পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের ২২শত গ্রাহক সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার


প্রকাশিত : মে ১১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মূল মালিক গ্রাহকরা। গ্রাহকের টাকায় চলে সমিতি। সেই সমিতির সেবার মান নেই বললেই চলে। পল্লী বিদ্যুত লাইনের এক খুটি মেরামত করতে সময় লেগেছে ২৬ ঘন্টা। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের গাফিলতির কারনে ২৬ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন ছিল কয়েকটি গ্রাম। এলাকার প্রায় ২২শত গ্রাহক সীমাহীন দুভোর্গের শিকার হয়েছেন।
অভিযোগ সমিতির সভাপতি ও পরিচালকরা থাকে নতুন লাইন নির্মাণের কাজে। নতুন লাইন নির্মাণ মানে লাখ লাখ টাকার খেলা। কোন গ্রাহক সমস্যয় পড়ছে কিনা দেখার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু সে গুড়ে বালি। সভাপতি ও পরিচালকরা ব্যস্ত থাকেন ভাল জামা কাপড় পরে সমিতির বোর্ড মিটিং আর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। সভাপতি বিএনপির নেতা হয়েও পদ বাগিয়ে নিজের মত করে চলছেন তিনি। তারা কোন গ্রাহকের পাশে দাড়িয়েছে এমন নজির নেই।
তুজলপুর গ্রামের গ্রাহক গোলাম রহমান, জাহাঙ্গির হোসেন, আমজাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আবু সিদ্দিক, বলাডাঙ্গা গ্রামের আবুল খায়ের, আব্দুস সালাম, আখড়াখোলা গ্রামের খোকন, বাবলু অভিযোগ করে জানায়, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে  কালবৈশাখি ঝড় ও বৃষ্টি হয়। ঝড়ে সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা মাঠের ভিতর  একটি বিদ্যুতের খুটি পড়ে যায়। এ বিষয়টি তারা কয়েক বার ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসকে জানান। একটি খুটি মেরামত করতে বিদ্যুৎ অফিসের সময় লাগে ২৬ ঘন্টা। এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, লেদ মেশিন, চালকল, ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশাজিবী মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে প্রায় ২ হাজার গ্রাহক। ২ হাজার পরিবারের প্রায় ৭ হাজার মানুষ পড়েন নানা ভোগান্তিতে। এমনকি কোন কোন এলাকায় শিশুরা অসুস্ত হয়ে পড়ে। গ্রাহকরা আরো জানায়, অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা চলেন তাদের মত করে। গ্রাহকের কথায় কোন কান দেননা। সমিতির মূল মালিক হলেও তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচেছন। অভিযোগ কেন্দ্রে কোন গ্রাহক ফোন করলে সেই ফোন রিসিভ হয়না। সামান্য বাতাস হলেই বিদ্যুত নেই। দেন তাদের ইচ্ছায়।
ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের ডিজিএম জানান, সদরের বলাডাঙ্গা মাঠের ভিতরে একটি খুটি পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুত ছিল না। আমাদের ও ঠিকাদার লোক না দিতে পারায় সমস্যা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুত সমিতির সভাপতি কলারোয়া উপজেলার সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এ বিষয়টি জানেন না। ঠিকাদারের লোকজন মাঠের কাজ করছে। ঠিকাদার লোক দিতে না পারায় কাজ বন্ধ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কাজ করা যেতে পারে।