কেন্দ্রীয় আ.লীগের বর্ধিত সভা আজ জেলা থেকে গেছে দু’গ্রুপের বিশাল বহর


প্রকাশিত : মে ২০, ২০১৭ ||

পত্রদূত ডেস্ক: আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
শনিবারের বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ সদস্য, দলীয় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য, সব সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর ও উপ-দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা, উপপ্রচার ও প্রকাশনা এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন। আট বিভাগের আওতাধীন সাংগঠনিক জেলাগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে আটজন নেতা সভায় বক্তৃতা করবেন।
এ ছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বক্তব্য রাখবেন। গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের সাত মাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় এই বিশেষ বর্ধিত সভা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সভার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। সভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নেতাকর্মীদের চূড়ান্ত নির্দেশনাও দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একইসঙ্গে দলকে আরও গণমুখী করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের চিত্র জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদও দেবেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই বর্ধিত সভা থেকে দলের সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের সদস্যপদ নবায়ন করবেন। সেই সঙ্গে সভায় প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হবে, যা দিয়ে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামবেন তৃণমূল নেতারা।
সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগে এক ধরনের শুদ্ধি অভিযানও শুরু হবে জানিয়ে দলের নেতারা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে আগাছা ও পরগাছাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হবে। বিশেষ করে জামায়াতসহ বিতর্কিত যারা যোগ দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খারাপ কাজে জড়িয়ে থাকা দলের নেতাকর্মীদেরও সাংগঠনিক শাস্তি দেওয়া হবে। মামলা থেকে বাঁচার জন্য যোগদানকারীদের ব্যাপারেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সভায় তৃণমূল নেতাদের হাতে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে অনুমোদিত দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র তুলে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সারাদেশে প্রচারের জন্য সরকারের গত আট বছরের উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে তৈরি পকেট ডায়রি এবং কথিত আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভিডিওচিত্রও দেওয়া হবে।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এই বর্ধিত সভার বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, বর্ধিত সভার পর রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ধানমন্ডির প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে সারাদেশ থেকে আসা দলের সব সাংগঠনিক জেলার দপ্তর ও উপ-দপ্তর সম্পাদক এবং বিকেল ৩টায় দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সব জেলার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকদের নিয়ে আলাদা সভা হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সভাগুলোতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে আগামী নির্বাচনে দলের বিরোধ নিরসনের জন্য এই সভা ডাকা হলেও সাতক্ষীরা জেলা থেকে দলের সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের পক্ষে বিশাল দুটি গ্রুপ ঢাকায় গেছে বলে জানান গেছে।