মধু মাসের মধু ফল


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৭ ||

মো. আবদুর রহমান
দেহের ক্ষয় পূরণ, পুষ্টিসাধন এবং দেহকে সুস্থ-সবল ও নিরোগ রাখার জন্য ফল একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য। ফলের মধ্যে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান কম-বেশি রয়েছে। কিন্তু ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ এবং সহজে আত্মীকরণযোগ্য শর্করা অধিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকায় এগুলো মানুষের পুষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। ফল রান্না ছাড়া সরাসরি খাওয়া যায় বলে এর পুষ্টি উপাদান অবিকৃত অবস্থায় দেহ কর্তৃক গৃহীত হয়। ফল বিশেষভাবে ক্যারোটিন (ভিটামিন-এ), ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম ও লৌহ সমৃদ্ধ হওয়ায় নিয়মিত ফল গ্রহণে পুষ্টি সমস্যা দেখা দেয় না।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে খাদ্যকে পুষ্টির দিক দিয়ে সুষম করতে হলে দৈনিক প্রত্যেককে গড়ে অন্ততঃ ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে মাথাপিছু দৈনিক ফলের প্রাপ্যতা হচ্ছে মাত্র ৩৮ গ্রাম। উন্নত দেশের লোকজন প্রচুর পরিমাণে ফল খেয়ে থাকেন। আমাদের দেশের লোকজনের তুলনায় তাদের স্বাস্থ্য ভাল হওয়ার এটি অন্যতম কারণ। সু-স্বাস্থ্যের জন্য আমাদেরকে অধিক পরিমাণে ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ফল গাছ কেবল পুষ্টিকর ফল দিয়ে সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখতেই সাহায্য করে না, ফল গাছ, কাঠ, জ্বালানি কাঠ সরবরাহ করে, ভূমি ক্ষয়রোধ করে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ছায়া দান করে। তাই আজকের জনপ্রিয় শ্লোগান হচ্ছে-‘বাড়ির কাছে বাগ-বাগিচা/আম কাঁঠালের গাছ/ফল দেবে কাঠ দেবে/ছায়া বার মাস।’
জ্যৈষ্ঠ মাসে আম, জাম, লিচু, তরমুজ, কাঁঠাল পাকে। তাই এ মাসকে মধু মাস বলা হয়। একদা আমাদের এদেশে আম-কাঁঠালের প্রাচুর্যে ভরপুর ছিল। জ্যৈষ্ঠ মাসের ফল ফলাদি গ্রাম বাংলাকে মধুময় করে তুলতো। চারদিক জুড়ে একটা মউ মউ গন্ধ  ভেসে বেড়াতো। কিন্তু আজ আর সেদিন নেই। সত্যি আজকের মানুষের কাছে অতীতের ফলের কথা অনেকটা রূপকথার মতো মনে হয়। দেশে জনসংখ্যা পূর্বের তুলনায় অনেক  বেড়েছে, কিন্তু ফলের  গাছ সে অনুযায়ী বাড়েনি। উপরন্ত বসতবাড়ি ও আবাদী জমির জন্য বাগ-বাগিচা এবং জ্বালানি ও কাঠের জন্য গাছপালা যে হারে উজাড় করা হচ্ছে সেই হারে নতুন বাগন তেমন সৃজন করা হচ্ছে না। এর পরিণতি স্বরূপ ফল আজ সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। তাই ফল খাওয়া আর সবার ভাগ্যে জুটছে না।
এ অবস্থায় উন্নতির জন্য দেশের প্রতিটি নাগরিককে অবিলম্বে আজ নিজ নিজ বাড়ির আনাচে কানাচে, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দিরে ও মাদ্রাসার অঙ্গণের খালি জায়গায়, বড় ছোট রাস্তার পাশে, রেল লাইনের পাশে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ফলদ বৃক্ষরাজি রোপণ করতে হবে। অপরদিকে জ্বালানি ও কাঠের প্রয়োজনে নির্বিচারে ফলবান গাছ বন্ধ করা দরকার। একটি ফলবান বৃক্ষ কাটার জন্য তিনটি ফলের চারা রোপন করতে হবে।
গাছ লাগানো সদকায়ে জারিয়া সোয়াবের কাজ। কাজেই শুধু ইহকালের জন্য নয় পরকালে ফায়দা হাসিলের জন্যও ফল গাছ লাগানোর প্রতি মনোযোগি হওয়ার প্রয়োজন অনেক বেশি। আবার ফলের চারা শুধু রোপণ করলেই  চলবে না। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কথা হলো চারাগুলো, সন্তানের ¯েœহ-মমতা দিয়ে তার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে দেশে ফল গাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং মধু ফল সবার কাছেই সহজলভ্য হয়ে উঠবে এবং জনসাধারণের পুষ্টি সমস্যার সমাস্যার সমাধান সহজতর হবে। উপরন্তু এসব গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। কৃষকদের মধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রশস্ত ও মজবুত হবে। লেখক: উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা