থিত হয়ে ২৯ কেজি চাল প্রদান করার বিষয়টি জানেন এবং আনিছুর ও তার সহযোগী সোরা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মহাসীনকে প্রাথমিকভাবে হুশিয়ারি করে। কিন্তু তিনি যাওয়ার পর তারা আবার ওজনে কম দিতে থাকে। নাম প্রকাশে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর একজন কার্ডধারী বলেন, আমি অসুস্থ তারপরও আমি চাল আনতে গেলে চাল না দিয়ে বিভিন্ন ভাবে আমাকে হয়রানী করছে।
নাম প্রকাশে আরোকজন কার্ডধারী বলেন, এ পযর্ন্ত আমাকে তিন বারের পরিবর্তে দুই বার চাল দিয়েছে। তাদের নিকট জানতে চাইলে বিভিন্ন অযুহাত দেখায়। তিনি আরো বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের ভিতরে চাল পাইতে পারে তাহার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিষয়ে ০৪, ০৫ ও ০৬নং ওয়ার্ডের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার মোঃ আনিছুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ৩শ’ টাকায় ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। আমরা ৩০ কেজি করে চাল দিয়েছি এবং ইলেকট্রিক মিটারের মাধ্যমে ওজন করে চাল দেওয়া হয়েছে। চাল দেওয়ার সময় খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলো কম দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মনজুর আলম বলেন, ওজনে কম দিচ্ছে এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ডিলারকে বলা হলে তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন আরো কাউকে কম দেওয়া হবে না। যাদের কম দেওয়া হয়েছিল পরে তাদের পুষিয়ে দেওয় হয়েছে।