বীরমুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলা: ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট এর স্বাক্ষ্য সম্পন্ন, পরবর্তী তারিখ ২৫ মে


প্রকাশিত : মে ১১, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার পুনরায় স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে মামলার অন্যতম প্রধান আসামী কাজী সাইফুল ইসলামের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট অবসরপ্রাপ্ত সচিব সুশেন চন্দ্র রায়ের স্বাক্ষ্য সম্পন্ন হয়। এছাড়া মামলার অপর স্বাক্ষী নিহতের কন্যা লায়লা পারভীন সেঁজুতির দ্বিতীয় দিনের মত জেরা চলাকালে তিনি অসুস্থ্যতা অনুভব করায় তার জেরা অসমাপ্ত রাখা হয়। এছাড়া গত ৭ মে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. নওশের আলী এবং ২৮ এপ্রিল লায়লা পারভীন সেঁজুতির স্বাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩জন স্বাক্ষীসহ এ পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ১৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত আগামী ২৫ মে মামলার পরবর্তী স্বাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে।
১৯৯৬ সালের ১৯ জুন সাতক্ষীরা শহরের শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সামনে সে সময় অবস্থিত দৈনিক পত্রদূত অফিসে কর্মরত অবস্থায় ঘাতকের গুলিতে প্রাণ হারান দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন। এ ব্যাপারে ঐ দিন নিহতের মেঝ ভাই স ম নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে আসামীদের নাম অজ্ঞাত রেখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৫ দিনপর সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ শহরের সুলতানপুরের কাজী আব্দুল ওহাবের ছেলে কাজী সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামী সাইফুল সাতক্ষীরা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে এবং হত্যাকান্ডে জড়িত অপর আসামী ও হত্যাকান্ডের কারন সমূহ প্রকাশ করে। দীর্ঘ ১১ মাস তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের মে মাসে সিআইডির তৎকালীন এএসপি খন্দকার মো. ইকবাল হোসেন ১০ জনকে আসামীভুক্ত করে এই মামলার চার্জশীট দাখিল করে।
মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামীরা হলো সাতক্ষীরার কথিত গড়ফাদার আলিপুরের আব্দুস সবুর ও সুলতানপুরের খলিলুল্লাহ ঝড়–। ঝড়–র দুই ভাই মোমিন উল্লাহ মোহন ও সাইফুল্লাহ কিসলু (বর্তমানে মৃত)। কামালনগরের আবুল কালাম ও তার ভগ্নিপতি আব্দুর রউফ। এছাড়া সুলতানপুরের এসকেন্দার মির্জা, কিসলুর ম্যানেজার আতিয়ার রহমান, প্রাণসায়রের সফিউর রহমান ও যুবলীগ কর্মী কাজী সাইফুল ইসলাম।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটি সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে বিচার শুরু প্রাক্কলে আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হলে তারা হাইকোটে কোয়াশমেন্টের আবেদন করে এবং একে কেন্দ্র করে মামলা দীর্ঘদিন হাইকোট ডিভিশন ও আ্যাপিলেট ডিভিশনের আদেশে স্থগীত ছিল। পরবর্তীতে মামলাটি আসামীদের কোয়াশমেন্ট সংক্রান্ত আবেদন নামঞ্জুর হয়। দ্বিতীয় দফায় মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে আসামীরা পুনরায় মামলাটি সাতক্ষীরা জেলার পরিবর্তে যশোর কুষ্টিয়া বা দেশের অন্য কোন জেলায় বিচারের জন্য আদালত পরিবর্তনের আবেদন করে। হাইকোট ঐ আবেদন খারিজ করলে তার বিরুদ্ধে আসামীরা অ্যাপিলেট ডিভিশনে যায়। অ্যাপিলেট ডিভিশনও আসামীদের আবেদন নামঞ্জুর করে। এভাবে প্রায় ১৫ বছর উচ্চ আদালতে মামলার বিচার আটকে থাকার পর ২০১১ সালে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার শুরু পর আসামীদের অব্যাহত হুমকি ধামকির পরও প্রথম ২ বছরে ১৬ জনের স্বাক্ষ্য সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে নানাবিধ কারনে দীর্ঘদিন স্বাক্ষী হাজির হয়নি। সম্প্রতি মামলাটির আবারো স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন পিপি এড. ওসমান গনি। তাকে সহায়তা করছেন প্রবীন আইনজীবী এসএম হায়দার, এড. আজাহারুল ইসলাম, এড. ফাহিমুল হক কিসলু প্রমুখ। অপরদিকে আসামী পক্ষে যশোরে এড. হাসান ইমাম, এড. আব্দুল মুজিদ, এড. জিএম লুৎফর রহমান, এড. বাসারত উল্লাহ আওরঙ্গি, জহুরুল হক প্রমুখ।