ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যানের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ঘরে জামায়াত, তারা গৌতম হত্যাকারীদের সাথে আপোষের তদবির করছে


প্রকাশিত : মার্চ ৩১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলেজ ছাত্র গৌতম হত্যাকারীদের সাথে গৌতমের বাবার আপোষ করানোর জন্য বারবার তদবির করছেন তারা। এই কাজে সহায়তা না করার কারণে হত্যা মামলার আসামিরা আমাকেও খুন করার হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে করা সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন। তিনি বলেন, গৌতম হত্যকারীরা এলাকার আবদুল কাদের, রহিলউদ্দিন ও আবুবকর সিদ্দিকের পোষ্য। আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে তারা এলাকায় চাঁদাবাজি করতো। আর এর প্রতিবাদ করায় অকালে প্রাণ হারালো নিরীহ কলেজ ছাত্র গৌতম সরকার। গৌতম ও আবুল কালাম হত্যাকারীদের কেউই তার সমর্থক নয় বলে জানান চেয়ারম্যান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আরও বলেন, নিহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আমার পথপ্রদর্শক ছিলেন। আমি তার হত্যাকারীদের বিচার দাবি করছি। তিনি বলেন, ছনকা গ্রামের কামাল হোসেন, ঘোনার আলমগীর, রাজীব, ইউনুস, বেলাল এলাকার মাদকসেবী ও বিক্রেতা। তাদের অনেকে সম্প্রতি দলে এসেছে ও মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদাবাজি করছে। তিনি বলেন, আবুবকর সিদ্দিক ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী প্রচার করেন। তার বাবা আকবর আলি ছিলেন জামায়াত নেতা। আবুবকর সিদ্দিকের ছোট ভাই সাইফুজ্জামান মিঠু এখন জামায়াত নেতা। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আবুবকর সিদ্দিকের ঘরে বড় জামায়াত বাস করে। তার সাথে কারও সম্পর্ক খারাপ হলে তাকে তিনি জামায়াত বলে গাল দেন। তার পুকুর ধারে নিয়মিত গাঁজার আসর বসে। আবদুল কাদেরকে এলাকার আদু ভাই হিসাবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ছনকা গ্রামের দুই সতীনের পুকুর ধারে মিনি পার্লামেন্ট বানিয়ে তিনি গাছকাটা, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যান তার লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, গত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রর্থীরা তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য গত ২৩ মার্চ তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। তার এলাকায় হিন্দুদের জমি দখল এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ কল্পিত ও মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ নেতা অরুন কুমার ঘোষ, প্রসাদ কুমার মজুমদার ও স্বপন বিশ্বাস বলেন, বরং চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পক্ষে অনেক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দাঁতভাঙ্গা বিলের জমি লীজ ডীড নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মোনায়েম এর কাছ থেকে অস্থাবর অংশ ক্রয় করে ঘের করছেন দাবি করে চেয়ারম্যান আরও বলেন, সে এলাকায় এবার প্রচুর ধান হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মোনায়েম নিজেও উপস্থিত ছিলেন। দশ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রিতে কোনো নিয়ম বহির্ভুত কাজ হচ্ছে না জানিয়ে চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন ঘোনা বিওপি কমান্ডারকে গালমন্দ করায় বিজিবি কর্তৃক  কামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘোনা বাজারে লিয়াকত আলির সাথে কিছু লোকের কথা কাটাকাটির ঘটনার সাথেও তার কোনো সম্পর্ক নেই। এলাকার কিছু স্বার্থাণে¦ষী লোক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল বাসার, আবদুল করিম, স্বপন বিশ্বাস, ভৈরব চন্দ্র ঘোষ, শাহিনুর রহমান, রবিউল ইসলাম, গনেশ চন্দ্র সরকার, মোতাসিমবিল্লাহ, তাসলিমা খাতুন, নাজমিরা সুলতানা ও রাবেয়া পারভিন উপস্থিত ছিলেন। তারা ছাড়াও চেয়ারম্যানের সপক্ষে এলাকার বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।