কালিগঞ্জের মুড়াগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন না করার অভিযোগ


প্রকাশিত : March 22, 2017 ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮৭নং মুড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ১৭মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবসে অনুষ্ঠান পালন না করার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক গত ১৮ মার্চ এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও সরেজমিন জানা যায়, গত ১৭ মার্চ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস পালনের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও মুড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন যথাযথ ভাবে পালন করেননি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের নিকট ওই বিদ্যলয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম এর পিতা দোজাহান গাজী লিখিত আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে গত ২০ মার্চ তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলামের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করেন। এসময় এলাকার কিছু মানুষ সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ জানান, ১৭ মার্চ শুক্রবার স্কুল খোলা ছিল। জাতীয় পতাকাও যথারীতি টানানো হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় ওইদিন অনুষ্ঠান পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে শিশুদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে এলাকায় গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে একজন অভিভাবক ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আমাকে মোবাইলে হুমকি দেয়। সে ব্যাপারে আমি ১৫ মার্চ থানায় জিডি করি। এর জের ধরে ওই মহলের পক্ষ থেকে স্কুলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়নি মর্মে অভিযোগ দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জহুরুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন যেয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছি। যেটুকু জানতে পেরেছি সে অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা দেবো।
এদিকে তথ্য সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মীরা মঙ্গলবার সকালে মূড়াগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে সেখানে উপস্থিত রতনপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বর মাসুম বিল্যাহ সুজন সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এসময় তিনি বলেন, বেশী তথ্য জানতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ফতেপুর-চাকদাহের মতো ঘটনা ঘটবে এবং তার দায়ভার সাংবাদিকদেরকে নিতে হবে। সাংবাদিকরা তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।