কলারোয়ায় চলছে ১২ঘন্টার বেশি লোডশেডিং: বাড়ছে জনদুর্ভোগ


প্রকাশিত : মে ১৬, ২০১৭ ||

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলাব্যাপি চলছে বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং। গ্রীস্মের প্রচন্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে গড়ে ১২ ঘন্টার বেশি থাকছে এই লোডশেডিং। সকালে, দুপুরে, সন্ধ্যায়, রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকাটা যেনো নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল সকল কাজ থেমে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুতের ঝাউডাঙ্গা জোনাল অফিসের ডিজিএম রেজাউল করিম খান ১২ ঘন্টার বেশি সময়কাল লোডশেডিং থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে খুলনা ও বরিশাল বিভাগজুড়ে এই লোডশেডিং চলছে। আশুগঞ্জ, ভোলা, সিরাজগঞ্জ ও ভেড়ামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সাময়িক বন্ধ থাকায় চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এরফলে বাড়ছে লোডশেডিং। জানা যায়, কলারোয়ায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় গ্রাহক সংখ্যা ৫১ হাজার। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ৫টি ফিডারে বিভক্ত। এখানে বিদ্যুতের ২ টি সাব-স্টেশন রয়েছে। একটি গোপিনাথপুরে ও অপরটি কলারোয়া কোল্ড স্টোরেজ মোড় সংলগ্ন। এই ৫১ হাজার গ্রাহকের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা সাড়ে ২৩ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ১০-১২ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি। যার দু:খজনক পরিণতি হলো এই লোডশেডিং। তবে ডিজিএম রেজাউল করিম খান জানান, আগামী ২৫ অথবা ২৬ মে তারিখের মধ্যে সাময়িক বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো ফের সচল হতে পারে। তখন লোডশেডিং কমে যাবে বলে তিনি আশা করেন। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি সাইফুল্যাহ আজাদ এই লোডশেডিং-এর বিষয়টি মেনে নিয়েই বলেন, বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো চালু হলেও পুরোমাত্রায় লোডশেডিং কমবে-এমনটি এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ আসে বিনেরপোতা গ্রীড থেকে।

 

 

বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন জেলাব্যাপি বিদ্যুতের চাহিদা দিনে ১০২ মেগাওয়াট ও রাতে ১২৫ থেকে ১৩৭ মেগাওয়াট। বিনেরপোতা গ্রীডের ধারণ ক্ষমতা সবমিলিয়ে ৭৫ মেগাওয়াট। সেকারণে চাহিদার অনেকটাই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। যদি এই গ্রীডের কারিগরি মানের উন্নয়ন ঘটিয়ে ধারণ ক্ষমতা চাদিার অনুরূপ করা যায়, সেক্ষেত্রে লোডশেডিং একেবারেই কমে যাবে বলে আশা করা যায়। কলারোয়ার সীমান্তবর্তী কাদপুর গ্রামের আতাউর রহমান ও কলেজ শিক্ষক তৌহিদুর রহমান জানান, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এক প্রকার বিদ্যুৎবিহীন বিরূপ পরিবেশের মধ্যে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়েছে। তারা পড়ার সময় বিদ্যুৎ তেমন পায়নি বলেই বলা যায়। এছাড়া সকালে, দুপুরে, সন্ধ্যায়, রাতে এমনকি মধ্য রাতেও এ এলাকায় লোডশেডিং চলছে। যদি সময় পাল্টে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লোডশেডিং দেওয়া হয়, তাহলে দুর্ভোগ কিছুটা কমে বলে তারা জানান। তারা আরও বলেন, এই গ্রীস্মে ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এটি হচ্ছে প্রায়ই। বিকেলে বা সন্ধ্যায় প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ হলে ২৪ পেরিয়ে গেলেও তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। একই অবস্থা কলারোয়ার গ্রামীণ জনপদের সকল গ্রামেই। বিকেলে বা সন্ধ্যায় ঝড়-বৃষ্টি হলে কলারোয়া পৌর শহরে এক ঘন্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও গ্রামীণ জনপদে তা চালু হতে ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে যাচ্ছে। আতাউর রহমমান আরও বলেন, বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করলে তারা ফোন ধরেন না। আর যদিও ধরে তবে কাজীরহাট কেন্দ্র বলে কলারোয়া কেন্দ্রের কথা। আবার কলারোয়ায় ফোন দিলে কেউ তা রিসিভ পর্যন্ত করে না।

 

এই হলো সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসেবার নমুনা। এ বিষয়ে আলাপকালে ডিজিএম রেজাউর করিম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে অভিযোগ কেন্দ্রে এত বেশি ফোন আসে, যে তারা কোন্টা রেখে কোন্টা ধরবে বুঝতে পারে না। এটি অবশ্যই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা কী, তা বলাই বাহুল্য। মানুষের জীবনের এমন কোনো দিক নেই, যেখানে বিদ্যুতের যোগ নেই। বিদ্যুৎ ছাড়া এখন অচল সবকিছুই। আর বিদ্যুতের মতো অতি প্রয়োজনীয় সেবাদান ব্যবস্থা জরুরী ভিত্তিতে স্বাভাবিক করে তোলার দাবি উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অর্ধ লক্ষাধিক গ্রাহকের।