ধুলিহরের মেয়ে খাদিজাকে অপহরণ করে ভারতে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় থানায় এজাহার


প্রকাশিত : মে ৩, ২০১৭ ||

পত্রদূত ডেস্ক: সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের কন্যা খাদিজাকে ভারতে পাচার করে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে খাদিজার মা মাজেদা খাতুন।

 

এজাহার সূত্রে প্রকাশ, মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের শফিকুল ইসলামের কন্যা মোছা. খাদিজা খাতুন(১৬) কে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত ০৫-০৬-২০১৬ তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আসামী মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো. আব্দুল মাজেদের স্ত্রী মোছা. শহিদা খাতুন (৩৮) ও পুত্র মো. কাজল (২১) বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।

কিছুদিন পরে কন্যার পরিবারের লোকজন খোঁজ খবর নিলে আসামীদ্বয় বলে তোমার কন্যা ভারত রাষ্ট্রের বোম্বে আছে। সেখানে সে আমার কন্যার সাথে ভাল আছে। মোবাইলে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে দেইনি। এমতাবস্থায়  ইতিপূর্বে ১নং আসামী ধুলিহর কাজিরবাসা গ্রামের মোছা. বেগম খাতুন (২৬) কে ভারতে নিয়ে যায়। উক্ত বেগম খাতুন আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ দিন আগে বোম্বে শহরের কোন এক জায়গায় দেখে যে, খাদিজা খাতুনকে উল্লেখিত আসামীদ্বয় পাচারকারীদের নিকট বিক্রয় করার পর খাদিজা খাতুন তাদের সাথে যেতে না চাহিলে তাহারা তাকে প্রচ- মারপিট করে এবং গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দ্বারা পোড়াইয়া তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। আগুনে পোড়াইয়া হত্যা করার সময় শতশত লোক ঘটনার বিষয়টি মোবাইলে ভিডিও করলে উক্ত বেগম ভিডিও ফুটেজটি গত ২২-০৪-২০১৭ তারিখে খাদিজার আত্মীয় কাজিরবাসা গ্রামের আব্দুল্লাহ গাজীর পুত্র মো. হাবিবুল্লাহ(২১) এর কাছে প্রেরণ করে।

খাদিজার পরিবারের লোকজন ভিডিও ফুটেজটি দেখে কন্যাকে সনাক্ত করে। কন্যার সন্ধানসহ ভিডিও ফুটেজটি সংগ্রহ পূর্বক এবং ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা আইনের পরামর্শ দেওয়ায় গত ২৬-০৪-১৭ তারিখে সাতক্ষীরা সদর থানায় এসে এজাহার করতে বিলম্ব হলো বলে বাদীনীর দাবি। তাই সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি তদন্তপূর্বক মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন নিহতের পরিবার ও সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।