বাগান থেকে আম পাড়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগে হুমকি


প্রকাশিত : মে ৩, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক এক ব্যক্তির অমবাগান থেকে ৩৫/৪০ মণ গোবিন্দভোগ আম পেড়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ায় ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা।

বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলার নামাজগর গ্রামের মো. হাসমত আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মৌতলা গ্রামের বর্তমান ভিটায় বসবাস করে আসছেন। গত ১৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে এলাকার এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মৌতলা গ্রামের সুমন ও রায়হান মৌতলা নামাজগড় গ্রামের রফিক সাহাজী ও আনার আলী সাহাজীর হুমকুমে আমার দখলীয় সম্পত্তির উপর লাগানো আমবাগান থেকে জোর পূর্বক ৩৫/৪০ মণ গোবিন্দভোগ আম পেড়ে নিয়ে যায়। এসময় বাধা দিলে তারা আমাদেরকে দড়ি দিয়ে আমগাছের সঙ্গে বেধে রেখে ব্যপক মারপিট ও জখম করে ৭৫/৮০ হাজার টাকা মূল্যের আম আত্মসাৎ করে। একই গ্রামের খলিল হাওলাদার, খলিলের ছেলে ছট্রু হাওলাদার ও রনি হাওলাদার এবং জিয়াদ মোড়ল এসময় সন্ত্রাসীদেরকে সহযোগিতা করে। এঘটনায় ২০ এপিল তিনি নিজে বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। থানায় অভিযোগ দেয়ার পর সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে তার ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রফিক সাহাজী, আনার আলী সাহাজী, খলিল হাওলাদার, ছট্টু হাওলাদার, রনি হাওলাদার ও জিয়াদ মোড়লসহ এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী সুমন ও রায়হান ২০১৩ সালে জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা পরবর্তী বিভিন্ন নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ছিল। ইতিমধ্যে তারা সহিংসতা ও নাশকতার বিভিন্ন মামলায় জেলও খেটেছে। সুমন ও রায়হান এর নামে ৫/৬টি নাশকতার মামলা রয়েছে। সুমন ও রায়হান এলাকার কিছু প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দু’জন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন লোকের জমি-জায়গা জবর দখল করে খাচ্ছে। রফিক ও আনার আলী ভারতের ৪টি মার্ডার কেচের পলাতক আসামী। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য তারা প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
তিনি ওইসব সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।