বীরমুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলা: ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট এর স্বাক্ষ্য সম্পন্ন, পরবর্তী তারিখ ২৫ মে

নিজস্ব প্রতিনিধি: দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার পুনরায় স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে মামলার অন্যতম প্রধান আসামী কাজী সাইফুল ইসলামের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট অবসরপ্রাপ্ত সচিব সুশেন চন্দ্র রায়ের স্বাক্ষ্য সম্পন্ন হয়। এছাড়া মামলার অপর স্বাক্ষী নিহতের কন্যা লায়লা পারভীন সেঁজুতির দ্বিতীয় দিনের মত জেরা চলাকালে তিনি অসুস্থ্যতা অনুভব করায় তার জেরা অসমাপ্ত রাখা হয়। এছাড়া গত ৭ মে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. নওশের আলী এবং ২৮ এপ্রিল লায়লা পারভীন সেঁজুতির স্বাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩জন স্বাক্ষীসহ এ পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ১৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত আগামী ২৫ মে মামলার পরবর্তী স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে।
১৯৯৬ সালের ১৯ জুন সাতক্ষীরা শহরের শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সামনে সে সময় অবস্থিত দৈনিক পত্রদূত অফিসে কর্মরত অবস্থায় ঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন। এ ব্যাপারে ঐ দিন নিহতের মেঝ ভাই স ম নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে আসামীদের নাম অজ্ঞাত রেখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৫ দিনপর সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ শহরের সুলতানপুরের কাজী আব্দুল ওহাবের ছেলে কাজী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামী সাইফুল সাতক্ষীরা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে এবং হত্যাকান্ডে জড়িত অপর আসামী ও হত্যাকান্ডের কারন সমূহ প্রকাশ করে। দীর্ঘ ১১ মাস তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের মে মাসে সিআইডির তৎকালীন এএসপি খন্দকার মো. ইকবাল হোসেন ১০ জনকে আসামীভুক্ত করে এই মামলার চার্জশীট দাখিল করে।
মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামীরা হলো সাতক্ষীরার কথিত গড়ফাদার আলিপুরের আব্দুস সবুর ও সুলতানপুরের খলিলুল্লাহ ঝড়–। ঝড়–র দুই ভাই মোমিন উল্লাহ মোহন ও সাইফুল্লাহ কিসলু (বর্তমানে মৃত)। কামালনগরের আবুল কালাম ও তার ভগ্নিপতি আব্দুর রউফ। এছাড়া সুলতানপুরের এসকেন্দার মির্জা, কিসলুর ম্যানেজার আতিয়ার রহমান, প্রাণসায়রের সফিউর রহমান ও যুবলীগ কর্মী কাজী সাইফুল ইসলাম।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে বিচার শুরু প্রাক্কলে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হলে তারা হাইকোটে কোয়াশমেন্টের আবেদন করে এবং একে কেন্দ্র করে মামলা দীর্ঘদিন হাইকোট ডিভিশন ও আ্যাপিলেট ডিভিশনের আদেশে স্থগীত ছিল। পরবর্তীতে মামলাটি আসামীদের কোয়াশমেন্ট সংক্রান্ত আবেদন নামঞ্জুর হয়। দ্বিতীয় দফায় মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে আসামীরা পুনরায় মামলাটি সাতক্ষীরা জেলার পরিবর্তে যশোর কুষ্টিয়া বা দেশের অন্য কোন জেলায় বিচারের জন্য আদালত পরিবর্তনের আবেদন করে। হাইকোট ঐ আবেদন খারিজ করলে তার বিরুদ্ধে আসামীরা অ্যাপিলেট ডিভিশনে যায়। অ্যাপিলেট ডিভিশনও আসামীদের আবেদন নামঞ্জুর করে। এভাবে প্রায় ১৫ বছর উচ্চ আদালতে মামলার বিচার আটকে থাকার পর ২০১১ সালে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার শুরু পর আসামীদের অব্যাহত হুমকি ধামকির পরও প্রথম ২ বছরে ১৬ জনের স্বাক্ষ্য সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে নানাবিধ কারনে দীর্ঘদিন স্বাক্ষী হাজির হয়নি। সম্প্রতি মামলাটির আবারো স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন পিপি এড. ওসমান গনি। তাকে সহায়তা করছেন প্রবীন আইনজীবী এসএম হায়দার, এড. আজাহারুল ইসলাম, এড. ফাহিমুল হক কিসলু প্রমুখ। অপরদিকে আসামী পক্ষে যশোরে এড. হাসান ইমাম, এড. আব্দুল মুজিদ, এড. জিএম লুৎফর রহমান, এড. বাসারত উল্লাহ আওরঙ্গি, জহুরুল হক প্রমুখ।

রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নয়, সারা বিশ্বের কবি: কাজী রিয়াজুল হক

পত্রদূত ডেস্ক: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ও লোকমেলা-১৪২৪ এর সমাপনী অনুষ্ঠান বুধবার সন্ধ্যায় খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহিস্থ রবীন্দ্র কমপে¬ক্স প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চেয়ারম্যান বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নয়, সারা বিশ্বের কবি। রবীন্দ্রনাথ কেবল  কালের কবি নন, তিনি সর্বকালের। তিনি বাংলা সাহিত্যকে পূর্ণতা দিয়েছেন, দিয়েছেন বিশ্বসমাজে উচ্চ প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জানতে হবে ও বুঝতে হবে।  রবীন্দ্রনাথ অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, উপনাস্য, নাটক, গীতিনাট্য ও  প্রবন্ধর পাশাপাশি সংগীত রচনা করেছেন। বিশ্ব মানবতার কবি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সকল মানুষের জন্য রবীন্দ্রনাথের দরজা আমরা খুলে দেবো।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের বিশালতা এবং তাঁর সৃষ্টির অপূর্ব মাধুর্যকে উপলব্ধি করতে হলে রবীন্দ্রচর্চা ও গবেষণার উপর জোর দিতে হবে। সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পমাধ্যমের প্রতিটি শাখায় তাঁর অনায়াস বিচরণ সত্যিই বিস্ময়কর। রবীন্দ্রনাথ বাংলা ও প্রকৃতিকে ভালবাসতেন। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের তিনি একাšত আপনজন। ররীন্দ্রনাথ শুধু বাঙালির নয়, তিনি সারা বিশ্বের বিশ্বনন্দিত এক সাহিত্য মহাপুরুষ।
খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন  খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম হাবিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খুলনা জেলা ইউনিটের কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান। খুলনা জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন ফুলতলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার কাজী জাফর উদ্দিন, ফুলতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং শিক্ষাবিদ আনয়ারুজ্জামান। ‘রবীন্দ্রনাথের গানে সুরবৈচিত্র্য’ বিষয়ে আলোচনা করেন খুলনা সরকারি ব্রজলাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

স্কুল শিক্ষার্থী হারিয়েছে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র দেবহাটা উপজেলার খাসখামার গ্রামের আব্দুল খালেক সরদারের ছেলে কাদিরুল ইসলাম (১৩) গত সোমবার সন্ধার পর বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে গেছে।

অনেক খোজাখুজির পরও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। কোন সৎ হৃদয়বান ব্যক্তি যদি তার সন্ধান পান তাহলে ০১৭৫৭-৯৩২৯৬৮, ০১৯২৮-২২২১৬৯ অথবা ০১৯৬২-০২৭২৮৬ নাম্বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারে পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ভূয়া অবমুক্ত ও দখল ঘোষণা: মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জমি আত্মসাৎ করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর প্রকৌশলী ও এস.ও কে ম্যানেজ করে ভূয়া অবমুক্ত ও দখলনামা দেখিয়ে জমি আত্মসাৎ করায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

 

জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল মৌজার ১২৯৬৩ দাগের ইটাগাছায় ০.১১একর জমি পাকিস্থান আমল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসময় ইটাগাছা এলাকার মৃত বৈদ্যনাথ বিশ্বাসের ছেলে সুব্রত বিশ্বাস খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পাড়ে পরিত্যক্ত জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর অধীনে এবং তারা ওই জমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছে। সুব্রত পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তিনি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী রাজস্ব দিয়ে ইজারা নেয়ার জন্য গত ৬ এপ্রিল এল, এ কেস নং- ৫৫/৬১ এর মাধ্যমে একটি লিখিত আবেদন করে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর এসও ও নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপ প্রকৌশলী জানায়, ওই দাগের জমি পূর্ব মালিকদের নামে অবমুক্ত করা হয়েছে। আপনার কাছে জমির ইজারা দেয়া যাবে না। প্রকৃত পক্ষে জমি অবমুক্ত করা হয়েছে কিনা জানার জন্য সুব্রত জেলা প্রশাসক অফিসে (হুকুম দখল শাখায়) যোগাযোগ করে। তারা এলএ কেসের ১২৯৬৩ নং দাগের জমি অবমুক্ত’র বিষয়ে কোন জমি হস্তান্তরের দখলনামা নথিতে পাওয়া যায়নি বলে জানান। দখলামাটি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দেখালে তারা আরো বলে, দখলনামা হস্তান্তর করার সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে যৌথভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে হস্তান্তর করা হয়।

 

সুতরাং সংযুক্ত দখলনামাটি সঠিক না বলে প্রমাণিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষরা সঠিক হলেও সুব্রত কে ইজারা না দেয়ার কথা জানায়। এঘটনার পর স্থানীয় কাউন্সিলর কালু কে মৌখিক ভাবে জানালে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জায়গায় সুব্রত’র দখলে রাখা ইট, খুটি ও বালি মিমাংশা না হওয়া পর্যন্ত কাউন্সিলরের অধীনে রাখার জন্য বলে। তারই প্রেক্ষিতে জমিতে রাখা মালামাল স্থানীয় আ’লীগ অফিসের সামনে রাখা হয় এবং মিমাংসা না হওয়া পর্যন্ত ও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জমিতে সুব্রত ও অপর পক্ষ হরিপদ কর্মকার গং জমিতে কোন কাজ করতে পাবেনা বলে জানায়। এঘটনার পর বারবার কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিমাংসা না করে কালক্ষেপন করতে থাকে। তবে তখনও ওই জমিতে সুব্রত’র মাটি ও বালি রাখা ছিল।

 

 

হঠাৎ একদিন পর ভোর বেলা কাউন্সিলর পৌরসভার লেবার দিয়ে ওই জমিতে রাখা মাটি ও বালি অপসারণ করতে থাকে। সুব্রত তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের চাপে মালামাল গুলো অন্যত্র সরিয়ে রাখা হচ্ছে। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের-১ অফিসে কাউন্সিলর কে নিয়ে প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কাউন্সিলর কে ভূয়া দখলনামাকারী কে জমির দখল সত্ত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। এসময় তিনি সুব্রত কে বলেন, ওই জমি অবমুক্ত হয়েছে এজন্য তাকে ইজারা দেয়া যাবে না বলে তাকে তাড়িয়ে দেয়। এ সকল ঘটনার পর সাতক্ষীরা সদর এমপি কে মৌখিক ভাবে জানানো হয়। ঘটনার ২দিন পর গত  মে এসও, প্রকৌশলী ও স্থানীয় আ’লীগ নেতারা অপরপক্ষ হরিপদ কর্মকারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের কে জমির সীমানা বুঝিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন। এব্যাপারে তারা আর কোন কথা বলতেও রাজি হয়নি বলে সুব্রত জানায়। এসকল ঘটনায় ভূয়া দখলনামাসহ ইজারার অবেদন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা পরিচালক, ঢাকা দূর্ণীতি দমন কমিশনের মহা পরিচালক ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এব্যাপারে সুব্রত প্রশাসন সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাতক্ষীরার ৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল

পত্রদূত ডেস্ক: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় সাতক্ষীরার ৪ আসমি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জামাতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল, আব্দুল্লাহ-হিল বাকী, খান রোকনুজ্জামান এবং জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে এ মামলার পলাতক দুই আসামি খান রোকনুজ্জামান ও জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফ্রেস ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপনের পর ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। এসময় ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। এসময় আসামি আব্দুল খালেক মন্ডলের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এবং আসামি আব্দুল্লাহ হেল আল-বাকীর আইনজীবী এম আবদুর রউফ ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান উপস্থিত ছিলেন।
চার আসামির মধ্যে খালেক মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয় তদন্তকালেই। গত ৮ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর শতবর্ষী আব্দুল্লাহ হেল আল-বাকীকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর হেফাজতে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয় এ আসামিকে। বয়স বিবেচনায় ১০৩ বছর বয়সী বাকীকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে ছিলেন প্রসিকিউটর চমন।
বাকি দুই আসামি খান রোকনুজ্জামান ও জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান পলাতক। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আব্দুল্লাহ-হেল আলী বাকীসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়।
এ মামলায় ২০১৫ সালের ৭ অগাস্ট তদন্ত শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর পর এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। তদন্তকালে ৬০ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হলেও মামলার সাক্ষী করা হয়েছে ৩৩ জনকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক খান বিপিএম।
সাত অভিযোগ
অভিযোগ-১: ১৯৭১ সালের ১৮ অগাস্ট সকাল ৮টার দিকে বুধহাটা খেয়াঘাটে বেতনা নদীর পাড়ে আফতাবউদ্দিন ও সিরাজুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে স্থানীয় খলিলুর রহমান, মো. ইমাম বারী, মো. মুজিবর রহমান ও ইমদাদুল হককে রাজাকার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্র ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগ-২: ১৯৭১ সালেরর পহেলা ভাদ্র ধুলিহর বাজার থেকে কমরউদ্দিন ঢালী নামের একজনকে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায় ১০/১২ জন রাজাকার সদস্য। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সাতক্ষীরা মহকুমার রাজাকার কমান্ডার এম আব্দুল্লাহ-হেল আল বাকী ও খান রোকনুজ্জামান। পরে ঢালীর মৃতদেহ পাওয়া যায় বেতনা নদীর পাড়ে।
অভিযোগ-৩: ১৯৭১ সালের পহেলা ভাদ্র বুধবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে রাজাকার কমান্ডার বাকী, রোকনুজ্জামান খানসহ ৪-৫ জন মিলে সবদার আলী সরদারকে চোখ বেঁধে পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। পরে আর তার সন্ধান মেলেনি।
অভিযোগ-৪: সোহেল উদ্দিন সানা নামের এক ব্যক্তি তার বড় ছেলে আব্দুল জলিল সানাকে সঙ্গে নিয়ে পহেলা ভাদ্র বুধহাটা বাজার অতিক্রম করার সময় রাজাকার কমান্ডার ইছাহাক (মৃত) ও তার সঙ্গী রাজাকারদের হাতে আটক হন। পরে তাদের ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সোহেল ও সানার সন্ধান আর মেলেনি।
অভিযোগ-৫: ১৯৭১ সালে ৭ আষাঢ় সকাল ৭টার দিকে আবুল হোসেন ও তার ভাই গোলাম হোসন নিজেদের বাড়ির পাশে হালচাষ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে গোলাম হোসেন বাড়িতে নাস্তা খেতে এলে আসামি আব্দুল খালেক মন্ডল ও জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খানসহ ১০/১২ জন রাজাকার সদস্য এসে তাকে পাশের পাটক্ষেতে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
অভিযোগ-৬: ১৯৭১ সালের ২ ভাদ্র সকালে বাশদহ বাজারের ওয়াপদা মোড় থেকে মো. বছির আহমেদকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর তার বুড়ো আঙ্গুলের রগ কেটে দেয় রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযোগ-৭: ১৯৭১ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে আসামি আব্দুল খালেক মন্ডল ও রাজাকার কমান্ডার জহিরুল ইসলাম টিক্কা খান একদল পাকিস্তানি সৈন্যকে সঙ্গে নিয়ে কাথন্ডা প্রাইমারি স্কুলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ডেকে মিটিং করে। সেই মিটিংয়ে বলা হয়, যারা আওয়ামী লীগ করে এবং যারা মুক্তিযুদ্ধে গেছে তারা ‘কাফের’। এরপর তারা কাথন্ডা ও বৈকারি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি-ঘর লুট করে জ্বালিয়ে দেয়। সে সময় তারা মৃত গোলাম রহমানের স্ত্রীকে তার বাড়ির রান্নাঘরের পেছনে আটকে ধর্ষণ করে। এছাড়া বৈকারি গ্রামের এক নারীকে মৃত শরীয়তউল্লাহর ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে।

আশাশুনির বড়দলে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ আনলেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান তুহিন হোসেন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনির বড়দল ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান তুহিন হোসেন। তিনি বলেন, তিনি নিজে প্রার্থী হলেও নানা অজুহাতে তাকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে একজন নারীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। আজ তিনি কাজে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন তুহিন হোসেন।  তুহিন গোয়ালডাঙ্গা জামালনগরের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সরদারের ছেলে। এতোদিন ওই পদে ছিলেন তার বাবা লতিফ সরদার। কিন্তু তিনি পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ছেলে হিসাবে তুহিন সেই পদে দীর্ঘদিন অস্থায়ীভাবে বিনা বেতনে কাজ করে আসছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষার জন্য তিনি গত ৪ মে একটি ইন্টারভিউ কার্ড পান। অথচ পরীক্ষা হয়েছে লিখিত ও মৌখিক দুই রকম। তিনি জানান, ৩০ নম্বরের পরীক্ষায় ২৮টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর তিনি দিয়েছেন। সেই হিসাবে তার নাম শীর্ষে থাকবার কথা। অথচ তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না জানতে  পেরে আশাশুনির ইউএনও এর সাথে সাক্ষাত করেন তিনি। ইউএনও সুষমা সুলতানা তাকে বলেন, ওই পদে  জামায়াত শিবিরের হাতে নিহত একজন পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী আজমিরা বেগম যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাদের পারিবারিক বিষয় টেনে এনে তুহিন বলেন নিহত পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর দ্বিতীয় বিবাহ হয়েছে তার দেবরের সাথে।  এছাড়া পারিবারিক আরও কিছু বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন বর্তমানে ওই পরিবারটির সাথে আজমিরার কানো যোগাযোগ নেই। তবে ইউএনও এসব বিষয় কানে তুলতে রাজী হন নি। সংবাদ সম্মেলনে তুহিন আরও বলেন নিয়োগ বোর্ড বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত। এমনকি বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আলিম ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মিসেস রিফাত আমিনও তুহিনের পক্ষে সুপারিশ করেছেন। তা সত্ত্বেও আশাশুনির ইউএনও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হিসাবে তাকে বাদ দিয়ে আজমিরা বেগমকে চাকুরি দিয়েছেন। আজ তাকে যোগদানের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান তুহিন। তিনি এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

কলারোয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে হালখাতার খাওয়া দাওয়া!

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে হালখাতার খাওয়া দাওয়া!! চলছে হালখাতার মৌসুম। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতার খাওয়া দাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে প্রায় সর্বত্র। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হালখাতার খাওয়া দাওয়া যদি হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে, তবে সেটা বড়ই বেমানান। এমনই ঘটনা ঘটেছে কলারোয়ার চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। আর সেই হালখাতা মিষ্টান্নতে সীমাবদ্ধ নয় বরং রীতিমত মাংস ভাতের আয়োজন।
গত সোমবার সকাল থেকে চন্দনপুর হাইস্কুল চত্বরে চলছিল ডেকোরেটর দিয়ে রান্নাবান্নার আয়োজন। দুপুর থেকে গভীর রাত অবধি ওই স্কুলেরই শ্রেণিকক্ষে চলে বসিয়ে মাংস ভাতের খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। খোজ নিয়ে জানা গেলো ওই খাওয়া দাওয়ার আয়োজনটি স্কুলের কোন অভ্যন্তরীণ আয়োজন বা বিষয় নয় বরং এক ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হালখাতার খাওয়া দাওয়া।
চন্দনপুর হাইস্কুল সংলগ্ন গয়ড়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আবদুল গফফারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হালখাতায় ক্রেতাদের বসিয়ে মাংস ভাতের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় স্কুলটির শ্রেণিকক্ষে।
এখানেই শেষ নয়। গত সপ্তাহতেও একইভাবে স্কুল চত্বরে রান্না করে ব্যবসায়ীক হালখাতার ভাত-মাংসের খাওয়া দাওয়া করানো হয় স্কুলটির শ্রেনিকক্ষে। সেই হালখাতার আয়োজন করেন গয়ড়া বাজারের আরেক মুদি ব্যবসায়ী ও আব্দুল আলিম।
ওই হালখাতার খাওয়া দাওয়ায় ভারত থেকে অবৈধপথে আনা কাটা মাংস যেটি অনেকাংশে পচে গিয়ে খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছিল সেই মাংস রান্নার প্রস্তুতি মুহুর্তে স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ওই পচা মাংস মাটিতে পুতে ফেলা হয়। তবু থেমে থাকেনি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে হালখাতার খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।
এখানে উল্লে¬খ্য যে, দুই মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল গফফার ও আব্দুল আলিম চন্দনপুর হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী শহর
ব্যবসায়ীক হালখাতা অনুষ্ঠানের ভাত-মাংসের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে করা হলো সেটি অনেকের বোধগম্য নয়। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে যেমন নাখোশ তেমনি প্রশ্ন উঠেছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়েও। ‘হেড মাস্টার ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বলে কথা’-বিষয়টি নিয়ে এমনই মন্তব্য করছেন অনেকে।
ঘটনাটি এখানেই শেষ নয়। গত সোমবার ব্যবসায়ী আবদুল গফফাররে হালখাতার খাওয়া-দাওয়া স্কুলের শ্রেণিকক্ষে চলাকালীন সন্ধ্যার পরে কলারোয়া থেকে যাওয়া ক্যাটারিং গ্রুপের এক সদস্যের নারীঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু যুবকের সাথে কথা কাটাকাটির সময় উভয় পক্ষের সাথে লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্কুলের শ্রেণিকক্ষে হালখাতার খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে চন্দনপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আনছার আলী জানান, বর্তমানে স্কুলে গরমের ছুটি থাকায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শহর আলীর অনুরোধে তার দুই ভাই আব্দুল গফফার ও আব্দুল আলিমের দোকানের হালখাতার খাওয়া-দাওয়ার লক্ষে ঘন্টা দুয়েকের জন্য অনুমতি দেয়া হয়। শহর আলী ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হওয়ায় ও তিনি অন্যান্য সদস্যের সাথে কথা বলায় খাওয়া-দাওয়া অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়। সকাল থেকে রান্নাবান্না ও গভীর রাত অবধি খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।
ওই হালখাতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে প্রধান শিক্ষক আনছার আলী জানান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি জানান, ‘স্কুলটির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে, এজন্য প্রধান শিক্ষক দায়ী।’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেনো ব্যবসায়ী কর্মকান্ড চলবে এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। কলারোয়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, ‘এ বিষয়টি নিয়ে তিনি অবগত নন।’

কলারোয়ায় তরুণ ব্যবসায়ী রেজা মাহমুদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন তরুন ব্যবসায়ী রেজা আশিক মাহমুদ (৩৫)। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিনিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীর অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
সে পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা ২নং ওয়ার্ড মাছ বাজার এলাকার বাসিন্দা ও কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মইনুল হকের ছোট ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ৩ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলারোয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরাফাত হোসেন, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু নসর, সাবেক উপাধ্যাক্ষ আব্দুল মজিদ ও আব্দুুর রাজ্জাক, আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক আরবী প্রভাষক মাওলানা ওমর আলী, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, তালা কলেজের অধ্যক্ষ মহিদুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানী, কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, ব্যবসায়ী কাজী সাঈদুজ্জামান সাঈদ, ডাক্তার কাজী শামসুর রহমান প্রমুখ।

চ্যানেল আইয়ের স্বর্ণ কিশোরী’ ও ‘স্বর্ণ সূর্য টিভি অনুষ্ঠানে কলারোয়ার দু’ক্ষুদে শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রাজধানী ঢাকার চ্যানেল আই স্টুডিওতে টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হলো ৯ মে মঙ্গলবার। ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থী। চ্যানেল আই অনুষ্ঠানের ক্ষুদে গানরাজ কলারোয়ার লামিয়া ও মেহেদী হাসান যথাক্রমে ‘স্বর্ণ কিশোরী’ ও ‘স্বর্ণ সূর্য’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কলারোয়া উপজেলাকে গর্বিত করেছে। অনুষ্ঠানে ‘বাল্য বিবাহ বন্ধ, বয়:সন্ধি স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুগঠিত করা’ বিষয়ে শপথবাক্য পাঠ, কুইজ প্রতিযোগিতা, লিখিত পরীক্ষা ও উপস্থিত বক্তৃতার আয়োজিত হয়।
স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সাথে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী ‘স্বর্ণ কিশোরী’ ও ‘স্বর্ণ সূর্য’ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন।
কলারোয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকায় স্বর্ণ-কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন কর্তৃক চ্যানেল আই স্টুডিওতে টিভি অনুষ্ঠান নির্মানে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ক্ষুদে গানরাজ কলারোয়া গালর্স পাইলট হাইস্কুলের ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্রী সাংবাদিক সামসুর রহমানের একমাত্র কন্যা লাবণ্য রহমান লামিয়া ও উপজেলার দেয়াড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসান অংশগ্রহণ করে।
ওই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন স্বর্ণ-কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও সিইও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারজানা ব্রাউনিয়া। স্বর্ণ-কিশোরীর ওই অনুষ্ঠানে কলারোয়ার দুই শিক্ষার্থীর সাথে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ, শিক্ষক সাংবাদিক শামছুর রহমান লাল্টুসহ অন্য উপস্থিত ছিলেন।

বাগদা চিংড়িতে পুশ বিরোধী অভিযান

বুড়িগোয়ালিনী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বাগদা চিংড়িতে পুশ বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মামুন হোসেন ও এএসআই মোকলেসুর রহমান বুধবার সকালে নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ১০ কেজি পুশকৃত বাগদা চিংড়ি আটক করে কেরাসিন তেল দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। এসময় অভিযানের কথা জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই বাগদা চিংড়ি বিক্রি করতে আসেনি।

কেন্দ্রীয় নেতা এ্যানির আগমন সফল করার লক্ষ্যে শহর বিএনপির প্রস্তুতি সভা

আগামী ১৩ মে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক, সাবেক এমপি, সাবেক ছাত্র নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির আগমন উপলক্ষে শহর বিএনপির প্রস্তুতিমুলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ মে সন্ধ্যা ৭টায় শহর পলাশপোলস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে শহর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবির সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ছাত্র নেতা রহমতুল্লাহ পলাশ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান।

 

শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহিনের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক শের আলী, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, তালা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, আব্দুল জলিল খোকন, ওলিউর রহমান ওলি, ইলিয়াস হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, অধ্যাপক জয়নাল, অরিফ হোসেন, মতিনুর রহমান কচি, মনি, পলাশ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ১৩ মে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার আগমন ও প্রতিনিধি সভা সফল করার জন্য শহরের ৯টি ওয়ার্ডের সকল নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত থেকে সকল কর্মসুচি সফল করার এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে সাতক্ষীরার সকল আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার আহবান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জেলা তাঁতীদলের প্রস্তুতি সভা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) ও অংগ সংগঠনকে সু সংগঠিত করতে জেলায়  জেলায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জেলা নেতৃবৃেন্দর সাথে মত বিনিময় শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৩ মে সাতক্ষীরা জেলা সফর করবেন কেন্দ্রীয বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরি এ্যানি। তার সফর উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকালে সাতক্ষীরা বানানী মার্কেটের ৩য় তলায় সাতক্ষীরা জেলা তাঁতীদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা তাতীঁদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল আলম বাবু। এসময় জেল তাঁতীদলের সহসভাপতি আব্দুস সেলিম, জেলা যুগ্মসম্পাদক আব্দুস আত্তার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা রুমা হাসান, জেলা তাঁতীদলের নেতা নাজমূল আলম তারা, শহর তাঁতীদলের সভাপতি আব্দুর রহমান, সদর থানা তাঁতীদলের সভাপতি আব্দুল্লা মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়েরসহ সোহরাব, লাল্টু, মফিজ, সাহবুদ্দিনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রফিকুল আলম বাবু বলেন, খালেদা জিয়া আগামী দিনে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে আন্দলন সংগ্রামের ডাক দিবে, তাতে জেলা তাঁতীদল অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

লাইলাতুল বরাত নিষ্কৃতির রাত মুক্তির রাত

অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম
রাত, দিন, কাল সবই আল্লাহর সৃষ্টি। কিন্তু কতকগুলো দিবস, কতকগুলো রজনীকে খাস মরতবায় ভূষিত করা হয়েছে খাস ফজিলত ও বরকতের কারণে। বিশ্ব মুসলিম মননে যে রাতগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, শব-ই-মেরাজ, শব-ই-কদর, দুই ঈদের রাত, জুমার রাত, হজ পালনকালে ১০ জিলহজ মুজদালিফায় অবস্থান করার রাত এবং শব-ই-বরাত। আরবীতে শব-ই-বরাতকে বলা হয় লাইলাতুল বরাত অর্থাৎ নিষ্কৃতির রাত, মুক্তির রাত। এ রাতে সুযোগ আসে গুনাহ্্ থেকে মুক্তি পাবার, বিপদ-আপদ থেকে নিষ্কৃতি পাবার। ফারসীতে একে শব-ই-বরাত বলা হয়েছে এ কারণে যে, এ রাতে সৌভাগ্য অর্জনের সুযোগ আসে। আর এসব সুযোগ আসে সারা রাত জেগে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর মহান দরবারে গোনাহ মাফ করে দেয়ার জন্য কান্নাকাটি করা, বিপদ-আপদ, বালা মসিবত থেকে রেহাই পাবার জন্য দোয়া খায়ের করা, আল্লাহর খাস বান্দা এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়াসাল্লামের খাস উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনের তাওফিক ইনায়েত করার জন্য আল্লাহর মহান দরবারে মোনাজাত করা, সেই সঙ্গে এটাও কামনা করা হে আল্লাহ, দেশের শান্তি দাও, সমৃদ্ধি দাও, ঐক্য ও সংহতি দাও, বিশ্ব মুসলিমের ওপর থেকে সকল বিপদ ও অপশক্তির কালো থাবা দূর করে দাও, বিশ্ব শান্তি দাও।
কুরআন মজিদের সূরা দুখানের ৩ থেকে ৫ নম্বর আয়াতের কারিমায় একটি মুবারক রাতের উল্লেখ করে সেই রাতের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : আমি তা নাজিল করেছি এক মুবারক রাতে, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমার আদেশক্রমে নির্ধারিত হয়।
কয়েকখানি বহুল প্রচলিত হাদিস শরীফে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাতের বৈশিষ্ট্য মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে যে সমস্ত কথা বলা হয়েছে তার সঙ্গে সূরা দুখানের ওই মুবারক রাতের বৈশিষ্ট্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সূরা দুখানে যে গুরুত্বপূর্ণ তথা প্রজ্ঞাময় বিষয়াদি নির্ধারণের রাত হিসেবে লাইলাতুল মুবারাকার উল্লেখ আছে তাতে হাদিস শরীফে বর্ণিত মধ্য শাবানের রাতের বৈশিষ্ট্যই প্রস্ফুটিত হয়েছে। মধ্য শাবানের এ রাতের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বেশ কয়েকখানি হাদিস রয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, মধ্য শাবানের রাতে হযরত জিবরাঈল ‘আলায়হিস সালাম আমাকে বললেন : আপনার মাথা আকাশের দিকে তুলুন, কেননা এ রাত অত্যন্ত প্রাচুর্যমন্ডিত। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম : এতে কোন্ ধরনের প্রাচুর্য (বরকত) রয়েছে? উত্তরে হযরত জিবরাঈল ‘আলায়হিস সাল্লাম বললেন : এই রাতে আল্লাহ্্ ত’আলা রহমতের তিন শ’ দরজা খুলে দেন। অন্য একখানি হাদিসে আছে যে, মধ্য শাবানের রাতে সূচনা হলেই পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমান থেকে আল্লাহ জাল্লা শানুহু ঘোষণা করতে থাকেন, এমনকি কেউ আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাও? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব, এমনকি কেউ আছ যে আমার কাছে বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চাও? আমি তার সমস্ত বিপদ-আপদ দূর করে দেব, এমনকি কেউ আছ যে আমার কাছে রিযিক চাও? আমি তাকে অঢেল রিযিক দান করব। এমনকি কেউ আছ? এমনকি কেউ আছ? এমনকি কেউ আছ? এমনিভাবে সেই আহ্বান ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
এই হাদিস শরীফ থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শব-ই-বরাত হচ্ছে আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কোন কিছু চাওয়ার রাত। এ রাতে কায়মনোবাক্যে আল্লাহ্র কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা পূরণ করে দেন।
এই রাতে খাসভাবে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মদিনার বিখ্যাত কবরগাহ জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে কবর জিয়ারত করতেন। এক মধ্য শাবানের রাতে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম হযরত ‘আয়িশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহার হুজরা শরীফে প্রবেশ করে কোনদিকে নজর না দিয়ে সোজা জায়নামাজে গিয়ে নফল সালাত আদায় করে সিজদায় পড়ে উম্মতের গুনাখাতা মাফ করে দেয়ার জন্য আল্লাহর মহান দরবারে কাঁদতে লাগলেন। হযরত ‘আয়িশা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহা ভাবলেন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বোধহয় তার প্রতি নাখোশ হয়েছেন। তিনি তাই অত্যন্ত ন¤্রস্বরে বললেন : হে আল্লাহর রসূল! আমার আব্বা-আম্মা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমি এখানে উপেক্ষিতা হালতে আপনার জন্য ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছি আর আপনি ওখানে জায়নামাজে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম সিজদা থেকে মাথা তুলে হযরত ‘আয়িশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহাকে সম্বোধন করে বললেন : আজ কোন্ রাত তা কি তুমি জানো?
উত্তরে হযরত ‘আয়িশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহ তা’আলা আনহা বললেন : আল্লাহ ও তাঁর রসূলই জানেন। তখন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : এ হচ্ছে লায়লাতুন নিসফি মিন শাবান-মধ্য শাবানের রাত। এ এমন এক রাত, যে রাতে আল্লাহর কাছে কোন দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। কারও গুনাহ যদি পাহাড় সমানও হয় আল্লাহ তা মাফ করে দেন। হযরত আয়িশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহ তা’আলা আনহা থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে আছে যে, একটি রাতে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন; তোমরা কি জানো আজকের এই রাতে কি আছে? সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা বললেন : হে আল্লাহর রসূল! এ রাতে কী আছে তা আমাদের জানিয়ে দিন। তখন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বললেন : এ বছর যত মানব সন্তান পয়দা হবে এবং যত মানব সন্তানের মওত হবে তা এ রাতে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তোমাদের আমলসমূহ উপরে ওঠানো হবে আর তোমাদের রিযক অবতীর্ণ হবে।
মূলত মধ্য শাবানের এ রাতের মাহাত্ম্য অপরিসীম। এ রাত ভাগ্য নির্ধারণের রাত। আগামী এক বছরের হায়াত, মওত, রিযক, দৌলত, উত্থান-পতন প্রভৃতি তকদির নির্ধারণ করা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করার মধ্য দিয়ে এ রাত অতিবাহিত করা উচিত। দার্শনিক কবি আল্লামা মুহম্মদ ইকবালের একটি উক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলছেনÑ খুদীকো কর এতনা বুলন্দ কি খোদ খোদ খোদা তকদির লিখনে ছে পহেলে পুঁছে বান্দা তেরে রিদা কিয়া হায়Ñ তুমি তোমার নিজেকে এতটুকু সমুন্নত কর যে, তকদির লেখার আগে আল্লাহ নিজেই তোমাকে জিজ্ঞাসা করেন, বান্দা তোমার চাওয়ার কী আছে।
কুরআন মজিদে আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন : আমি কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন করি না, যতক্ষণ না সেই জাতি নিজের অবস্থার পরিবর্তন করে। (সূরা ১৩ রা’দ : আয়াত ১১)। মানুষ যে চেষ্টা-তদ্বিরের মাধ্যমে, আল্লাহকে খুশি-রাজি করার মাধ্যমে, আমল করার মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন সাধন করতে পারে সূরা রাদের ওই আয়াতে কারিমার দ্বারা তা স্পষ্ট হয়ে যায়। শব-ই-বরাতে সেই সুযোগটা বিশেষভাবে আসে।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম প্রচার শুরু হয় ৬৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। সেই তখন থেকেই এ দেশের যে সমস্ত সৌভাগ্যবান ব্যক্তি আল্লাহর মনোনীত দীন ইসলামে দাখিল হন তাঁরা ইসলামের তাবত আচার অনুষ্ঠান, হুকুম-আহকাম প্রভৃতি পালনে তৎপর হয়ে ওঠেন। লায়লাতুন নিসফি মিন শাবান তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত হিসেবে গৃহীত হয় যা ফারসী প্রভাবে শব-ই-বরাত নামে পরিচিত হয়। লায়লাতুন নিসফি মিন শাবানের মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম এই রাতে ইবাদত-বন্দেগী করতে এবং দিবসে সিয়াম পালন করতে বলেছেন।
শব-ই-বরাত বা বরাতের রাত বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষের সাংস্কৃতিক বৃত্তে এক সুদৃঢ় অবস্থানে অবস্থিত। এই রাতকে কেন্দ্র করে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে, পাড়া প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজনের মধ্যে হালুয়া-রুটি ও অন্যান্য মিষ্টান্ন কিংবা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও আদান-প্রদানের মধ্যে এক গভীর সৌভ্রাতৃত্ব বন্ধনের শোভা বিভাসিত হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও ইবাদতের জন্য মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় এবং সারা রাত ধরে নফল নামাজ আদায়সহ অন্যান্য নফল ইবাদতে নিমগ্ন হওয়ার দৃশ্য লক্ষণীয়। কবরস্থানগুলোতেও জিয়ারতকারীদের দারুণ ভিড় জমে। কিন্তু একশ্রেণীর লোকের এ রাতে পটকা ফোটানো, আতশবাজি জ্বালানো কিংবা কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কবরে মোমবাতি জ্বালানো, ফুল দেয়া, আগরবাতি জ্বালানো প্রভৃতি কার্যকলাপ করতে দেখা যায় তার কোনটাই শরিয়তসম্মত কাজ নয়, ফলে এগুলো করলে কঠিন গুনাহ হবে। এই রাতে বেশি বেশি করে তিলাওয়াতে কুরআন, যিকর-আযকার, নফল নামাজ আদায়, মিলাদ মহফিল, তওবা, ইসতিগফার, দান-খয়রাত ইত্যাদি করার মধ্য দিয়ে এ রাতের ফায়দা হাসিল করা যেতে পারে। এ রাতে ইলমে তাসাওউফের তরিকতের নিয়মে তওবার ফয়েযে মশগুল হওয়াও যেতে পারে। এই ফয়েযে রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইললাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসিরীন- হে আমাদের রব, আমরা আমাদের নিজের ওপরই জুলুম করেছি, আপনি যদি ক্ষমা না করেন, রহম না করেন তাহলে আমরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
এই রাতে কমপক্ষে এক শ’ রাক’আত নফল নামাজ আদায় করা ভাল, দোয়া-দরুদ, সওয়াব রিসানি তো করতেই হবে। যারা এ রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে রত না হয়ে সারারাত হৈ-হুল্লোড়, আনন্দ-ফুর্তি করে রাতটি অতিবাহিত করে তাদের জন্য এ রাত সৌভাগ্য রজনীতে পরিণত হয় না। অতএব, আমাদের সবারই উচিত শব-ই-বরাতের যথাযথ ফায়দা হাসিল করার লক্ষ্যে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করা উচিত?
ইমাম গাজ্জালি রহমাতুল্লাহি আলায়হি এই রাতকে ফেরেশতাদের ঈদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যুগশ্রেষ্ঠ সুফী হযরত মাওলানা তোয়াজউদ্দীন আহমদ (রহ) বলেন : এই রাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে লায়লাতুল কদরের সঙ্গে।
লেখক: পীর সাহেব দ্বারিয়াপুর শরীফ, উপদেষ্টা ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা) সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জেলা ছাত্রদলের প্রস্তুতি সভা

আগামী ১৩ মে জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভা সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে সাতক্ষীরা বানানী মার্কেটের ৩য় তলায় জেলা ছাত্র দলের সভাপতি এইচ আর মুকুলের সভাপতিত্বে জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক আহাদুজ্জামান আজ্জেদের পরিচালনায় এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি রহমাতুল¬াহ পলাশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান। প্রস্তুতি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, সাবেক অর্থ সম্পাদক মিলন, সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি আনারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক দিসার উদ্দিন মনি, সাংঙ্গঠনিক  সম্পাদক মন্টু, শহর ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক সুমন রহমান, আশাশুনি থানা ছাত্র দলের সভাপতি আবু জাহিদ সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক জর্জ, দেবহাটা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম, তালা উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি সাইদ, কলারোয়া পৌর ছাত্রদলের সধারন সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মির্জা রনি, সরকারি পলিটেকনিক ছাত্রদলের সভাপতি সুমন সাধারণ সম্পাদক কমল উপস্থিত ছিলেন ছাত্র দলের শাহাদাত, মামুন, নাজমুল প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের ২২শত গ্রাহক সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মূল মালিক গ্রাহকরা। গ্রাহকের টাকায় চলে সমিতি। সেই সমিতির সেবার মান নেই বললেই চলে। পল্লী বিদ্যুত লাইনের এক খুটি মেরামত করতে সময় লেগেছে ২৬ ঘন্টা। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের গাফিলতির কারনে ২৬ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন ছিল কয়েকটি গ্রাম। এলাকার প্রায় ২২শত গ্রাহক সীমাহীন দুভোর্গের শিকার হয়েছেন।
অভিযোগ সমিতির সভাপতি ও পরিচালকরা থাকে নতুন লাইন নির্মাণের কাজে। নতুন লাইন নির্মাণ মানে লাখ লাখ টাকার খেলা। কোন গ্রাহক সমস্যয় পড়ছে কিনা দেখার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু সে গুড়ে বালি। সভাপতি ও পরিচালকরা ব্যস্ত থাকেন ভাল জামা কাপড় পরে সমিতির বোর্ড মিটিং আর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। সভাপতি বিএনপির নেতা হয়েও পদ বাগিয়ে নিজের মত করে চলছেন তিনি। তারা কোন গ্রাহকের পাশে দাড়িয়েছে এমন নজির নেই।
তুজলপুর গ্রামের গ্রাহক গোলাম রহমান, জাহাঙ্গির হোসেন, আমজাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক, বলাডাঙ্গা গ্রামের আবুল খায়ের, আব্দুস সালাম, আখড়াখোলা গ্রামের খোকন, বাবলু অভিযোগ করে জানায়, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে  কালবৈশাখি ঝড় ও বৃষ্টি হয়। ঝড়ে সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা মাঠের ভিতর  একটি বিদ্যুতের খুটি পড়ে যায়। এ বিষয়টি তারা কয়েক বার ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসকে জানান। একটি খুটি মেরামত করতে বিদ্যুৎ অফিসের সময় লাগে ২৬ ঘন্টা। এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, লেদ মেশিন, চালকল, ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশাজিবী মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে প্রায় ২ হাজার গ্রাহক। ২ হাজার পরিবারের প্রায় ৭ হাজার মানুষ পড়েন নানা ভোগান্তিতে। এমনকি কোন কোন এলাকায় শিশুরা অসুস্ত হয়ে পড়ে। গ্রাহকরা আরো জানায়, অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা চলেন তাদের মত করে। গ্রাহকের কথায় কোন কান দেননা। সমিতির মূল মালিক হলেও তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচেছন। অভিযোগ কেন্দ্রে কোন গ্রাহক ফোন করলে সেই ফোন রিসিভ হয়না। সামান্য বাতাস হলেই বিদ্যুত নেই। দেন তাদের ইচ্ছায়।
ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের ডিজিএম জানান, সদরের বলাডাঙ্গা মাঠের ভিতরে একটি খুটি পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুত ছিল না। আমাদের ও ঠিকাদার লোক না দিতে পারায় সমস্যা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুত সমিতির সভাপতি কলারোয়া উপজেলার সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এ বিষয়টি জানেন না। ঠিকাদারের লোকজন মাঠের কাজ করছে। ঠিকাদার লোক দিতে না পারায় কাজ বন্ধ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কাজ করা যেতে পারে।