শ্যামনগরে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জাল দলিল করে দখল নিয়েছে কাশিমাড়ির সামছুর গাজি


প্রকাশিত : মার্চ ২৪, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিবাদী পক্ষের দলিল জাল এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সেফ কাস্টডি করে আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। বিবাদী সামছুর গাজি যাতে সংখ্যালঘু পরিবারকে জমি থেকে বেদখল করতে না পারে সে ব্যাপারেও আদেশ দেন আদালত।
এসব বিষয় উল্লেখ করে শ্যামনগরের বয়ারসিং গ্রামের গীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এর বিরুদ্ধে গাবুরার লেনিন বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। তারা বাদির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে হয়রানিমূলক মামলা দিচ্ছে। এমনকি পুলিশকে ম্যানেজ করে আদালতের রায়ও কার্যকর হতে দিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন গীরেন্দ্র। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্যামনগরের তালবাড়িয়া মৌজার সিএস ৬৪ নম্বর খতিয়ানে  সাবেক ৪৯১, ৪৯২ ও ৬৫৪ দাগে ২৯ একর সম্পত্তি তার বাবা সন্যাসী বিশ্বাস ও বাউল সরকারের রেকর্ডীয় জমি ভ্রমবশত: সরকারের নামে এসএ রেকর্ড হয়েছে। এই রেকর্ড সংশোধনের জন্য যুগ্ম জেলা জজ ২ নম্বর আদালতে ২৩/১১ নম্বর দেওয়ানি মামলা দাখিল করেন তিনি। অথচ ওই সম্পত্তির বিপরীতে জাল দলিল সৃষ্টি করে শ্যামনগরের কাশিমাড়ির সামছুর গাজি দখল করে নেয়। তিনি এখন তার জামাতা লেনিন বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করেন। এসব কারণে তাদেরকে মামলায় পক্ষ করে আদালতে নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত দাখিল করলে আদালত সামছুর গাজির দলিল জাল বলে ঘোষনা করেন। পরে যাতে সংখ্যালঘু পরিবারটি ওই জমি ভোগদখল করতে পারে সে ব্যাপারেও নির্দেশ দেন আদালত।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও শ্যামনগর থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে সামছুর গাজি ও লেনিন বাহিনী জমির ওপর যাতে গীরেন্দ্র পরিবার না যেতে পারে সে ধরণের হুমকি দিয়ে চলেছে। এ নিয়ে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলে ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।  কিন্তু সে নির্দেশও কোনো কাজে আসেনি বলে জানান গীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। গীরেন্দ্র বিশ্বাস এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।