বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই নুর আলম ক্লোজড


প্রকাশিত : মে ৬, ২০১৭ ||

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল পোর্ট  থানার এসআই নুর আলম নিয়ম নীতি না মেনেই প্রায় চার বছর ধরে গোটা পোর্ট থানা এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় থেকে শুরু করে তার সব অপকর্মের চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানলেও তাকে পোর্ট থানা থেকে সরাতে পারেনি। অবশেষে এই নুর আলমকে গত বুধবার রাতে যশোর পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি শুক্রবার দুপুরে প্রকাশ পায়। তার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন পাঁচ ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রী।
অভিযোগে এই ভারতীয় নাগরিক পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন মঙ্গলবার ও বুধবার তাদেরকে আটকে মাদক মামলার চালানের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। কলকাতার বাসিন্দা নারায়ন বিশ্বাস (পাসপোর্ট নং-জেড-৪০৩৫১৬৪) ও তার স্ত্রী শেফালি বিশ্বাস (পাসপোর্ট নং-জেড-৩৯৯০৭৯৩), বাসুদেব ঘোষ (পাসপোর্ট নং পি-৫১০৪৫০৭) এবং তরুন রায় (পাসপোর্ট নং জেড-৪০৩৫৭০৩) কে বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করে তাদেরকে ইয়াবা দিয়ে চালনের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ এবং বুধবার কোলকাতার রফতানিকারক আলী হোসেন কবিরকে (পাসপোর্ট নং জেড-৪০৩৭৮৪২) বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করে। তাকেও পোর্ট থানায় নিয়ে ইয়াবা দিয়ে চালানের ভয় দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন। এসআই নুর আলমের এর হাত থেকে মুক্তি পেয়ে তারা সবাই যশোরে এসে এক আত্মীয়ের কাছে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই পাঁচ জনের পক্ষ থেকে আলী হোসেন কবির পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তারপর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর ওই রাতেই তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
ভারতীয় নাগরিক আলী হোসেন কবির জানান, পুলিশ সুপার অফিসের রিসিভ করা অভিযোগ পত্র নিয়ে আমরা বিষয়টি ঢাকায় ভারতীয় দুতাবাসে জানাবো। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এসআই নুর আলম ক্লোজড বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ আবু সরোয়ারও ভারতীয় নাগরিকদের অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও বেনাপোল চেকপোষ্টর এলাকার, তুিরকুল, রনজন, মামুন, মুনতাজ, আশারাফ আলী, সিরাজ, কাদির, রাজ্জাক, আকতার, ছালাম, হাফিজুর, মফিজুর, সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরী, আলী হোসেন সহ প্রায়২৮ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ধুর ইয়াবা ও ফেনসিডিল দিয়ে চালান করে দেওয়ার নামে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তার ক্লোজড এর খবরে এলাকার মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। সে বড়আচড়া গ্রামে বে নামে বিশাল একটি অট্টালিকা  গড়ে তুলেছেন। নির্বাক পৌর প্রশাসন সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বেনাপোল পোর্ট থানার কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ উঠছে।