বিচারকের মামলায় ১৫ আইনজীবীর শাস্তির রায় এক ঘন্টা পর ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় আপিলে জামিন মঞ্জুর


প্রকাশিত : মার্চ ২২, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারকের দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় ১৫ আইনজীবীর প্রত্যেককে আড়াই বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ মাহমুদ। এছাড়া দুই জন আইনজীবীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার বিকাল চারটায় জনাকীর্ণ আদালতে ওই রায় ঘোষণা করা হয়। তবে রায় ঘোষণার এক ঘন্টার মধ্যে আপিলের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত উক্ত ১৫ আইনজীবীকে জামিন প্রদান করেন সাতক্ষীরার দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো. আমিরুল ইসলাম।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সর্ব এড. এম শাহ আলম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, আব্দুস সামাদ, আকবর আলী, তোহা কামালউদ্দীন হীরা, সিরাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আনিছুজ্জামান আনিছ, সোহরাব হোসেন বাবলু, সোহরাব হোসাইন, মিজানুর রহমান বাপ্পী, অসিম কুমার মন্ডল ও আলমগীর হোসেন। এছাড়া খালাসপ্রাপ্ত আইনজীবীদ্বয় হলেন, সরদার সাইফ ও মো. সাহেদ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক মো. ফখরউদ্দীনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে ২০১৩ সালের শেষের দিকে আন্দোলনে নামে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। ওই সময় আইনজীবীরা উক্ত আদালত বর্জনসহ আদালত চত্বরে মিছিল সমাবেশ করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর নারী-শিশু ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষের জানালা ও গ্লাস ভাংচুর করে। ওই ঘটনায় সে সময়ের নারী-শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ ফখরউদ্দীন বাদী হয়ে উপরোল্লিখিত ১৭ জন আইনজীবীর নামে দ্রুত বিচার আইনে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে এসআই হুমায়ুন কবির ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে আইনজীবী আসামীরা বিভিন্ন সময়ে উক্ত মামলায় জামিন লাভ করেন। মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে বিচার চলাকালিন সময়ে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে সর্বমোট ৭ জন সাক্ষী উপাস্থান করা হয়। যদিও মামলার প্রধান সাক্ষী বাদি সাবেক বিচারক মো. ফখরউদ্দীন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হুমায়ন কবির আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেননি। উক্ত মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মো. হাবিবুল্লাহ মাহমুদ উপরোল্লিখিত রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর আইনজীবীরা একই আদালতে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা না-মঞ্জুর করেন। এর পরপরই আইনজীবীরা উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল সহ জামিনের আবেদন করেন। শুনানী শেষে বিচারক জোয়ার্দ্দার মো. আমিরুল ইসলাম আপিল মামলাটি গ্রহণ করে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।



error: Content is protected !!