শ্যামনগরে অপরিচিত পাগলিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা: বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি


প্রকাশিত : মে ৫, ২০১৭ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অপরিচিত এক পাগলিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা করায় আসামীরা বাদী ও সাক্ষীদের মারপিট ও তাদের নামে হয়রানিমূলক মিথ্যে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের আব্দুল্লাহ আকন্দের মেয়ে মামলার বাদী মারুফা খাতুন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১০ এপ্রিল শ্যামনগর উপজেলার বড় ভেটখালী গ্রামে অপরিচিত এক পাগলিকে একই গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী পার্শ্বেখালী গ্রামের কতিপয় দুস্কৃতিকারি বেদম মারপিট করলে সে মারা যায়। প্রশাসনকে না জানিয়ে আসামীরা নদীর চরে ওই পাগলির লাশ মাটি চাপা দেয়। এঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে আদালতে সিআরপি নং-৯৪/১৭ মামলা দায়ের কারি। এঘটনার পর মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল, স্থানীয় আব্দুল করিম ও আসামীরা আমিসহ সাক্ষীদের ডেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য একটি এফিডেভিটে স্বাক্ষর করে দিতে বলেন। এসময় চেয়ারম্যান বলেন, আমি প্রশাসনের সহযোগিতায় মহিলা মেম্বার সেলিনাসহ অন্যদেরকে পাগলির লাশ কবর দিতে বলেছিলাম। এনিয়ে তোমরা বেশী বাড়াবাড়ি করো না। এফিডেভিটে স্বাক্ষর করে মামলা তুলে না নিলে তোমরা এই গ্রামের বসবাস করতে পারবে না। চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন মিথ্যে মামলায় দিয়ে তোমাদেরকে গ্রাম ছাড়া করবো। একপর্যায় গালিগালাজ করে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, এঘটনার একদিন পর ২মে বেলা ১০টার দিকে মামলার সাক্ষী মীরগাং গ্রামের অজিয়ার গাজীর ছেলে ফিরোজ হোসেন মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে সুন্দরবন বাজারের সুফিয়ানের চায়ের দোকানের সামনে রাস্তার উপর পৌছালে আসামীরা তাকে মারপিট করে। এসময় তার কাছে থাকা মাছ বিক্রির ৮৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয় তারা। এঘটনায় ফিরোজ বাদী হয়ে ৪ মে আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। এতে করে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল, আব্দুল করিম মাষ্টার ও সেলিনা মেম্বরের লোকজন তাদের উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি পাগলি হত্যা মামলা যাতে ধামাচাপা দিতে না পারে সেজন্য আসামীসহ উল্লেখিতদের কবল থেকে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের জান মালের নিরাপত্তার জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।