চুকনগরে পানি সরবরাহের ড্রেনের উপর স্থায়ী কপাট জলাবন্ধতার সৃষ্টি, ভোগান্তির শিকার সবাই


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৭ ||

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, চুকনগর(খুলনা): চুকনগরে পানি সরবরাহের ড্রেনের উপর স্থায়ী কপাট দেয়ার কারণে পানি বন্দী হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই জলাবন্ধ পানি পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচেছ। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষ। তাছাড়া নির্বাচিত কোন কমিটি না থাকায় এর শহরের কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে।
এ শহরের গুরুত্বের কথা চিন্তা করলে বলা যায় বিভাগীয় শহর খুলনার প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত পদ্মার এপারের ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক নগরীর নাম চুকনগর। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক দিয়েও চুকনগর শহরের গুরুত্ব কম নয়। কারণ ১৯৭১ সালের ২০ মে এখানে ঘটে যায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ এক নারকীয় হত্যাকান্ড। সেদিন প্রায় ১০/১৫হাজার নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে এ শহরের মাটিতে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর ঐতিহ্যের দিক দিয়ে চুকনগর শহর হল খুলনা বিভাগে যতগুলো বানিজ্যিক শহর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম। এখানে রয়েছে ৭টি তফসিল ব্যাংক,শতাধিক এনজিও প্রতিষ্ঠান, ১০/১৫স্কুল কলেজ মাদ্রাসা,রয়েছে কাঁচামালের বড় মোকাম, গরু ছাগলের হাট, ধানের মোকাম,পাটের মোকাম,কাঠের মোকাম,শতাধিক ছোট বড় গামেন্টস, রয়েছে দেশের স্বনামধন্য আব্বাস হোটেলসহ প্রায় শতাধিক হোটেল। ব্যবসায়ীকভাবে এর ঐহিত্য দেশব্যাপী থাকলেও কতিপয় অসাধু ব্যক্তির কারণে এ শহর দিয়ে চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এক সময় এ শহরের পানি সরবরাহের কোন ড্রেন ছিল না। এ শহরের ব্যবসায়ীদের অনেক চেষ্টার পর পানি সরবরাহের জন্য ড্রেন নির্মান করা হয়। কিন্তু ড্রেন নির্মানের পর বছর পার হতে না হতেই তা ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। ড্রেনের উপর কপাট না দেয়া জায়গা গুলোতে মাঝে মধ্যে লোক দেখানোর মানষে পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু তা ১সপ্তাহ পার হতে না হতেই আবারও পানি ও ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে যায়। তাছাড়া কতিপয় স্বার্থন্বেষী ব্যক্তি নিজেদের খেয়াল খুশিমত নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ড্রেনের উপর স্থায়ী কপাট দিয়ে রেখেছে। ফলে বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দের ইচ্ছা থাকার সত্ত্বেও সে কপাট তুলে ড্রেন পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে শহরের পোষ্ট অফিস রোডে পুরো ড্রেন জুড়েই স্থায়ী কপাট দেয়ার কারণে পানি সরবরাহের জন্য কালভাট নির্মাণ করা হলেও তা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য পানি সরবাহের জায়গা দখল করে দোকান পাট গড়ে তুলেছে। অনেকে পেরিফেরির জায়গা দখল করেও ক্ষান্ত হননি শহরের পানি যাওয়ার জায়গা দখল করে ভবন তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে শহরের প্রায় ৯০ভাগ ড্রেন পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এই পানি পড়ে দূগর্ন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দোকানে বসে বেঁচাকেনা করতে পারছে না। পথচারীরা দুগর্ন্ধের কারণে পথ চলাচলে ভোগান্তীর স্বীকার হচেছ। মশা মাছির উপদ্রব দেখা দিয়েছে। মানুষের মাঝে রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়ছে। মোট কথা দূর্বিসহ ভোগান্তীর এক শহরের নাম চুকনগর শহর। তাই এ শহরের সার ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান সহ একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি যতদ্রুত সম্ভব স্থায়ী কপাট তুলে ফেলে ড্রেন উন্মুক্ত করে পানি সরবরাহের সু ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে অবিলম্বে এ শহরটি পচা ও দুগর্ন্ধের শহর হিসাবে বিবেচিত হবে। আবার অনেক ব্যবাসায়ী বলছে নির্বাচিত কোন কমিটি না থাকায় এর শহরের কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে।