বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্তের গ্রুপ জানা উচিত কেন?


প্রকাশিত : মে ৬, ২০১৭ ||

ডা. নাসির
এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেক কথা আসলে বলা যায়, তবে সারাংশটা এরকম-একটা মেয়ের রক্তের জয নেগেটিভ হলেই, বেবি হবার সময় তাকে অতিদ্রুত অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তার স্বামীর রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন সেটা বিবেচ্য না। আর মেয়েটির জয পজিটিভ হলে, রক্ত নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তাই বিয়ের আগে ছেলের নয়, মেয়েটির রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি।

 

কেন? জয হচ্ছে একটা প্রোটিন। জয পজিটিভ মানে শরীরে সেই প্রোটিন আছে। আর জয নেগেটিভ মানে শরীরে সেই প্রোটিন নেই। যে মেয়ের রক্ত জয নেগেটিভ, তার শরীর জয প্রোটিন চিনে না। জয তার কাছে একটা জীবাণুর মত। তার রক্তে জয ঢুকিয়ে দিলে, রক্ত সেটাকে একটা রোগের জীবাণু ভেবে আক্রমণ করবে এবং মেরে ফেলবে। এখন এই মেয়েটির যে বেবি হবে, সে যদি জয পজিটিভ হয় এবং বেবির রক্ত যদি মেয়ের শরীরে চলে আসে, তাহলে কি ভয়ংকর ব্যপারই না হবে! মেয়ের শরীর বেবির রক্তকে জীবাণু ভেবে আক্রমণ করে মেরে ফেলবে। দু’জনরেই রক্ত স্বল্পতায় ভুগতে থাকবে। আর মেয়ে যদি জয পজিটিভ হয়, মানে তার শরীর জয প্রোটিন চিনে, তাহলে তাকে জয দেওয়া আর না দেওয়া একই কথা। জয প্রোটিন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে না শরীরে। তাই রক্তে জয থাকলেই যা, না থাকলেও তা। আসল সমস্যা তার রক্ত জয চিনে কি না। রক্তের গ্রুপ, রক্তে তিন ধরণের প্রোটিন পাওয়া যায়, অ প্রোটিন ই প্রোটিন এবং জয প্রোটিন।

 

অ, ই প্রোটিন দুটোই থাকলে তাকে বলে অই। দুটোই না থাকলে তাকে বলে ঙ। ঙ আসলে রক্তের কোন গ্রুপ না, এটা শুধু প্রকাশ করে যে অ, ই প্রোটিন দুটোর একাটাও নেই রক্তে। অ, ই প্রোটিন থাকলে তাকে অ বা ই দিয়ে বুঝায়। জয প্রোটিনকে শুধু যোগ বা বিয়োগ চিহ্ন দিয়ে বুঝায়। যার রক্তে শুধু অ প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে অ- যার রক্তে শুধু অ, জয প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে অ+ যার রক্তে শুধু ই প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ই- যার রক্তে শুধু ই, জয প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ই+ যার রক্তে শুধু অ, ই প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে অই- যার রক্তে তিনটায় থাকে; অ, ই, জয প্রোটিন থাকে, তার গ্রুপকে বলে অই+ যার রক্তে শুধু জয প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ঙ+ যার রক্তে কোন প্রোটিনই থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ঙ- রক্তের এই তিনটা প্রোটিন অ প্রোটিন ই প্রোটিন এবং জয প্রোটিন আসলে কি কাজ করে মানব শরীরে- এটা এখন কেউ বার করতে পারেনি। তবে মনে করা হয় এরা শ্বেতরক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। শ্বেতরক্তকণিকা জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে আমাদের শরীরকে রোগশোক থেকে রক্ষা করে। তাই হয়ত যার যত বেশি এই প্রোটিন থাকবে তার অসুখ-বিসুখ তত কম হবে। মানে অই+ গ্রুপ হয়ত সবচেয়ে ভাল, যেহেতু তার সব প্রোটিনই আছে। দুর্ভাগা সম্ভবত ঙ-, যার তিনটা প্রোটিনের একটাও নেই। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ