সারারাত এমপি সাহেবের ঘুম হয়নি!!!


প্রকাশিত : মে ১১, ২০১৭ ||

সংসদ ভবনে ছিল সরকারি দলের এমপিদের নিয়ে সংসদীয় দলের বৈঠক।
ঘটনা-১: বৈঠকে সংসদ নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক এমপি কে সরাসরি দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কিছু প্রশ্ন করেন কিন্তু বেশীর ভাগ সংসসদস্যই সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারেনি!!
ঘটনা-২: আমি এবার কারও দায়িত্ব নিতে পারবো না।
২০১৪ সালের মত নির্বাচন এবার হবে না। নির্বাচন হবে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক। অতএব, কারও মুখের দিকে তাকিয়ে আমি নমিনেশন দিবো না। গোয়েন্দা রিপোর্ট ও জনমত জরিপে যারা আসবে তারাই নমিনেশন পাবেন!!
ঘটনা দুটি শোনার পর অনেক এমপির সারারাত ঘুম হয় নি। অস্থির সময় পার করেছেন। প্রিয়তম স্ত্রী তার স্বামীর এহেন আচরণের হেতু শুনতে চাইলে এমপি সাহেব এক’শো মণ ওজনের একটা হাই ছেড়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে নমিনেশন মনে হয় হবে না?
কেন কেন কেন—?
এমপি সাহেব সকল ঘটনা খুলে বললেন তার স্ত্রীর কাছে।
স্ত্রী অনেক ভেবে চিন্তে বললেন, সমস্যা নাই, তুমি চুপ থাক। এই শোন কাঁনে কাঁনে আমাদের সবার এ্যাকাউন্ট মিলে প্রায় ৭০/৮০ কোটি টাকার বুঝ হয়ে গেছে। সুরতাং চিন্তার কোন কারণ নাই বুঝলে।
আরে বেটি ওটাই তো বড় চিন্তার কারণ। এমপি পদ না থাকলে তো সকলের মিলে মিশে জেলে থাকতে হবে। দুদুক প্রতিদিন এসে বাসায় হানা দিবে তখন।
এ আল্লাহ্ এসব কি বল?
আমাদের ও যেতে হবে?
কেন সংবাদ শোন না বিএনপির কত এমপি মন্ত্রীর বউ মেয়েরা ও জেল খাটছে?
এবার আর এমপি মহোদয় এর বউ কেঁদে একাকার!
থাম।
সালার শয়তান মহিলা।
তোর ভাই কে চাকরি, বোন কে চাকরি, ভাগনে-ভাগনি, বাল ছাল কত আত্মীয়-স্বজন চাকরি দাও, একে টিয়ার দাও, ওকে কাবিখার ভাগা দাও। যতসব নষ্টের মুল তুই।
অথচ যে নেতা কর্মীরা আমাকে এমপি বানাতে দিনরাত নিজের শ্রম, মেধা, পকেটের পয়সা নানা চড়াই উতরায় পেরিয়ে আমাকে সংসদে পাঠাল তাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না——–!
আজ যদি আমি আগের মত ওদের নিয়ে থাকতাম, সুখে দু:খে তাদের পাশে দাঁড়াতাম, আপা যে টাকা দিছে তার সঠিক ভাবে কাজ করাতাম তাহলে আজ আমার জনপ্রিয়তা থাকতো তুঙ্গে—?
অথচ আজ আমি শূন্য, রিক্ত—;
ছাত্রলীগের কত ছেলে পা ধরে কেঁদেও দিছে অথচ তাদের একটা পিয়নের চাকুরীও দেয় নি মাত্র পাঁচ লক্ষ ছয় লক্ষ টাকার জন্য অন্যদের চাকুরী দিয়েছি—;
আজ আপা বললেন সব আমল নামা নাকি তার কাছে আছে—!
আমি তো টাকা ছাড়া আর আত্বীয় ছাড়া কাউকে চাকরি দিতে সাহায্য করিনি—?
এমপি আমি অথচ সিদ্ধান্ত দিতে তুমি আমার ভাই ও এপিএস—-;
কি এক আজব দেশ রে মাইরি—?
আমি তো দাঁড়িয়েছিলাম আপাকে সব খুলে বলবো—?
কিন্তু নিজে কাপুরুষ হয়ে যাব, সকলে হাসাহাসি করবে এজন্য বলিনি—?
চার বছরে যতগুলি বড় বড় টেন্ডার হয়েছে তার একটা কাজ ও কোন নেতা কর্মীকে দিতে পারিনি—!
সব টাকায় কমিশম খেয়ে খেয়ে ছেড়ে দিয়েছি —;
হায়রে অভাগা এমপি আমি—?
আগে গালে মাছি যাইতো এখন গাড়ী বাড়ীর হিসাব নাই!
যাদের বাড়ি ভাত খেতাম তাদের দেখলে চিনি না—?
বাসায় আসলে এক কাপ চা ও জোঠে না—!
আমি আবার এলাকার এমপি—?
আগে যাদের দেখলে বুক হাসি মুখে মিলাতাম এখন কাপড়ে ময়লা হবে বলে বুক তো দূরের কথা হাত ও মিলায় না—!
আগে একজন কৃষক, দিনমুজুর, শ্রমিক, মুচি, মাথর মারা গেলে অসুস্থ হলে ভ্যানে, রিকশায় বা হেটে হেটে হলেও চলে যেতাম এখন তিন কোটি টাকার গাড়ী আছে, নিজের ড্রাইভার আছে অথচ একজন প্রতিবেশী বিপদে পড়লে ও যাই না—!
আমি এলাকার এমপি—!
কিছু দালালের খপ্পোরে পড়ে স্কুল কলেজে টাকার বিনিময়ে সব মেধাহীন লোকবল নিয়োগ দিয়ে কি সর্বনাষই না করেছি—?
যদি নিজ দলের কর্মীদের দিতাম তাহলে ও মন কে বুঝ দিতে পারতাম—;
রাস্তা ঘাটে পাঁচ কোটি টাকার বাজেট হলে দুই কোটির টাকার কোন রকম কাজ আর সব ভাগ জোগ–!
ঈদের সময় সহ বিভিন্ন সময়ে সরকার থেকে আসা গরীব দুস্থদের জন্য আসা সকল সুবিধা আত্বীয় স্বজন দের দিয়েছি—;
এভাবে প্রতিনিয়ত জনগণের বাঁশ দিয়েছি—;
এবার সময় এসেছে তাই,
নিজে বাঁশ খাচ্ছি—;
ওগো চল বিদেশে ঐ একটা বাড়ি কিনেছো না—?
সিঙ্গাপুরে—?
আগেভাগে পালাই—!
সূত্র: ফেসবুক