ঝিকরগাছায় বজ্রপাতে ৩জন নিহত: মারা গেছে ২টি হালের বলদ

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছায় শুক্রবার সকালে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে মারা গেছে হালের দুটি বলদ। স্থানীয়রা জানায়, সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার নিশ্চিনমশপুর এলাকার একব্বর আলীর ছেলে কৃষক ইউনুস আলী হালের দুটি বলদ নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বজ্রপাতে তিনিসহ গরু দুটি মারা যায়। অপরদিকে, একই উপজেলার বায়সা এলাকার তাজউদ্দিনের ছেলে জসিমুদ্দিন সকালে মাঠে যাচ্ছিলেন শসা তুলতে। ওই সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। জসিমুদ্দিন এবার এসএসসি পাশ করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ঝিকরগাছা থানার ওসি মাসুদ করীম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

কপিলমুনিতে পরীক্ষায় অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় এক শিক্ষার্থী ক্ষোভে দু:খে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। জানাযায়, কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী সোনাতনকাঠি গ্রামের ইবাদুল মোড়লের ছেলে রাজিব মোড়ল (১৬) গত বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিজের অকৃতকার্য হওয়ার খবর পেয়ে ওই দিনই রাতে স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের পাশে একটি গাছের ডালে সাথে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রাজিব হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। মাতৃহারা রাজিবের এই আত্মহত্যার খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাইকগাছা থানার ওসি তদন্ত জাবিদ হাসান জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৪।

কপিলমুনিতে মন্দিরের সম্পত্তি আত্মসাৎ: বাঁধা দেয়ায় মন্দির কমিটি ও স্কুল শিক্ষককে হুমকি

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী রহিমপুর গ্রামের একটি মন্দিরের আত্মসাতকৃত জায়গা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে মন্দির কমিটি ও আত্মসাৎকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান কমিটি চাচ্ছে মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধার হোক পক্ষান্তরে আত্মসাৎকারী মুরারী মোহন গং মন্দিরের জায়গার দখল বজায় রাখতে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে গ্রামবাসি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকায় আতংকে দিনাতিপাত করছে।লিখিত অভিযোগে প্রকাশ, কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী উলুডাঙ্গা-রহিমপুর সার্ব্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গামাতা বিগ্রহ দেবতা মন্দিরটি রহিমপুর মৌজার এসএ ২০নং খতিয়ানের ৩৭৬ দাগের উপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানকার ৭০টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার মন্দিরটিতে নিয়মিত বিভিন্ন পূজা-অর্চনা করে আসছেন সেই শ্মরণাতীত কাল থেকে। তবে দীর্ঘ দিনের জরাজীর্ণ মন্দিরটি সংষ্কারে কেউ কখনো এগিয়ে আসেনি। এক পর্যায়ে ২০১০ সালের ১০আগস্ট এলাকাবাসি প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় মৃত হাজারী লাল নন্দীর পুত্র ও কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রনজিত কুমার নন্দীকে সভাপতি ও দুলাল চন্দ্র দে কে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। ঐ কমিটি জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে সরকারের টিআর প্রকল্প, জেলা পরিষদের অনুদান, এলাকাবাসির সহযোগীতা ও বিশেষ করে সভাপতি রনজিত নন্দীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক লক্ষ টাকার অনুদানে এক তলা ছাদ বিশিষ্ট একটি মন্দির নির্মাণ করেন। পাল্টে যায় দৃশ্যপট। এলাকাবাসির ঐ কমিটির প্রতি আস্থা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তারা দ্বিতীয় মেয়াদে গত ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট তাদেরকে পুনরায় অন্ত:ভূক্ত করেন। আর বিপত্তি ঘটে তখনই। স্থানীয় মুরারী মোহন দে তার স্ত্রী কল্পনা রাণী দে’র নামে উক্ত মন্দিরের অনুকূলীয় সমুদয় সম্পত্তি যথাক্রমে ১৯৮২ সালের ৮ ডিসেম্বর ও ২৮ জুন যথাক্রমে ৭৫৫৭ ও ৪৯২২ নং দলিল মূলে তালার ইসলাম কাটি সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেজিস্ট্রি করান। সেই শ্মরণাতীত কাল থেকে ঐ জমিতে মন্দির স্থাপিত থাকলেও তিনি কি করে এবং কেন ভিন্ন এলাকা থেকে জমিটি রেজিস্ট্রি করান তা নিয়ে এলাকাবাসী ও বিশেস করে মন্দির কমিটির মধ্রে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। রীতিমত তাদের কাছে দলিল দু’টি তঞ্চকতাপূর্ণ বলে সন্দেহ হলে নেমে পড়েন আইনি লড়াইয়ে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরে গত ১৯ অক্টোবর ১৬’পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি অভিযোগ হলে গত ২০১৬ সালের ৮ নভেম্ভর ২২৭ নং স্মারকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কপিলমুনি ভূমি অফিসকে নির্দেশ দেন। যার প্রেক্ষিতে কপিলমুনি ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক গত ৩০ জানুয়ারী ১৭’১১/ভূমি নং স্মারকে  সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে তার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে মুরারী মোহন গং উক্ত মন্দির কমিটি বিশেষ করে সভাপতি রনজিত নšদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে মিথ্যাচার শুরু করেন। এমনকি তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ-চাকুরিচ্যুত, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, ভারতে তাড়িয়ে দেয়া সহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মন্দির কমিটি সহ শান্তি প্রিয় এলাকাবাসি।

ভেজাল মধু তৈরীর অপরাধে সাজা

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: চিনি জ্বালিয়ে ভেজাল মধু তৈরীর অপরাধে পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর বাজার থেকে ৪মণ ভেজাল মধু সহ যতিন্দ্রনগর গ্রামের ইমান আলীর ছেলে সোয়েব আলীকে আটক করে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে  এক হাজার টাকা জরিমানা এবং ভেজাল মধুর মাটির সাথে মিশিয়ে বিনষ্ট করার নির্দেশ দেন।

জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৫৩

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলায় পুুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ৫৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  যার মধ্যে ১ জন জামায়াত কর্মী রয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন স্থান থেকে ৫৫০ গ্রাম গাঁজা, ১০০পিচ ইয়াবা, ৭০ বোতল ফেন্সিডিল ও ০১ লিটার দেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, আটকদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর থানার ১৯ জন, কলারোয়া থানার ৭ জন, তালা থানার ৮ কালিগঞ্জ থানার ৭ জন, শ্যামনগর থানার ৩ জন, আশাশুনি থানার ৪ জন, দেবহাটা থানার ১ জন ও পাটকেলঘাটা থানার ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

দু:খকে জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে আনুলিয়ার শাহিদা খাতুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: দু:খকে জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে আশাশুনি উপজেলার নাংলা গ্রামের চার সন্তানের জননী শাহিদা খাতুন। উপার্জিত টাকা দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এখন ভালই চলছে তার সংসার।
জীবন যুদ্ধে জয় করা শাহিদা খাতুন জানান, খুব ছোট বেলায় আনুলিয়া ইউনিয়নের নাংলা গ্রামের আকবর আলীর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে চার ছেলে মেয়ে জন্ম গ্রহণ করে। ভালই চলছিল তাদের সংসার। হঠাৎ স্বামী আকবর আলীর মস্তিকের সমস্যা হলে সংসারে কালো ছায়া নেমে আসে। সেই থেকে সংসারে অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটতে থাকে। ছোট ছোট সন্তান থাকায় এলাকার কোন লোক দিনমজুর হিসেবে কাজে ডাকতোনা। ফলে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চেয়ে চিন্তে কোন রকমে দিন পার করত সে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপি সহযোগিতায় স্বপ্ন প্রকল্প আসে আশাশুনির বিভিন্ন এলাকায়। যেটি তত্বাবধানের দায়িত্ব পান বে-সরকারি সংস্থা সুশীলন। তালাক প্রাপ্ত, হতদরিদ্রদের এ কাজে অগ্রাধিকার থাকায় লটারীর মাধ্যমে আনুলিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে নিয়োগ পান তিনি। দৈনিক ২শত টাকা হারে স্বপ্নকর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকে সে। এর মধ্যে দেড়শত টাকা দিনে ও ৫০টাকা সঞ্চয় রাখা হয়। বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ ও ১৮ মাস কাজ করতে থাকে শাহিদা। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ি দলের সকল কর্মীদের দুইশত টাকা করে অর্ধমাসে কেটে রেখে লটারীর মাধ্যমে পর্যায় ক্রমে সকলের মাঝে বিতরণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে দিনের টাকার সাথে লটারীর ৭২০০ টাকা পায় শাহিদা। লটারীর টাকা দিয়ে প্রথমে একটি ফসলি জমি লিজ নেয় সে। সেই জমিতে ধান ও মাছ চাষ করে লাভবান হতে থাকে শাহিদা। আর লাভের টাকা দিয়ে হাঁস ক্রায় করে হাঁসও পালন করছে সে। এখন দিনে ৪থেকে ৫শতটাকা আয় করছে। বর্তমান তার পুঁজি দাড়িয়েছে ৩০ হাজার টাকা।
আর সেই উপর্জিত অর্থ দিয়ে ঘর তৈরি, ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্বপ্ন প্রকল্পে কাজ করে সমাজের দশ জনের মত চলতে ও জীবনের আলোর দিশা খুজে পেয়েছেন শাহিদা।

জেলার চারাবাড়ি সীমান্তের বিজিবির বাঁধার মুখে বিএসএফ মাটি কাটা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলার চারাবাড়ি সীমান্তের সোনাই নদী থেকে বিজিবির বাঁধার মুখে বিএসএফ মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর সাতক্ষীরা ৩৮বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। এর পর সোনাই নদীর তীরে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে বিজিবির আহবানে দু’দেশের কোম্পানি কমন্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরার ৩৮ বিজিবির তলুই গাছা ক্যাম্পের কোম্পানি কমন্ডার আহম্মদ আলী জানান, সীমান্ত আইন লংঘন করে সোনাই নদীর ভিতর থেকে বিএসএফ মাটি কাটার কাজ করছিল। এ সময় বিজিবি সদস্যরা বিএসএফকে মাটি কাটতে নিষেধ করেন। বিএসএফ তাদের বাধা অতিক্রম করে উত্তেজিত হয়ে মাটি কাটার চেষ্টা করেন। এরপর বিজিবি জোর প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেন। পরে শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষার্থে তলুই গাছা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও ভারতের তারালি বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমন্ডার পর্যায়ে বিকেলে এক পতাকা বৈঠাক হয়। পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির তলুই গাছা ক্যাম্পের কোম্পানি কমন্ডার আহম্মদ আলীসহ বিজিবির ৭ সদস্য। অপরদিকে, ভারতীয় বিএসএফ এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন, তারালি ক্যাম্পের কোম্পানি কমন্ডার মনোজ সেনসহ ৮ বিএসএফ সদস্য। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ আর সোনাই নদী থেকে মাটি কাটবেন না বলে বিজিবিকে আশ্বস্ত করেন।
সাতক্ষীরা ৩৮বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে: কর্ণেল আরমান হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুষ্ঠ ও শান্তি পূর্ণ পরিবেশে দু দেশের কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ সোনাই নদী থেকে আর কোন মাটি কাটবেননা বলে বিজিবিকে জানিয়েছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক সাঈদ মেহেদীর অনন্য দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক নাগাড়ে মাথায় আল্টা বেধে এলাকার চেয়ারম্যানের সাথে মাটির ঝুড়ি বইলেন অর্ধশতাধিক তরুণ। স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের পানিয়া গ্রামের ছোড়াকুড়ার পিয়ার আলীর বাড়ি থেকে আনু সরকারের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা।
শুক্রবার টানা ৫ ঘণ্টা মাটির ঝুড়ি বহন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী। যিনি এর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় কর্তৃক খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন।
চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তরুণদের এ কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে ঝুড়ি মাথায় কাজে নেমেছিলেন ওই এলাকার মহিলা ইউপি সদস্য মাহফুজা খাতুন, এলাকার মসজিদের ইমাম, এনজিও কর্মী এবং একজন গ্রাম্য ডাক্তারও।
ওই এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান এলাকার ছেলে। তার নেতৃত্বে মৌতলা ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আর আজকের এই কাজের মধ্যদিয়ে সে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
এলাকার তরুণদের নিয়ে রাস্তার কাজ প্রসঙ্গে কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী জানান, জনপ্রতিনিধিরা তো মূলত উজ্জীবক। যে কোনভাবে এলাকার মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারলে অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিরা সঠিকভাবে উজ্জীবকের ভূমিকা পালন করতে পারলে দেশ উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছে যাবে।
কিন্তু আমাদের দেশে একবার কেউ ভোটে নির্বাচিত হলে তার তো আর মাটিতে পা পড়ে না। এই সংস্কৃতি ভাঙতে হবে, যোগ করেন তিনি।

কলারোয়া ইসলামী ব্যাংক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের কেন্দ্র প্রধানদের প্রশিক্ষণ

কলারোয়া প্রতিনিধি: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সাতক্ষীরার কলারোয়া শাখার পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র প্রধানদের প্রশিক্ষণ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খুলনা জোনের প্রধান মো: মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলারোয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরাফাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংকের খুলনা জোনের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান মীর আনিছুর রহমান। এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলারোয়া ইসলামী ব্যাংকের এ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা প্রধান আবুল হোসেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলারোয়া ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার অপারেশন্স আবুল হোসেন, বিনিয়োগ বিভাগের প্রধান অহিদুজ্জামান, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের কেন্দ্র লিডার নুরুন্নাহার বেগম, তানজিলা খাতুন, মাছুরা বেগম, আরিফা খাতুন রুমা, শামীমা আফরোজ, মেহেরুন্নেছা, কল্পনা রানী, শাহেরা বেগম, কামরুন্নাহার, পরিতোষ কুমার রায় প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান কামরুজ্জামান।

কালিগঞ্জ উপজেলা তরুণলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণলীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন গাজী আব্দুস সবুর। গতকাল শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপজেলা তরুণলীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা বসন্তপুর গ্রামের পিয়ার আলী গাজীর ছেলে গাজী আব্দুস সবুর জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুনামের সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। শরীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কলারোয়ায় ফেন্সিডিলসহ আটক এক

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ নাজমুল ইসলাম (২৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব দেবনাথ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এসআই আজম মাহমুদ পিপিএম, এএসআই জাহিদ, লস্কার জোবায়ের হোসেন, নুর আলীসহ সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের শাহিনের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তা থেকে বৃহস্পতিবার এক ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তার কাছে থাকা বস্তা তল্লাসী করে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। আটক হওয়া নাজমুল ইসলাম সদর থানার আগরদাড়ি গ্রামের অহেদ আলির ছেলে। এঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফিংড়ীতে যুবলীগের আলোচনা সভা

ফিংড়ী প্রতিনিধি: সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সোহাগ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শেখ মনিরুল হোসেন মাসুম। ফিংড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অজয় দাশের সঞ্চলনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সামছুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আফছার উদ্দীন সরদারসহ সকল ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। সভার শুরুতে সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত শেখ আফজাল হোসেন মারুফের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সুর ও ছন্দে শিল্পকলায় জমেছিলো দু’বংলার শিল্পীদের বৈশাখী আড্ডা: নজরুল একাডেমীর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

েমা: আসাদুজ্জামান সরদার: জেলার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নজরুল একাডেমী’র ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা, সাতক্ষীরাপত্র’র মোড়ক উম্মোচন ও দুই বাংলার শিল্পীদের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নজরুল একাডেমী সাতক্ষীরার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এ. এন. এম মঈনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাঙ্গালি সংস্কৃতি রবীন্দ্র-নজরুলকে ঘিরে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিশ্ব মানবতাবাদের প্রবক্তা ও প্রতীক। তাকে ঘিরে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস প্রতিটি বাঙ্গালির। সাতক্ষীরা খুব তাড়াতাড়ি নজরুল ইসলামের মোরাল স্থাপন করা হবে। নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত নজরুল একাডেমীকে আমরা সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করবো।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি, নজরুল একাডেমীর প্রধান উপদেষ্ঠা এড. আব্দুর রউফ, সংগীত শিল্পী প্রকৌশলী অলোক সরকার, কবি গাজী শাহজাহান সিরাজ, শিক্ষক প্রাণকৃষ্ণ সরকার, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন, বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভি’র শিল্পী ও সুরকার আজিজুর রহমান প্রমুখ।

এসময় ভারত থেকে আসা ৮জন শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন- সংগীত শিল্পী বীণা ভট্টাচার্য, পায়েল মন্ডল, গোলক টিকাদার, সুমনা সমান্ত মুখার্জী, রাজেস মন্ডল, তবলা শিল্পী শৌভিক বারিক, আবৃত্তি শিল্পী অরবিন্দ ঘোষ, অধ্যাপক অভিষেক মুখার্জী ও মনোজশ্রী মুখার্জী। এসময় প্রধান অতিথি হিন্দি গান গেয়ে সবাইকে মাতিয়ে তোলেন। এর আগে সাংবাদিক কন্যা নুসরিকা অদ্রি জনপ্রিয় রবিন্দ্র সংগীত মায়বন বিহারিনী হরিণী গহন স্বপন সঞ্চারিনী কেন তারে ধরিবারে করি পণ অকারণ মায়াবন বিহারিনী’ গান গেয়ে দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া সাংবাদিক কন্যা শিখা চৌধুরীর কণ্ঠে ‘এ টুকু ছোঁয়া লাগে’ গানটি অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্য রকম আবেশ সৃষ্টি করে।

বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্তের গ্রুপ জানা উচিত কেন?

ডা. নাসির
এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেক কথা আসলে বলা যায়, তবে সারাংশটা এরকম-একটা মেয়ের রক্তের জয নেগেটিভ হলেই, বেবি হবার সময় তাকে অতিদ্রুত অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। তার স্বামীর রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন সেটা বিবেচ্য না। আর মেয়েটির জয পজিটিভ হলে, রক্ত নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তাই বিয়ের আগে ছেলের নয়, মেয়েটির রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি।

 

কেন? জয হচ্ছে একটা প্রোটিন। জয পজিটিভ মানে শরীরে সেই প্রোটিন আছে। আর জয নেগেটিভ মানে শরীরে সেই প্রোটিন নেই। যে মেয়ের রক্ত জয নেগেটিভ, তার শরীর জয প্রোটিন চিনে না। জয তার কাছে একটা জীবাণুর মত। তার রক্তে জয ঢুকিয়ে দিলে, রক্ত সেটাকে একটা রোগের জীবাণু ভেবে আক্রমণ করবে এবং মেরে ফেলবে। এখন এই মেয়েটির যে বেবি হবে, সে যদি জয পজিটিভ হয় এবং বেবির রক্ত যদি মেয়ের শরীরে চলে আসে, তাহলে কি ভয়ংকর ব্যপারই না হবে! মেয়ের শরীর বেবির রক্তকে জীবাণু ভেবে আক্রমণ করে মেরে ফেলবে। দু’জনরেই রক্ত স্বল্পতায় ভুগতে থাকবে। আর মেয়ে যদি জয পজিটিভ হয়, মানে তার শরীর জয প্রোটিন চিনে, তাহলে তাকে জয দেওয়া আর না দেওয়া একই কথা। জয প্রোটিন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে না শরীরে। তাই রক্তে জয থাকলেই যা, না থাকলেও তা। আসল সমস্যা তার রক্ত জয চিনে কি না। রক্তের গ্রুপ, রক্তে তিন ধরণের প্রোটিন পাওয়া যায়, অ প্রোটিন ই প্রোটিন এবং জয প্রোটিন।

 

অ, ই প্রোটিন দুটোই থাকলে তাকে বলে অই। দুটোই না থাকলে তাকে বলে ঙ। ঙ আসলে রক্তের কোন গ্রুপ না, এটা শুধু প্রকাশ করে যে অ, ই প্রোটিন দুটোর একাটাও নেই রক্তে। অ, ই প্রোটিন থাকলে তাকে অ বা ই দিয়ে বুঝায়। জয প্রোটিনকে শুধু যোগ বা বিয়োগ চিহ্ন দিয়ে বুঝায়। যার রক্তে শুধু অ প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে অ- যার রক্তে শুধু অ, জয প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে অ+ যার রক্তে শুধু ই প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ই- যার রক্তে শুধু ই, জয প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ই+ যার রক্তে শুধু অ, ই প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে অই- যার রক্তে তিনটায় থাকে; অ, ই, জয প্রোটিন থাকে, তার গ্রুপকে বলে অই+ যার রক্তে শুধু জয প্রোটিন থাকে, আর কিছু থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ঙ+ যার রক্তে কোন প্রোটিনই থাকে না, তার গ্রুপকে বলে ঙ- রক্তের এই তিনটা প্রোটিন অ প্রোটিন ই প্রোটিন এবং জয প্রোটিন আসলে কি কাজ করে মানব শরীরে- এটা এখন কেউ বার করতে পারেনি। তবে মনে করা হয় এরা শ্বেতরক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। শ্বেতরক্তকণিকা জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে আমাদের শরীরকে রোগশোক থেকে রক্ষা করে। তাই হয়ত যার যত বেশি এই প্রোটিন থাকবে তার অসুখ-বিসুখ তত কম হবে। মানে অই+ গ্রুপ হয়ত সবচেয়ে ভাল, যেহেতু তার সব প্রোটিনই আছে। দুর্ভাগা সম্ভবত ঙ-, যার তিনটা প্রোটিনের একটাও নেই। লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ