স্বপ্না ক্লিনিকে দেহ ব্যবসার অভিযোগ: চাকরির প্রলোভনে ডেকে নিয়ে নারীদের অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করে বিধান


প্রকাশিত : মে ১৬, ২০১৭ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভালো কাজে মোটা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ক্লিনিকে রেখে দফায় দফায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে ক্লিনিক মালিক বিধান মন্ডল। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে স্বপ্না ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার শিকার ওই নারীর বাড়ি জেলার আশাশুনি উপজেলার তুলসীডাংগা গ্রামে। ধর্ষণের শিকার হয়ে ওই নারী একাধিক স্থানে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

 
ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানায়, মাস খানিক আগে ভালো কাজে মোটা টাকার বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্বপ্না ক্লিনিকে চাকরি দেয় বিধান। চাকরির কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ পায় বিধানের চরিত্র। বিধান ওই নারীকে দিনে রাতে চাকরি ও মান সম্মানের ভয় দেখিয়ে ভোগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শহরতলীর বিনেরপোতা এলাকার এক মাদকাসক্ত ব্যক্তির সাথে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে ওই নারীকে। ঘরের মধ্যে আটকে রেখে তাকে অনৈতিক কাজ করতে বলে বিধান। এতে ওই নারী আপত্তি জানায়। এক পর্যায়ে তাকে জোর পূর্বক বিধান ও তার সঙ্গী মিলে ধর্ষণ করে। এসময় বিধানও মাদকাসক্ত ছিলো বলে জানায় ওই নারী। এতে ওই নারী মাদকাসক্তদের যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঘরে দরজা খুলে চিৎকার দিয়ে বাইরে চলে আসে। এরপর ফাস হয় আসল ঘটনা। ধর্ষণের শিকার ওই নারী বিষয়টি এলাকার লোকজন ও ঘরমালিক মফিজুল ইসলাম জানিয়ে বিচার দাবি করে। কিন্তু বিধানের ক্লিনিক সংগঠণের নেতারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই নারীকে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। বিচার না পেয়ে ওই নারী একটি গোয়েন্দা সংস্থার নিকট অভিযোগ করে। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অভিযোগ আমলে নিয়ে বিধানকে আটক করে। কিন্তু ক্লিনিক সংগঠণের সেই নেতারা বিধানের নিকট থেকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে ছাড়িয়ে আনে বিধানকে। এলাকাবাসি জানায়, টাকার বিনিময়ে বিধান হয়ে যায় ধুয়া তুলসি পাতা। কলঙ্কের দাগ মাখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে ওই নারীর গায়ে।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী এবং ক্লিনিকের আশেপাশের লোকজন জানায়, বিধানের স্বপ্না ক্লিনিকে অনেক নারী তার ভোগের শিকার হয়েছে। জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করা হয় এখানে। ইতোপূর্বে কয়েকবার নারী কেলেঙ্কারীর দায়ে এলাকাবাসি ও পুলিশ তাকে আটকও করেছে। কিন্তু প্রতিবারই সে টাকার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। ক্লিনিকের আড়ালে বিধান স্বপ্না ক্লিনিককে মিনি পতিতালয় বানিয়েছে। ক্লিনিক ব্যবসার আড়ালে চলে দেহ ব্যবসা। এমন অভিযোগ এলাকাবাসির।
এব্যাপারে ঘরমালিক মফিজুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি। মেয়ের মুখেও শুনেছি। এলাকাবাসির মুখেও শুনেছি। শোনার পর ক্লিনিক মালিক এ্যাসোসিয়েশনের লোকজন আমাকে ডেকেছিলেন। কিন্তু আমি সেখানে যায়নি। আমিও এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।
এব্যাপারে ক্লিনিক মালিক বিধান মন্ডল জানান, মাস খানেক আগে ওই নারী আমার ক্লিনিকে কর্মচারী হিসেবে চাকরি পায়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান বিষয়টি ক্লিনিক মালিক এ্যাসোসিয়েশন দেখছে। এসময় তিনি সংগঠনের এক নেতার কাছে ফোন করে তার সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ওই নেতা আর পরে কথা বলেননি। এদিকে এলাকাবাসি ও ধর্ষণের শিকার ওই নারী স্বপ্না ক্লিনিকের মালিক বিধানের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।