হতদরিদ্র স্বপ্নকর্মী সাহিদা বেগম এখন স্বাবলম্বী


প্রকাশিত : মার্চ ৩১, ২০১৭ ||

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: একজন তালাকপ্রাপ্ত হতদরিদ্র জীবন সংগ্রামী মহিলা সাহিদা বেগম (৪৯) ১২নং ইউনিয়নে ৫নং ওর্য়াডের স্থায়ী বাসিন্দা। সংসারে ২টি মেয়েদের মুখে দু’বেলা দুমুটো অন্ন তুলে দিতে দিনরাত অন্যের বাড়িতে কাজ করে। সাহিদা বেগম জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে চাইলেও দারিদ্রতার তাকে ছাড়ে না।তবে এভাবে আর কতদিন। একজন মহিলার পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠে সংসার চালানো। মনের জোরেই সন্তান ও মায়ের দিকে তাকিয়ে শুধু দু’বেলা দু-মুঠো অন্নের সন্ধানে পরে বাড়ীতে কাজ করে। কুল হারা মাঝির মত জীবন সাহিদার। তার বসতভিটা বলতে নিজ নামে ২শতক জমি রয়েছে।
এমনই একদিন ২০১৫ সালে আগস্ট মাসে মাইকে শুনতে পায় তালা উপজেলায় খলিলনগর ইউনিয়নে স্বপ্ন প্রকল্পের ৩৬ জন হতদরিদ্র মহিলা নিয়োগ করা হবে। শুনে সাহিদা বেগম নির্ধারিত স্থান ইউনিয়ন পরিষদে এসে জাতীয় পরিচয়পত্র অন্যন্যা কাগজপত্র নিয়ে এলে লটারীর মাধ্যমে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। এরপর ১৮ মাসে ৪৪৩ দিন কাজের চুক্তিতে রাস্তায় মাটি দিয়ে সংস্কারের কাজ শুরু করে। প্রতিদিন ২’শ টাকা হিসেবে পেতে শুরু করে। ইউএনডিপি বাংলাদেশের অর্থায়নে, বেসরকারী সংস্থার সুশিলনের সহযোগিতায় উৎপাদনশীল সম্ভাবনাময় কর্মের সুযোগ গ্রহনে নারীর সামর্থ উন্নয়ন ‘স্বপ্ন প্রকল্পের মৌলিক সেবা প্রদানের লক্ষে’ হতদরিদ্র মহিলাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে এই প্রকল্পটি। প্রকল্পের সদস্য হিসেবে কাজ শেষে নিজ নামে ব্যাংক থেকে মজুরির টাকা উত্তোলনের সময় সঞ্চায় হিসেবে ৫০ টাকা করে রেখে দিতো। বর্তমানে ফতেমা বেগম সংসার চালিয়ে তার ব্যাংক ২২ হাজার ১’শ ৫০ টাকা করে। ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে প্রকল্পের প্রথম মেয়াদ শেষ হয়েছে। নিজ গ্রাম  খলিলনগর গ্রামে একজন স্বপ্নকর্মী হিসেবে কাজের ফাকে ফাকে বাড়ীর পাশে একটি চায়ের দোকান করি এবং সেখান থেকে প্রতিদিন ২শ/২৫০ টাকা উর্পাজন করি বলে জানান স্বাবলম্বী সাহিদা ।
বর্তমানে সাহিদা বেগম সংসারে যে সুবাতাস বইছে। এই প্রতিবেদককে সাথে কথা হলে খলিলনগন গ্রামে বাসিন্দা  এক সন্তানের জননী সাহিদা বেগম জানান, আমার স্বামী তালাক দিয়ে চলে গেলে এক সন্তানকে মাকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাযাপন করি। বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে কোন রকম দিনটি পার হতে হয়েছে।  স্বপ্নকর্মী হিসেবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। স্বপ্ন প্রকল্পের কাজ পেয়ে এখন অনেক সুখী। সংসার নিয়ে সন্তান নিয়ে ভাল আছি।  এখন নিজ একটা ১০ হাজার টাকা দিয়ে চায়ের দোকান করছি। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৭ হাজার টাকা মালামাল রয়েছে এবং সেটা বেচে আমি আমার ছেলেমেয়েদের ঠিকমতো দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারছি। এই স্বপ্ন প্রকল্পের এসে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। আমি এখন সুখি জীবন যাবন করছি। যদি আরো একবার কাজের সুযোগ হয় তাহলে নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত স্বাবলম্বী নারী হিসেবে  থাকবো।